পবিত্র কাবার গিলাফ বদলানো হবে আজ

Img
ফাইল ছবি

ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি হজ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ ইবাদত। পবিত্র হজ আজ। করোনা মহামারির এই কঠিন সময়ে সীমিত পরিসরে হতে যাচ্ছে মুসলিম বিশ্বের এই সাংবাত্সরিক ফরজ ইবাদত। 

কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক পরিহিত ‘আল্লাহর মেহমানরা’ আজ সমবেত হবেন পবিত্র আরাফাতের ময়দানে। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে: ‘লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক লা শারিকা লাক....।’ (আমি হাজির! ও আল্লাহ! আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সমস্ত প্রশংসা এবং নিয়ামত শুধু তোমারই, বিশ্ব-সমগ্র সাম্রাজ্যও শুধুই তোমার)।

পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভই হজ পালনের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রতি বছর হিজরি সনের শেষ মাস অর্থাৎ জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে হজ পালন করা হয় এবং কাবাঘরের পুরনো গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবার পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ বদলানো হবে আজ বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৯ জিলহজ এশার নামাজের পর। সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এরই মধ্যে পবিত্র কাবার নতুন গিলাফ হস্তান্তর করা হয়েছে। খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল কাবা শরিফের জন্য তৈরি করা নতুন গিলাফ কাবার জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক শায়খ সালেহ বিন জায়নুল আবেদিনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

মক্কার নিকটবর্তী উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমিক সারা বছর কাবার গিলাফ তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকেন।

গিলাফটি খুব টেকসই ও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়। যেন রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয় এবং এতে খাঁটি রেশম ব্যবহার করা হয়। পবিত্র কাবার কালো গিলাফকে কিসওয়া বলা হয়। গিলাফের বাইরের কালো কাপড়ে স্বর্ণমণ্ডিত রেশমি সুতা দিয়ে দক্ষ কারিগর দিয়ে ক্যালিওগ্রাফি করা হয়। গিলাফে পবিত্র কোরআনের আয়াত শোভা পায়, অক্ষরগুলো সোনালি আভায় উদ্ভাসিত। একটি গিলাফ তৈরি করতে ৪৭ টুকরো কাপড় ব্যবহার করা হয়। এতে ১২০ কেজি সোনার সুতা, ৬৭০ কেজি রেশম সুতা ও ১০০ কেজি রুপার সুতা লাগে। গিলাফটির দৈর্ঘ্য ১৪ মিটার এবং প্রস্থ ৪৪ মিটার। কাবার এ গিলাফ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল। 

পুরোনো গিলাফকে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপহার হিসেবে দেয়া হয়।

গিলাফ লেখা থাকে যা:
পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ একটি বস্ত্রখণ্ড যা দ্বারা কাবাকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়। বর্তমানে গিলাফ কালো রেশমী কাপড় নির্মিত, যার ওপর স্বর্ণ দিয়ে লেখা থাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ’, ‘আল্লাহু জাল্লে জালালুহু’, ‘সুবহানাল্লাহু ওয়া বেহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম’ এবং ‘ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নান’।

সারা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ লোক হজে অংশগ্রহণ করতো। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এবার সৌদি আরবসহ দেশটিতে বসবাসকারী বিশ্বের ১৬০ দেশের ১০ হাজার লোক পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক জাবালে রহমতের পাদদেশে আরাফার ময়দানে হজ পালনে জমায়েত হবেন।

এবার হজের খুতবা দেবেন ৯২ বছরের প্রবীণ শায়খ ড. আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-মানিয়া। হজের খুতবা দেয়া ইমাম ও খতিবদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি বয়স্ক ব্যক্তি। হজের দিন মসজিদে নামিরায় মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়খ ইমাদ বিন আলি ইসমাইল। তিনি মসজিদের হারামের নিয়মিত মুয়াজ্জিন।

আজ বৃহস্পতিবার তালবিয়া ও তাকবিরের ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফার ময়দান। প্রবাসীর দিগন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এবারের হজে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রইল শুভ কামনা।

প্রতিক্রিয়া (৪০৬) মন্তব্য (০) শেয়ার (১৭)