নেতৃত্বের দ্বিধাদন্দ্বে ৪শ বছরের ঐতিহ্যবাহী 'মহাবারুণী মেলা' জৌলুসহীন!

Img

কপোতাক্ষ নদ সচল হলেও স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে যে বারুণী মেলা হয় তা বিলীন হতে চলেছে। সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছার অভাবে প্রায় ৪শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় নেই কোন জৌলুস।

তাই'  আজ সকাল ৯ টা ১০ মিনিটে এক প্রকার জৌলুস বিহীন কপিলেশ্বরী স্নান ঘাটে পুর্ণার্থীরা স্নানের জন্য ধর্মীয় ব্রতমতে সব পালনে মশগুল হয়েছেন। ঠাকুরমশাই দের দিকনির্দেশনায় স্নানের জন্য তৈরী হতে হয়। 

জানাগেছে, প্রায় ৪শত বছর পুর্বে কপিলেশ্বর মুনি নামের এক সাধক কপোতাক্ষের তীরের এই কালীঘাটে আস্থানা করে আশ্রম গড়ে তোলেন। সেকান থেকে মুলত হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে জায়গাটি তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। তাদের বিশ্বাস মতে চৌত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রোয়োদশী তীথিতে কপোতাক্ষের জল গঙ্গার ন্যায় পবিত্রতা লাভ করে। আর এই গঙ্গার জলের ন্যায় কালীঘাটে স্নান করে পুর্ণ্য প্রাপ্ত হওয়া যায়। অনেকে রোগগ্রস্থ্য হওয়ায় সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে স্নানের জন্য দুরদুরন্ত থেকে মানুষ তীথিলগ্নে ভীড় জমায়। এবং স্নান সেরে চলে যায়। বহু মানুষের ভীড় ও পদচারনায় মুখরিত হয় কপিলমুনির কালিঘাট সহ পুরা এলাকা। সেজন্য স্নানকে ঘিরে মিলনমেলায় রূপ নেই।

মুলত এ উপলক্ষেই মহা বারুণী মেলার আয়োজন করেন স্থানীয় স্নান পরিচালনা কমিটির প্রধান। ইউপি চেয়ারম্যান কমিটির নের্তৃত্ব দিয়ে থাকেন। এ সময় থেকে ১৫ অথবা ২০ দিন যাবৎ চলতে থাকে মেলা। যাত্রা, সার্কাস, পুতুলনাচ, নাগোরদোলা, মনোহরী স্টল সহ বিভিন্ন দোকানের সমারাহ যেন বিশাল বিনোদন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে। কিন্তু সেই আমেজ এখন আর নাই। স্থানীয়দের মধ্যে দলীয় রেশারিশি সহ জায়গা সংকুলনের কারণে দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী মেলা এখন শুধু নামেই চলছে। এ বিষয় কেহ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে হরিঢালী ইউনিয়ন আ'লীগের আহবায়ক শেখ বেনজির আহমেদ বাচ্চু বলেন মেলাকে ঘিরে একটি মহল নোংরা খেলায় মেতে ওঠে। যা মেলার পবিত্রতাকে নষ্ট করে দেয়। এছাড়াও তারা মুলত অবৈধ পন্থায় লক্ষ লক্ষ টাকা বানিজ্য করে। যে কারণে মেলাটি আয়োজক কমিটির নের্তৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। যার জন্যই মুলত আয়োজকরা দায়িত্ব নিতে চায়না। তবে আমি চাই মেলাটি পুর্বের ন্যায় জাকজমকপুর্ণ হোউক।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার