রাজনীতি এক রহস্যময় অভিযাত্রা। রাজনীতির দাড়িপাল্লায় কে কখন বড় হয়, হারিয়ে যায়, ফিরে আসে বলা কঠিন। রাজনীতিতে উত্থান পতন, ভাঙা - গড়া আছেই। এতে ধৈর্য হারালে চলবে না। যারা ধৈর্য হারায় তারা হেরে যায়। যারা টিকে থাকে তাদের আদর্শের পরিবর্তন হয় না। সে আদর্শ হলো মাটি ও মানুষের কাছে থাকা। গত উপজেলা উপ নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর জনাব আলমগীর হোসেন সে আদর্শের স্বাক্ষর রেখেছেন বলে অনেকেই মনে করেন। যার ফলশ্রুতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জনাব সালমান এফ রহমানের বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। পরিচয় হয়েছে তৃনমূলের ত্যাগী আওয়ামীলীগ পাগল দল বান্ধবদের সাথে। আশা ও প্রত্যাশা আগামী উপজেলা নির্বাচনেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। যেমন ১৭৮ টি কেন্দ্রেই ছিল তৃনমূল নেতাকমীদের আধিপত্য। যেটা তৈরী হয়েছিল উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর হোসেন ও জনাব সালমান এফ রহমান এর সুচিন্তিত যৌথ প্রচেষ্টা যার সঙ্গে যুক্ত ছিল তৃনমূলের ত্যাগীদের পরিচ্ছন্ন ভাবনা। তৃনমূলের চাহিদা নেতার একটু সুনজর ও মূল্যায়ন। যে মূল্যায়নের মাধ্যমে দলে আরো গতি পাবে।এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান, সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। যা দ্বরা নাগরিক সরকারের রাজনীতিকেই বোঝানো হয়। রাজনীতি কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার ভিত্তিতে গঠিত সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে গঠিত। রাজনীতিবিজ্ঞানেও সে বিষয়ে আলোচনা করা হয় । এটা হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক আচরণ শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহণ ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে।তাইতো রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় প্লেটোর রিপাবলিকএরিস্টটলের রাজনীতি এবং কনফুসিয়াসের কিছু লেখনীতে।

রাজনীতির উদ্ভব মানবসভ্যতার বিকাশ এর সাথে সাথে রাজার রাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার মধ্যে দিয়ে ঘটেছে ও পরিপূর্ণতা লাভ করেছে,রাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা এবং রাজনৈতিক কলা কৌশল ও পরবর্তীকালের আধুনিক রাজনীতির শ্রেণী বিভাজনও রাজনৈতিক  চিন্তাধারার উত্থান ঘটিয়েছে । মেকিয়াভেলী রচিত "The Prince" গ্রন্থটি রাজতন্ত্রের চরিত্র ও স্থায়ীত্ব নিয়ে বলিষ্ঠ বিশ্লেষণ করেছে । রাজনীতি হলো এককথায় এক বিশেষ রাজত্ব কেন্দ্রিক নীতি বা রাজার নীতি এটি একটা বিশেষ চেতনা বা আদর্শ ।সেই আদর্শ হল সকলের মতামত ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহন । একক ভাবে কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া নয় । নতুনরা দলে আসবে, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি কবরে, নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে, নতুন সম্ভাবনাময়, গতিময় তরুন প্রজন্মকে দলে অনুপ্রবেশ করাবে এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তারুণ্যের শক্তি আর প্রবীণদের অভিজ্ঞতা মিলে দল এগিয়ে যাবে,সৃষ্টি করবে প্রগতিশীল সৎ ও সততার মাইলফলক। কারণ তারুণ্য হলো অফুরন্ত শক্তি। দল থেকে কাউকে বাদ দেয়া নয়, কাউকে পদশূন্য নিঃক্রিয় করে রাখা নয়। শুধু দায়িত্বের পরিবর্তন। রাজনীতি মানে দেশকে ভালবাসা, দেশের মানুষকে ভালবাসা, সমাজকে ভালবাসা,সমাজের উন্নয়নে সর্বদা নিজকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করা, রাজনীতি মানে দেশের উন্নয়ন’। নিজের ভাগ্য উন্নয়নে যাকে তাকে দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করা নয়। প্রয়োজন সব ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা। সম্ভাবনাময় তরুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করানোর লক্ষ্যে তাদের সাথে মতবিনিময় করা। জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য নবগঠিত নতুন আর তরুন মন্ত্রীসভার আদলে তরুন ও নতুনদের নেতৃত্বে সুযোগ সৃষ্টি দেওয়াই গতিশীল নেতৃত্বের ধারাহিকতা। যার মাধ্যমে তৈরী হবে মানুষকে সম্মান করা, সন্মানিতদের পথ তৈরী করে দেওয়া, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরেই আসলে মানুষের নেতৃত্বের প্রয়োজন। তবে সেটা হতে হবে সৎ আদশিক নেতৃত্ব। ব্যক্তিগত জীবনে নিজেকে পরিচালনার ক্ষেত্রে সুচিন্তা ও সুপরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাস ও নিয়ম শৃঙ্খলা যেমন দরকার তেমনি এসব গুণাবলী অর্জনের মধ্যদিয়ে ব্যক্তিচিত্তে নেতৃত্বেরই দক্ষতা সঞ্চারিত হয়। যা তাকে পারিবারিক জীবনেও সফলভাবে পরিবার পরিচালনার ক্ষমতা জোগায়। এ যুগে নেতৃত্বের প্রধান সংকট হচ্ছে এর গুণগত মানের মধ্যে। অর্থাৎ, বর্তমান যুগে গুণগত মানসম্পন্ন নেতৃত্বই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেমন যেন নিন্মমানের নেতৃত্বেরই সরব পদচারণা সব ক্ষেত্রে। অযোগ্য আর অশিক্ষিত নেতৃত্বই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সমাজ জীবনতথা রাজনীতিতে। এক্ষেত্রে দোহার থানাও পিছিযে নেই। বর্তমানে দোহারের নেতৃত্ব বা নেতাদের কাছ থেকে এসময় জনগন পরিপূর্ণভাবে যা দাবি করে তা সাধ্য থাকলেও নেতারা পূরন করতে পারছে না। আসলে এক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক দীনতাকেই অনেকটা প্রকট করে মেলে ধরে। আমরা আমাদের নেতাদের সম্পর্কে যত বেশি জানি বা ওয়াকিবহাল থাকি তার চেয়ে অনেক অনেক কম বুঝি বা জানি তার নেতৃত্বের দক্ষতার বিষয়ে। সত্যি বলতে কি, আজকের এই অবাধতথ্য প্রযুক্তির আধুনিক যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যে নেতৃত্ব সেই বিষয়ক মৌলিক ধারণাটাই আমাদের নেই। তাই কাকে বলে যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব কিংবা কি ধরনের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত এ বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট মান আমাদের জানা নেই বা জানতে চেষ্টা করিনা আমরা। নেতাদের থাকে কল্পনা শক্তি। তারা দেখেন স্বপ্ন। সে স্বপ্ন সাধারণ মানুষের জন্য। নেতাদের থাকে সাহস, প্রতি পদক্ষেপে দেয় নির্ভীকতার পরিচয়। মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করাই তাদের জীবনের লক্ষ্য। সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার মাঝে তাঁরা সমগ্র জাতিকে করে অনুপ্রাণিত।আবেগ ও ভালবাসা দিয়ে সাধারন মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন তাদের চিন্তা, কথা ও কাজে পরিলক্ষিত হয় এক গভীর সমন্বয়। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে প্রকাশ পায় মূল্যবোধের ইন্টিগ্রিটি। আর এসব মাপকাঠিতে ব্যবসায়িক নেতা থেকে জনগনের নেতায় পরিনত হওয়া জনাব সালমান এফ রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর হোসেনের অবস্থান এক ও অভিন্ন। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত।যাদের কল্যানে বিকশিত হবে জবাবদিহিমৃলক তরুন ও নতুন গতিশীল নেতৃত্ব । আর এসব প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার মাধ্যমেই  জন্ম নিবে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের এক নতুন রাজনৈতিক ধারা।যার মাঝে অন্তর্নিহিত আছে সাধারণ মানুষের আশা আকাঙক্ষা, যা হতে পারে দোহার বাসির আত্ননিয়ন্ত্রণের পথে এক বলিষ্ট পদক্ষেপ। একজন নেতা শ্রেষ্ঠতার বিচারে নেতার সমস্ত গুণাবলীর সমন্বয়ে জনগনের হয়ে উঠে আসবেন মঞ্চে। আর এই মঞ্চই তাকে পরিচিত করবে জনগনের নেতায়। তাইতো তিনি বলতে পারেন আমার সঙ্গে দেখা করতে কোন মাধ্যম লাগবে না।তবে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে হঠাৎ একজন আসবে,এটা রাজনীতির জন্য যেমন শুভকর নয় তেমনি নেতার জন্যও স্বস্তিকর নয়। গত উপজেলা নির্বাচনে নেতাদের কেন্দ্রের ফলাফল দেখলেই বিষয়টি পরিস্কার। সৃষ্টি যদি স্রষ্টাকে স্বীকার করে তাহলেই শ্রষ্টার সৃষ্টির সার্থকতা। তবে অনেকেই আমরা আমাদের বিবেক বুদ্ধিও কাজে লাগাই না, অন্ধভাবে অন্যের মতামতকে অনুসরন করি। যা নেতা ও নেতৃত্বের জন্য শুভ নয়।

সাম্প্রতিককালে তোষামোদ যেন রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে । নেতাদেরও তোষামোদ খুব পছন্দের । বর্তমানে রাজনীতিতে তোষামোদ ছাড়া কারো যেন কোন দায়িত্ববোধ নেই। কিন্তু দায়িত্ববোধ ছাড়া কি রাজনীতি কখনো সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে? আসলে তোষামোদ সুগন্ধির মতো, ঘ্রাণ নেওয়া যায় কিন্তু এটা দিয়ে কুলি করা যায় না।তবুও রাজনীতিবিদরা তোষামোদকেই জীবনের অংশ মনে করে।রাজনীতি আর রাজনীতিবিদরা এখন অনেকটা উল্টো পথে চলছে। রাজনীতিতে মেধার অবমূল্যায়ন  করা হচ্ছে। সব কিছু চলছে এখন তোষামোদের মাধ্যমে।তোষামোদ করে অযোগ্যরা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতথা সর্বমহলে, সকল সেক্টরে সকল ক্ষেত্রে প্রশংসার চেয়ে তোষামোদের চর্চা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তোষামোদকে বিভিন্ন নামেও অভিহিত করা হয়, যেমন- তেলবাজী, তৈলমর্দন, স্তাবকতা, চাটুকারিতা, মোসাহেবি, চামচাগিরি ইত্যাদি।এর মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায় যে, তোষামোদ অপবিত্র এবং কলুষিত একটি বিষয়।কারনে অকারনে কারও কোন যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কোন অনৈতিক সুবিধা লাভ করার জন্য যদি কোন মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করা হয় সেক্ষেত্রে উক্ত প্রশংসা তোষামোদ বা চাটুকারিতায় রূপান্তরিত।এক্ষেত্রে তোষামোদ যিনি প্রদান করবেন এবং যিনি গ্রহন করবেন, তারা উভয়েই কলুষিত।তোষামোদ মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।ডেল কার্ণেগী তাঁর ` How to win Friends and Influence’ নামক বিখ্যাত বইতে উল্লেখ করেছেন, “ The difference between appreciation and flattery? That is simple. One is sincere. One comes from the heart out; the other from the teeth out. One is unselfish; the other selfish. One is universally admired; the other universally condemned.” রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তৃনমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত রীতিমত তোষামোদ কিংবা তেলবাজীর প্রতিযোগিতা চলছে। আমরা যখন দেখি কোন রাজনৈতিক নেতাকে কোন পদে নিয়োগ লাভ কিংবা রাজনৈতিকভাবে পুরস্কৃত করার কারনে তার অনুসারী এবং সমাজের অন্যান্য অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সম্বর্ধনার মাধ্যমে আকাশে তোলার চেষ্টা করছে তখনই আমরা বুঝতে পারি যে, এটি প্রকৃত ভালবাসা নয়, এটি কিছু পাওয়ার লোভে কৃত্রিম এবং ভেজাল ভালবাসা ব্যতিত আর কিছু নয়। মনোবিজ্ঞানে বলা হয়েছে, ‘ সকল আচরনেরই একটি কারন / উদ্দেশ্য থাকে’।‘‘ কিছু মানুষ আছে যারা কষ্ট করে তাদের কর্মক্ষমতা বা সততা দিয়ে ভালবাসা অর্জন করতে চায়না। তারা বেছে নেয় ভালবাসা অর্জনের অন্য উপায়। তৈল মর্দনের মতো কুৎসিত পথ’’।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তোষামোদ নিয়ে ‘সাহেব ও মোসাহেব’ নামে একটি কবিতা লিখেছেন যাতে তোষামোদকারী ও তোষামোদ গ্রহীতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট ফুটে উঠেছে। এখানে প্রথম দু‘টি প্যারা তুলে ধরছি—

সাহেব কহেন, ‘‘ চমৎকার! সে চমৎকার!
মোসাহেব বলে, ‘‘ চমৎকার সে হতেই হবে যে!
হুজুরের মতে অমত কার?”
সাহেব কহেন, “ কি চমৎকার, বলতে দাও, আহা হা!”
মোসাহেব বলে, “ হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি, বাহাহা বাহাহা বাহাহা”!

শিব খেরা তাঁর ‘You Can Win’ নামক বিখ্যাত বইতে লিখেছেন, “What is difference between appreciation and flattery? The difference is sincerity. One comes from the mouth. One is sincere and the other has an ulterior motive. Some people find it easier to flatter than to give sincere praise. Don’t flatter or get taken in by flatterers”. জনৈক লেখক বলেন,“ Art of flattery needs a good knowledge of the working of the mind of the other person. If one cannot think what the other has in his mind it is difficult one to praise or to flatter him. So, a flatterer must always be a good psychologist. Very few people can resist flattery because when they find their qualities praised they start thinking they are superior to others. This superiority complex satisfies their ego. They feel that no other person can come up to them. As a result of it they do whatever one asks them to do.” জনাথন সুইফট বলেন, “ স্কুলে একটি পুরাতন নীতি কথা চালু আছে। বোকাদের খাদ্য হচ্ছে স্তাবকতা; কিন্তু মাঝে মাঝে যারা বুদ্ধিমান তারাও ঐ খাদ্যের অংশ বিশেষ খেয়ে থাকেন”। ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা মর্নিং নিউজ-এর ‘থট ফর টুডে’ কলামে লেখা পড়েছিলাম, ‘ফ্ল্যাটারি করাপ্টস বোথ দ্য রিসিভার অ্যান্ড দ্য গিভার’, অর্থাৎ তোষামোদ গ্রহীতা ও দাতা উভয়কেই কলুষিত করে। তোষামোদের সমার্থ বাংলা শব্দ হচ্ছে ‘চাটুকারিতা’ ও ‘চামচাগিরি’। ষাটের দশকের প্রথমার্ধে তৎকালীন পাকিস্তান মুসলিম লীগের কতিপয় চামচা যখন সরকারের খয়ের খাঁ-গিরি করতে গিয়ে লাহোরের একটি জনবসতিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে মিছিল সহকারে যাচ্ছিল, তখন গৃহিণীরা চামচ হাতে উঁচিয়ে ধরে রাস্তায় একযোগে বেরিয়ে এসে তাদের ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেন।সেখান থেকেই চামচা শব্দটির উদ্ভব। যা এখন ব্যাপক ব্যবহৃত । সুবিধাবাদী, মতলববাজরা সব সময়ই ক্ষমতাসীনদের ঘিরে থাকে। প্রশংসাকারীর চেয়ে দেশে এখন চাটুকার-তোষামোদকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।চাটুকার এবং তোষামোদকারীর দৈহিক বল থাকলেও নৈতিক সাহস বা বল থাকে না।ক্ষমতাসীনদের ঘিরে আছে কিছু চাটুকার ও তোষামোদকারী। তাদের দাপট ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ পন্থায় অর্থ-বিত্ত করে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। তোষামোদ মূলত মানুষের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে বিনষ্ট করে দেয়। কারণ, মানুষ যখন যোগ্যতার প্রয়োগ ছাড়াই প্রশংসা ও স্তুতি শুনতে পায় তখন মেধা ও শ্রম ব্যয় করতে আগ্রহী হয় না। ফলে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকে। আর আত্মতৃপ্তি ও আত্মতুষ্টি মানুষের শুধু উন্নতি ও অগ্রগতিকেই ব্যহত করে তা নয়, বরং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অবনতিকেও ত্বরান্বিত করে। কেননা গতিশীলতা হল সৃষ্টির স্বাভাবিক ধর্ম। তাকে ঊর্ধ্বমুখী না রাখলে অধঃগামী হবেই। অন্যদিকে তোষামোদ আর খোশামোদের আধিক্যের কারণে জাতীয় জীবনে আত্মসম্মান ও আত্ম পরিচয় বোধের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এরই ফলে পরষ্পর হানাহানি, কাদা ছোঁড়াছুড়ি, দ্বন্দ, অবিশ্বাস বা মিথ্যাচারের সয়লাবে ভেসে যাচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্র । তাই দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থের কথা বিবেচনা করে, ইহকাল ও পরকালে আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সব ধরনের তোষামোদ ও খোশামোদ পরিহার করা একান্ত কর্তব্য। কারো প্রশংসা করতে হলে মাত্রাজ্ঞানের পরিচয় দেয়া এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক।তবে ব্যক্তিভেদে কেউ কেউ তোষামোদকে গ্রহন কিংবা বর্জন করতে পারে। তাই আমাদের রাজনীতিতে তোষামোদের সংস্কৃতি বন্ধ হোক। এর মাধ্যমে ব্যক্তি পুজাসহ সমাজে অনৈতিক কার্যকলাপ হ্রাস পাবে।ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আমাদেরকে তোষামোদের কুফল থেকে সুরক্ষা দান করুন।দোহারের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি জনাব সালমান এফ রহমান ও তার যোগ্য উত্তরসূরী উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর হোসেনের সুদক্ষ নেতৃত্বে বিকশিত হোক সৎ পরিচ্ছন্ন জবাবদিহিমূলক নবীন প্রবীন নেতৃত্ব। তাই আমিও আশাবাদী 

“আমি বুঝি না, পারি না, পারবো না, মানি না, মানবো না;
তোষামোদ; চাটুকারিতা, নীতিভঙ্গ, কোনটাই না;
তুমিও ফিরবে কোন একদিন, দিন বদলের সাক্ষী;
তোষামোদ কোন সমাধান না, তুমিই বলবে—

আ্মি অপেক্ষাই থাকি সুন্দর সকালের, রৌদ্র আলোকিত শিশির সিক্ত ভোরের।