নদীতে বিলীন হওয়ার পথে নালিতাবাড়ী গণকবর!

Img

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণের অভাবে নদীতে বিলীন হওয়ার পথে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নাকুগাঁওয়ের সেই গণকবরটি। ১৯৭১ সালের ২৫ মে সেই দিনের যুদ্ধে নিহত ভারতের নয়জন বিএসএফের স্মরণে সীমানার কাঁটা তার ঘেঁষে স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ অংশে শত শত শহিদদের গণকবরটি আজও সংরক্ষণ করা হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা ও এলাবাসী জানায়, ১৯৭১ সালে নাকুগাঁও স্থল বন্দর হয়ে এদেশের কয়েক শতাধিক পরিবার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার সীমান্তবর্তী ডালুবাজার, বারাঙ্গাপাড়া, চান্দুভুঁই,মাছাংপানি, ছৈপানি,ডিমলারপাড়া এলাকার মন্দির,সড়ক ও গাছতলায় আশ্রয় নেন। ২৫ মে পাকিস্তানি হানাদারদের একটি বড় দল ভোগাই নদী পার হয়ে ভারতের ডালু বিএসএফ ক্যাম্পসহ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘিরে ফেলেন। বিএসএফের প্রতিরোধ সত্ত্বেও হানাদারদের এক ঘন্টার তাণ্ডবে নয় জন বিএসএফ সদস্যসহ শতাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়। সে দিন নিহত অনেকের লাশ ভোগাই নদীর পানির স্রোতে ভেসে যায়। তাঁদের মধ্যে যে ৫০-৬০ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেই লাশ নাকুগাঁও শূন্য রেখার কাছে ভোগাই নদীর সংলগ্ন গণকবর দেওয়া হয়। আর বিএসএফ সদস্যদের ভারতের মাটিতে সৎকার করা হয়। সেই যুদ্ধে নিহত ভারতের নয়জন বিএসএফের স্মরণে সীমানার কাঁটা তার ঘেঁষে স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্ত স্বাধীনতার এত বছর পরও গণ কবরটি আজও সংরক্ষণ করা হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাকুঁগাওয়ের গণকবরটি অরক্ষিত। কেউ দেখিয়ে না দিলে গণ কবরটি বুঝা বা চেনা সম্ভব নয়। সেখানে এলাকাবাসী খঁড় ও লাকড়ি শুকাচ্ছে। গণকবরের সাথে ভোগাই নদীতে গণকবরের একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এখনো যে অংশটুকু আছে নদীর পারে প্যলাসাইটিং দিয়ে সংরক্ষণ করা না হলে সেই অংশটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। অথচ সীমানার কাটাতার ঘেঁষে ভারতের নয়জন বিএসএফের স্মরণে একটি স্মৃতি ফলক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

সেই দিনের সাক্ষি সুকুমার গোয়ালা বলেন,সেই দিন ছিলো সোমবার। পাকিস্তানি বিহারিরা পিছন দিক থেকে এসে এটাক করে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। নিহতদের এখানে গণকবর দেওয়া হয়। অনেক লাশ নদীতে ভেসে গেছে। গণকবরটি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে,তাই নদীতে পাইলিং দিয়ে সংরক্ষণ করার দাবী জানাই।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সেইদিনের গণ হত্যায় শতাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৫০/৬০ জনকে ওই শূন্য রেখার কাছে গণকবর দেওয়া হয়েছিলো। গণ কবরটি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে আমরা চাই গণ কবরটি সংরক্ষণ করে এখানে একটি স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হোক।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোমিনুর রশীদ প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, আমি আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। এখন এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সংরক্ষণের জন্য পিডির সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার