মিডিয়াতে কাজ করি তাই অন্যদের তুলনায় একটু বেশি হলেও সংবাদের সাথে যুক্ত থাকতে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে সংবাদে চোখ রাখা অনেক বছরের অভ্যাস। দৈনিক পত্রিকার মফস্বল বিভাগে কাজ করার পর থেকে কিছু কমন শব্দের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত হলাম। খুন, হত্যা, মারামারি, চাদাবাজি, ছিনতাই, ধর্ষণ; এমন কোনো দিন পেলাম না যেখানে কয়েকটি শব্দের নিউজ পেলাম না। তার মধ্যে অন্যতম একটি ধর্ষণ।

ধর্ষণ শব্দটি বর্তমানে মিডিয়ায় বহুল আলোচিত হয়ে উঠেছে। টিভি সংবাদ, খবরের কাগজ, অনলাইন র্পোটালসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিদিনই চোখে পড়ে ধর্ষণের নানা খবর। গ্রাম কিংবা শহর, বাড়িতে কিংবা রাস্তায়, অফিসে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হাসপাতালে এমনকি চলমান বাসেও।

ধর্ষণ হচ্ছে ’কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যৌন তৃপ্তি লাভ করা।’ ধর্ষণের নেপথ্যে কী কী কারণ রয়েছ এবং কে বা কারা দায়ী তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? 

ধর্ষণের পিছনে যেসকল কারণকে দায়ী করবো তাহলো নৈতিকতার অভাব বা অবক্ষয়, নারীদের সচেতনতার অভাব, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না দেয়া, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধের অভাব, নারীর খোলামেলা ও আবেদনময়ী পোশাক পরিধান, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ, সন্তানে প্রতি পিতা-মাতার উদাসহীনতা ইত্যাদি।

নারীদের ধর্ষণ সম্পর্কে সচেতন করে তুলা এবং হঠাৎ করে ধর্ষণের শিকার হলে নিজেদের বাঁচাতে পারে এমন আত্মরক্ষামূলক কৌশল শিখানো উচিত। অন্য আরেকটি ব্যাপার যা ধর্ষণ প্রতিরোধে অনন্য ভুমিকা রাখতে পারে আর তাহল পিতা-মাতা বা অভিভাবকের সতর্কতা।

ইসলামসহ কোন ধর্মেই ধর্ষণের মতো কাজকে উৎসাহিত করা হয়েনি। সুতরাং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উপর প্রবল গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ধর্মীয় অনুশাষণ মেনে চলার মাধ্যমে নৈতিকতাবোধ সৃষ্টি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধ করার মাধ্যমে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব সৃষ্টিই পারে ধর্ষণ প্রতিরোধে করতে।

অপরাধী শাস্তি না পেলে সে বার বার অপরাধমুলক কাজ করে এবং এই ধরণের অপরাধ বৃদ্ধি পায়। তাই ধর্ষণকারীসহ সকল অপরাধীকে বিচরের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন যেটা দেখে অন্যরা শিক্ষা নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমনটি করার সাহস না পায়।

এছাড়া বর্তমানে মেয়ারা এমনভাবে পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধান করে যার ফলে পুরুষদের উত্তেজিত করে তুলতে সহায়ক। এর ফলে পুরুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই ধর্ষণ করে। তাই বলা যায় যে ধর্ষণের জন্যে মেয়েরাও কম দায়ী নয়।

আচ্ছা কিছু সময়ের জন্য সেটাও মেনে নিলাম যে মেয়েদের পোশাকের কারণেও ধর্ষণের মত নিকৃষ্ট কাজ করছে প্রতিনিয়ত। তাহলে যে সকল মেয়ে পর্দা করা সত্তেও ধর্ষণের শিকার হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে কি সঙ্গা দিবো??

আচ্ছা সেটাও না হয় মেনে নিলাম, যারা শিশু, মাছুম বাচ্চা তাদের ব্যাপারে তাহলে কি উত্তর দিবেন? ৪ বছরেরও কম বয়সের শিশুদের ধর্ষণ কার হচ্ছে শুধু তাই নয় ধর্ষণ করে হত্যাও করা হচ্ছে। এসব শিশু কি বোঝে ধর্ষণের?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। আমার মতে অচিরেই একজন ধর্ষকের শাস্তি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে মৃত্যদণ্ডর মতো কঠিন শাস্তি বাস্তবায়ন করা।

লেখক: সাংবাদিক।