ধর্ম হচ্ছে পরীক্ষিত নির্ভুল একটি বিষয়

image
image

একটি সমাজের নীতি নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা যুগ যুগ ধরে সৃষ্টি হয়। এখানে ধর্ম একটা বিশেষ ভূমিকা রেখে থাকে। পরকালে পুরস্কারের জন্য যেসব কর্মকাণ্ডকে আবশ্যক শর্ত করা হয়েছে, সেগুলো করলে এই দুনিয়ায়ও সেই ব্যক্তি বর্তমান পৃথিবীর যেকোনো দেশের উত্তম নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। বেহেশতের টিকিটধারী মানুষটি যেকোনো সমাজে উত্তম মানুষ হিসেবে হবেন বিবেচিত। আল্লাহর কাছে প্রিয় মানুষটি পৃথিবীর যে কোনো নারীর কাছে উত্তম স্বামী হিসেবে আর যে কোনো মা-বাবার কাছে উত্তম সন্তান হিসেবে গণ্য হবেন। পৃথিবীর যেকোনো জনতার কাছে উত্তম নেতা হিসেবে গণ্য হবেন। ‘আল্লাহর মাইর’ বা প্রকৃতির প্রতিশোধের বাইরে আমরা কেউ নই। ধর্ম হোক বা কোনো নান্দনিক চর্চার মাধ্যমেই হোক এ সমাজের দরকার কিছু ভালো মানুষ, কিছু ভালো প্রশাসন, কিছু ভালো পলিটিশিয়ান তৈরি করা। নান্দনিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেই ভালো মানুষগুলো তৈরি করতে পারে। যেকোনো ফ্যাক্টরির প্রোডাক্ট হোক না কেন, সৎ মানুষটি সব জায়গায় মানবতার সুঘ্রাণ ছড়াতে পারে। তাই ধর্মীয় শিক্ষাকে এ সুযোগের বাইরে রাখলে সমাজের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। কারণ উত্তম সিভিল সার্ভেন্ট ও উত্তম নাগরিক তৈরিতে ধর্মের হাতে এমন জিনিস আছে, যা অন্যের হাতে নেই। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করতে হলে এই ধর্ম বোধটিকে কখনোই তার বাইরে রাখা ঠিক হবে না। চারটি R অর্থাৎ Reading, Writing. Arithmetic and Religion নিয়েই হলো শিক্ষা। তা থেকে একটিকে বাদ রাখলেও সেই শিক্ষা কখনোই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হতে পারে না। সবচেয়ে মারাত্মক প্রবণতাটি হলো, ধর্মের অপব্যবহার রুখতে গিয়ে ধর্মের সব ব্যবহার আমরা রুদ্ধ করে ফেলেছি কিনা সেটাও আমাদের ভাবতে হবে।ধর্ম মানুষকে সৎ, আদর্শবান, আত্মসংযম, ধীর স্থির হতে শিক্ষা দেয়।কিন্তু কতিপয় ধর্মীয় লেবাসধারী ধর্ম ব্যবসায়ী ধর্মের বানীর অপব্যবহার করে ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বির্তকিত করে তুলছে।ধর্ম হচ্ছে হাজার বছর ধরে পরীক্ষিত নির্ভুল একটি বিষয়, যার কাছে আত্মসমর্পণ করা যায় নিশ্চিন্তায়।

পক্ষান্তরে, নিজেদের খুশিমতো ভেবে নেয়া পদ্ধতিতে ভুল থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। আর কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী ব্যক্তি এবং গোষ্ঠি সেই কাজটিই করছে।প্রায় সব ধর্মই হচ্ছে কিছু নীতি-নৈতিকতা, বিধিবিধান ও শিষ্টাচারের কাছে নিজেদের সমর্পণের পথনির্দেশ, যা মানুষকে সুষ্ঠু বিবেকসম্পন্ন, সভ্য, ন্যায়পরায়ণ ও একটি আদর্শভিত্তিক জীবন যাপন করতে সাহায্য করে। সে জীবনে অবশ্যই আছে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার শর্তাবলী। ইহলৌকিক জীবন শেষে আরেকটি জীবন অর্থাৎ একটি পারলৌকিক জীবনেরও সন্ধান দিয়েছে প্রায় প্রতিটি বড় ঐশ্বরিক ধর্ম। সামগ্রিকভাবে মানবগোষ্ঠীর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক- সার্বিক কল্যাণ কিংবা মুক্তির জন্যই যুগে যুগে প্রচারিত হয়েছে বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাস। সে অনুযায়ী জীবনযাপনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজীবনের সাফল্য। তাতে ন্যূনতমভাবে মানুষের বিপথগামী কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো কোনো আশঙ্কা নেই। ইসলাম বিস্তার কিংবা তা রক্ষা করার জন্য ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে তো কোথাও হত্যাযজ্ঞ চালাতে হয়েছে বলে কেউ কোনো দিন শোনেনি।

পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ৩২ আয়াতে বলা হয়েছে,

‘যে ব্যক্তি জীবননাশের কিংবা দেশ ধ্বংসকারিতার অপরাধ ব্যতীত কাউকে হত্যা করে, তবে সে যেন মানবজাতিকেই হত্যা করল এবং কেউ কাউকে বাঁচালে সে যেন সব লোককে রক্ষা করল।’

মনে রাখতে হবে, ইসলাম সব সময়ই আধুনিক, সব সময়ই অগ্রগামী একটি ধর্ম। বলা হয়েছে, ইসলাম একটি মধ্যপন্থার ধর্ম। এখানে কোনো ডান-বাম কিংবা চরমপন্থার স্থান নেই। শুধু তা-ই নয়, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।বিশ্বের বুকে স্বাধীন বাংলাদেশ যত দিন টিকে থাকবে, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা তত দিনই একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে জাতির ইতিহাসে টিকে থাকবে বলে অনেকে মনে করেন। তা মুছে ফেলা সহজ হবে না। কিন্তু একাত্তরের পরের প্রজন্ম- যারা ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আদর্শিক স্বপ্ন নিয়ে এ দলে যোগ দিয়েছে, তারা কেন এর দায়ভার গ্রহণ করতে যাবে? পাকিস্তান সৃষ্টির প্রেক্ষাপট মেনে নিলেও ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা পূর্বাঞ্চলের মানুষের ওপর সে রাষ্ট্রের ঔপনিবেশিক শোষণ, বৈষম্য ও অপশাসন এবং শেষ পর্যন্ত গণহত্যাকে কোন কারণে মেনে নেবে?

ইসলাম সাম্প্রদায়িক কিংবা ধর্মান্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয় না। যারা ইসলামের নামে সাম্প্রদায়িক কিংবা ধর্মান্ধ হয়ে যায়, প্রকৃত অর্থে আর যা-ই হোক ইসলামের সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বাণীর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। স্রষ্টার প্রথম কথা হচ্ছে- ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে… যিনি কলম দিয়ে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ মূল কথা হচ্ছে, জ্ঞানের সন্ধান করো। ইসলাম ধর্ম শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ও ইমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের জগৎ অপার। জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে সেদিকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে। মানুষকে সার্থকভাবে সে জগতের সন্ধান দিতে হবে। নিছক দাড়ি, টুপি কিংবা জোব্বার মধ্যে কোনো সাফল্য কিংবা সার্থকতা নেই। একাত্তর-পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জামায়াতকে পুরনো পথ ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন পথ ধরতে হবে। সে পথ একান্তভাবেই ইসলামের পথ। সার্বিক মুক্তির পথ।যারা মনে করেন ইসলাম সেকেলে, তারা মারাত্মক ভুলের মধ্যে আছেন।আসলে কিছু স্বার্থবাদী গোষ্ঠি ধর্মকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের কারনে ধর্মকে বির্তকিত ভূমিকায় অবতীর্ন করেছে। তাই আসুন, নৈতিক শিক্ষার জন্য আমরা সত্যিকারভাবেই ধর্মাশ্রয়ী হই এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি; সাথে সাথে আমাদের সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার জন্য ইসলাম শিক্ষা সহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য তাদের ধর্ম শিক্ষার ওপর নির্ভর করি, ধর্মীয় মূল্যবোধে তাদের গড়ে তুলি। প্রাণপ্রিয় সন্তানের দিকে চেয়ে হলেও আমাদের অর্জন করতে হবে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার নৈতিক অধিকার

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার