রমজান মাস এলেই দেখা যায় এক শ্রেণীর ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকার দামী ও মুখরোচক ইফতারীর ফটো স্টেটাসে আপলোড করে থাকেন। কেন করেন এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমার মতে নিম্নোক্ত কারণে এসব না করাই উত্তম।

প্রথমত: কে কি খাচ্ছে তাহা দেখে তার কোন ফ্রেন্ডের কোনকিছু শিখা বা লাভবান হওয়ার কিছুই নেই। অর্থাৎ কারো খাদ্য দেখা অন্যের কাছে নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। ক্ষেত্র বিশেষে আমার মত অনেকের কাছে বিরক্তিকরও হতে পারে। তাছাড়া সুক্ষ বিবেচনায় এটা রিয়া বা লোক দেখানো। যাহা বিরোপ মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

দ্বিতীয়ত: এইরুপ প্রদর্শনীর মধ্যে অবশ্যই একটা অহংকার, আভিজাত্য বা গর্ববোধের অন্তর্নিহিত প্রকাশ ঘটে থাকে। যার প্রমাণ হলো সাদামাটা ইফতারীর ছবি কেউ আপলোড করে না। কেন? কারণ এতে লোক দেখানোর মত বাহাদুরীর বা আভিজাত্যের কিছু নেই। হাদিসের আলোকে যার অন্তরে সরিষা পরিমান অহংকার আছে সে জান্নাতে যেতে পারবে না। তাই কোন ভাবেই এমন কিছু করা ঠিক নয় যাহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নূন্যতম অহংকারের প্রকাশ ঘটায়।

তৃতীয়ত: মানবিক দৃস্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে, এইরুপ প্রদর্শণী অন্যের আফসোস ও কস্টের কারণ হতে পারে। যেমন আমাদের সকলেরই কমবেশী অনেক ফ্রেন্ড আছেন যাদের সারা রমজান মাসে হয়তো একদিনও পোলাও, বিরায়ানী, রোস্ট, আঙুর, আপেল ইত্যাদি দিয়ে ইফতার করার সামর্থ্য নাই। তারা এসব দেখে আফসোস করা, মনে কস্ট পাওয়া এমন কি নিজের অসামর্থ্যতার জন্য নিজেকে দূর্ভাগা মনে করে মনের অজান্তেই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে পারে - এদেরকে সামর্থ্য দিলায়, আমার কি দোষ ছিল, আমাকে ভাল ইফতারী করার সামর্থ দিলায় না কেন? ইত্যাদি। যদি কারো ইফাতারী দেখে অন্য কেউ নিজের অবস্তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে, আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে, তবে এর দায়ভার ইফতারী প্রদর্শনকারী এড়াতে পারবেন কিনা তাহা অবশ্যই বিবেচনার দাবী রাখে।

যাইহোক, আমার মতে ইফতারীর ছবি আপলোড করে প্রদর্শণী না করে, গরীব প্রতিবেশীদেরকে শরীক করে খেলেই অধিক সওয়াব হবে। ধর্মীয় কাজ যত গোপনে পালন করা যায় ততই উত্তম সওয়াব পাওয়া যায়। আর রমজান মাস হচ্ছে সওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোত্তম মাস। তাই আমাদের উচিৎ এমন কাজ না করা যাতে আমাদের অহংকার বা গর্ব প্রকাশ পায়, বা অন্যের মনে আফসোস বা কস্টের সৃস্টি করে। আমাদের ইফতার পার্টিও যেন লোক দেখানো ফটোসেশনে পর্যবশিত না হয় এই দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। অন্যতায় মহাপূন্য শুন্যে পরিনত হওয়া স্বাভাবিক। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে খাছ নিয়তে এবং সর্ব প্রকার রিয়া মুক্ত অবস্থায় রমজানের যাবতীয় ধর্মীয় বিধানাবলী পালন করার তওফিক দেন।