দ্বিতীয় দফা বন্যায় স্বপ্নভঙ্গ হলো শেরপুরের কৃষকদের

Img

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় দ্বিতীয় দফার বন্যায় তছনছ হয়ে গেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। এরফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ উপজেলার কৃষকেরা। এ উপজেলার কৃষকেরা গত মৌসুমে ধানের আশানুরুপ মূল্য পাওয়ায় এবার প্রথম বন্যার পানি চলে যাওয়ার সাথে সাথে উচ্চমূল্যে ধানের চাঁরা ক্রয় করে জমিতে রোপণ করেছিল। কিন্তু তাদের এই স্বপ্নে বাঁধ সাধন দ্বিতীয় দফার বন্যা। এ বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। এ ক্ষতিপুরণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগি কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ উপজেলায় এবারের আমন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমি। যার অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৮শ হেক্টর। এর মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর।

এ উপজেলার খানপুর ইউনয়িনের শালফা, শুবলী, ভিটারচড়া, শৈল্ল্যাপাড়া, পান্তাপাড়া, বোয়ালকান্দি, চৌবাড়িয়া, গজারিয়া, বড়ইতলী, নলবাড়িয়ার একাংশ, খামারকান্দি ইউনিয়নের ভাতারিয়া, বোয়ালমারি, নলডিঙ্গিপাড়া, ঝাঁজর, ঘৌরদৌড় কে বন্যাকবলিত এলাকা ধরা হয়। আর এই দ্বিতীয় দফার বন্যায় এই দুই ইউনিয়নের কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার শালফা গ্রামের কৃষক হানিফ উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, জেকের আলীসহ আরো অনেকের সাথে কথা হলো তারা বলেন, গত মৌসুমে ধানের দাম আশানুরুপ পাওয়ায় এবার বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সাড়ে ৫শ টাকা মোন ধানের চাঁরা ক্রয় করে জমিতে রোপন করেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় দফার অনাকাঙ্খিত বন্যায় ধানগুলো পানির নিচে। এ ক্ষতি কিভাবে পুষে নেব জানিনা। আগামীদিনে সময়মত সরিষার আবাদ করতে পারব কিনা সেটাও জানিনা। এ ক্ষতি থেকে উত্তোরণে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাঃ শারমিন আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, আমন মৌসুমে এ উপজেলায় ৫০ ভাগ লাগানো হয়েছিল ৪৯ জাতের ধান। বাকি ৫০ ভাগ লাগানো হয়েছে কাটারিভোগ, রঞ্জিত, ৫১ ও ৫২ সহ অন্যান্য জাতের ধান। এ উপজেলার খানপুর ও খামারকান্দি ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকা বন্যা কবলিত। দ্বিতীয় দফার বন্যায় নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে সরকারি সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার