রাজনীতির গতিপথ বড়ই জটিল। সামনে রাজনীতির কূটচাল কারো জন্যই সুখকর হবে না। যাদের চরিত্রে সারল্যতা রয়েছে। মানুষের মনের ভাষা পাঠ করতে জানেন, তাদের সমন্বয়ে এখনই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া জরুরী।

দোহার থানার রাজনীতিতে এখন সততার বড়ই অভাব রয়েছে। সততার ঘাটতি পূরণ করতে হলে সৎ মানুষদের রাজনীতিতে নিয়ে আসতে হবে। ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে আসলেই; রাজনীতি ভালো হয়ে যাবে। ভালো মানুষেরা রাজনীতি না করে দূরে সরে গেলে খারাপ লোকেরা রাজনীতির মঞ্চ দখল করবে, করছেও। এদের কারনেই রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে।

রাজনীতিতে যখন ভালো মানুষ আসবে তখন রাজনীতি জনগণের কাছে আকর্ষণীয় হবে। রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের টেনে আনা এখন সময়ের দাবী। দোহারের রাজনীতির গৌরবময় উত্তরাধিকারিত্ব কে কতটা বহন করছেন বুকে হাত দিয়ে সবাই বলতে পারবেন?

আওয়ামী লীগের যখন বিপর্যয় আসে, তখন সুবিধাভোগী বসন্তের কুকিলদের খুঁজেও পাওয়া যায় না। আদর্শিক কর্মীরাই দুঃসময়েরই মুখোমুখি হয়ে থাই পাহাড়ের মতো ভারী বোঝা কাঁধে নিয়ে টানে। ইতিহাসের পরতে পরতে সবচেয়ে অগ্নিপরীক্ষা অবহেলিত বঞ্চিত নেতা-কর্মীরাই দিয়েছে। কিন্তু এই আদর্শিক নেতা-কর্মী দলের কাঠামোতে ঠাঁই পাচ্ছে না। নেতৃত্বে উঠে আসতে পারছে না।

সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হলেও দলের নেতৃত্বে আসতে পারছে বা আসতে দেয়া হচ্ছে না। কারন তারা নেতাদের কাছে  গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদের টাকা, হোন্ডা, গুণ্ডা হাতে নেই বলে তাদের কাছে টানা হয় না। দলের মাঠের নেতৃত্বে তাদের ঠাঁই হয় না। ক্ষমতার ছায়ায় থেকে রাতারাতি যারা বিত্তবৈভব গড়েছে, নেতাদের কাছে তাদেরই কদর বেশি। কিন্তু সৎ আদর্শবানদের কি মাঠের নেতৃত্ব থেকে কী দূরে সরানো সম্ভব?  

১৭ বছর ধরে দোহার থানার আওয়ামীলীগের কমিটি বন্ধ সহ পৌরসভার নির্বাচন হয় না ১৮ বছর যার কারনে আদর্শিক তরুণ রাজনৈতিক কর্মী তৈরির প্রক্রিয়া রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৎ,আদর্শিক দলের প্রতি অনুগতদের জীবন ও জীবিকার জন্য, পরিবার ও পরিজনের জন্য সৎ জীবনযাপন করে তাদের টিকে থাকতে হয়। তাদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক দক্ষতা আছে। সমাজে ক্লিন ইমেজ আছে।কিন্তু তাদের কৌশলে রাখা হয়েছে কমিটির বাইরে। 

সৃজনশীল, মেধাবী, আদর্শিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে দোহার থানা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন ও পৌর  নির্বাচন অতি জরুরী নয় কি?