দোহারের কৃতি ক্যাপ্টেন নুরুল হক (অব.) মারা গেছেন

image
image

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম প্রধান ক্যাপ্টেন নুরুল হক (অব.) মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃতকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বৎসর।

নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।তিনি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নুরপুর ভূইয়া বাড়ির কৃতি সন্তান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ১২ জানুয়ারি ঢাকার দোহার উপজেলার নুরপুর গ্রামের ভূইয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নুরুল হক। তিনি ১ মে ১৯৫৩ সালে কোয়েটায় প্রি-ক্যাডেট ট্রেনিং স্কুলে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে অক্টোবর ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান নেভি ক্যাডেট ট্রেনিং স্কুলে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালের সেপ্টেম্বরে বৃটেনের ব্রিটানিয়া রয়েল নেভাল কলেজ, ডর্থ মাউথ এ অবস্থিত ‘ট্রাম্প’ এবং ‘ঈগল’ জাহাজ হতে পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ক্যাপ্টেন নুরুল হক ১ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালে বৃটেন থেকে কমিশন লাভ করেন। বৃটেনের রয়েল নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে বেসিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এবং ১৯৬১ সালে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং স্পেশালাইজেশন কোর্স সম্পন্ন করেন।

নুরুল হক ১৯৭২ হতে ১৯৭৩ পর্যন্ত নৌপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে ক্যাপ্টেন নুরুল হক বিভিন্ন জাহাজ ঘাঁটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার অফিসার, ডেস্ট্রয়ার জাহাজে ইঞ্জিনিয়ার অফিসার, ঘাঁটির ইঞ্জিনিয়ার অফিসার এবং ট্রেনিং স্কুলে স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান হতে প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশের প্রথম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল হতে ৬ নভেম্বর ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার