দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সিআইপি মর্জাদা পেলেন পলাশ

Img

ব্যবসা করছেন ব্রাহ্মনবাড়িয়ার ছেলে তৌফিকউজ্জামান পলাশ। বসবাসও করেন ওমানে। বিদেশে ব্যবসার সুবাদে বাংলাদেশ সরকারকে ট্যাক্সবাবদ প্রতিবছর রেমিটেন্স পাঠান কোটি টাকারও বেশি। এবার সরকার কর্তৃক সেই সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।

গত ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রবাসী কল্যানমন্ত্রী ইমরান আহমেদের কাছ থেকে সফল বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন পলাশ। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন। এবারে সম্মাননাপ্রাপ্ত বিদেশে বসবাসকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সিআইপি তিনি।

এ সম্মননাপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে তৌফিকউজ্জামান পলাশ বলেন, ‘আমার এ প্রাপ্তি প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশী সব শ্রমিকদের উৎসর্গ করলাম, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে রেমিটেন্স পাঠিয়ে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমরা যারা বৈধপথে সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে দেশে অর্থ পাঠিয়ে রেমিটেন্সের চাকা ধাবমান রেখেছি, তাদেরকে যোগ্য সম্মান দেয়ার জন্য। আশা করছি এ সম্মান আমার চলার পথ আরও মসৃন করবে। দেশের অর্থনীতিতে যাতে আমরা আরও অবদান রাখতে পারি, সেই দোয়া চাই সবার কাছে।’

ওমানে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত তৌফিকউজ্জামান পলাশ। তিনি দেশটিতে কয়েক ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে রয়েছে কন্সট্রাকশন, রিয়েল এস্টেট, টুরিজ্যম ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। নিজের প্রতিষ্ঠিত তৌফিক ইউনাইটেড এলএলসি ও তৌফিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এলএলসি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন। সম্প্রতি তিনি ইউরোপের দেশ পর্তুগালেও নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদ

বাংলাদেশের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: ড. খন্দকার মোশাররফ

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

২১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ঢাকার ব্রাক সেন্টারে 'এডুকেশন রির্ফম ইনিশিয়েটিভ' (ইআরআই) আয়োজিত সেমিনারে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলনের "বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা" শীর্ষক থিসিস পেপার উপস্থাপন এবং তারই লেখা বই প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন একথা বলেন।

রাজধানীর ব্রাক সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরআই'র চেয়ারম্যান ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলনে।

প্রবন্ধের ওপর আরও আলোচনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, কবি আব্দুল হাই শিকদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন 'এডুকেশন রির্ফম ইনিশিয়েটিভ' আরআই'র সদস্য সচিব জনাব মোশাররফ হোসেন ঠাকুর। সেমিনারের ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পাবলিক পরিক্ষার নকল বন্ধ করার কথা উঠলেই দেশের শিক্ষিত সমাজ মিলনের কথা বলে, রাজনীতির খারাপ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে মিলন মালয়েশিয়ার ইসলামি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে এবং তার গবেষণার বিষয়টি সবার কাছে পৌঁছে দিতে থিসিস পেপার বই আকারে প্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছি, শিক্ষা আজ সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসায় পরিনত হয়েছে, ফলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজকতা, বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সিলেবাস, শিক্ষা পদ্ধতিও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন, বাজেটে কারিগরি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করতে হবে, এতে করে দেশের রেমিট্যান্স বাড়বে।

প্রফেসর ড. ওয়াকিল আহমদ বলেন, সময় উপযোগী বিষয় নিয়েই ড. মিলন পিএইচডি করেছেন, সফল ও আলোকিত মানুষ তৈরি, দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই, রেঁনেসার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য দূর করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নিজের থিসিস পেপার উপস্থাপন করতে গিয়ে ড. মিলন বলেন, ৩৭ টি মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরারি অবস্থায় যখন বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সভা-সেমিনারে অংশ নিলাম, দেখলাম আমাদের দেশের শ্রমিকরা প্রবাসে মানবেতর জীবন যাপন করছে, মূল সমস্যা হলো কারিগরি শিক্ষার অভাবে তারা দক্ষ শ্রমিক হতে পারছে না, এরপরই এই বিষয়টি আমি চিন্তা করি এবং আমার পিএইচডি গবেষণার বিষয়বস্তু হিসাবে নির্ধারণ করি। আমাদের বিশাল জনশক্তিকে মানবশক্তিতে পরিনত করতে হলে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপরে আজ গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে, প্রয়োজনে আগামীদিনের কারিগরি শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করে আমাদের দেশকে আরো সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভর করে তুলতে হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার