দেশের মানুষ প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে: জিএম কাদের

Img

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এখনো জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। দেশের মানুষ এখনো জাতীয় পার্টির ওপরে আস্থা রাখেন। দেশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন, জাতীয় পার্টিকে কোন দায়িত্ব দেয়া হলে জাতীয় পার্টি তা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা রাখে। 

তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁর কর্মসূচি, উন্নয়ন ও সাফল্য দিয়ে মানুষের অন্তর জয় করেছিলেন। তাই জাতীয় পার্টি দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার দলে পরিণত হয়েছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নেতা। পল্লীবন্ধুর শাসনামলে দলবাজী, টেন্ডারবাজী ও চাঁদাবাজী ছিলোনা। দেশের মানুষ জীবনের নিরাপত্তা পেয়েছিলেন। দেশের মানুষের ব্যবসা-বানিজ্য ও কর্মসংস্থান ছিলো। বেকারত্ব দূর করতে নানামুখি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে জননন্দিত নেতায় পরিণত হয়েছেন পল্লীবন্ধু। আমরা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। পল্লীবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করে সুখি-সম্বৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি আমরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে পল্লীবন্ধুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু  ৯ বছর দেশ পরিচালনা করেছেন। এসময় তিনি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার বীজ বপণ করেছেন। পরবর্তী সরকারগুলো পল্লীবন্ধুর গড়া ভিত্তির ওপরে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিয়েছেন। আর এ কারণেই পল্লীবন্ধু এরশাদকে আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার বলা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থায় অসাধারণ উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। পল্লীবন্ধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছিলেন। এতে গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছিলেন দেশের মানুষ। গণমানুষের ভালোবাসা পেলেও পল্লীবন্ধু আমলাতন্ত্রের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন। আবার স্বাস্থ্য সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে হত দরিদ্র মানুষের একান্ত আস্থার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু ঔষুধনীতি বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্যনীতি ও শিক্ষানীতি করতে গিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন পল্লীবন্ধু। 

পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য- গোলাম কিবরিয়া টিপু, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান মিয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, উপদেষ্টা- নুরুল ইসলাম তালুকদার, ভাইসচেয়ারম্যান-শফিউল্লাহ শফি, যুগ্ম মহাসচিব-ফখরুল আহসান শাহজাদা, বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক- আবু জায়েদ আল মাহমুদ (মাখন) সরকার, এনাম জয়নাল আবেদিন, হুমায়ুন খান, আনোয়ার হোসেন তোতা, আনিসুর রহমান খোকন, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, দপ্তর সম্পাদক- সুলতান মাহমুদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- মিজানুর রহমান মিরু, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক- জাকির হোসেন মিলন, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ- এ্যাড. মোঃ আবু তৈয়ব, যুগ্ম দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম। 

সকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রংপুরে পল্লী নিবাসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমাধিতে ফুল দিয়ে ফাতেহা পাঠ করে দোয়া মুনাজাত করেন। রাজধানীতে ফিরে বিকেলে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের বাসভবনে পল্লীবন্ধুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে অংশ গ্রহণ করেন তারা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার