দুশ্চরিত্রাহীনকাণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেন নুর

Img

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ফেসবুক লাইভে ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ বলে মন্তব্যের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।

গত ৫ অক্টোবর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক ফরিদা পারভীন লিয়া আদালতে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির দেওয়ার জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দালিলিক সাক্ষ্যের পর্যালোচনায় বলা হয়- বাদীকে উদ্দেশ্য করে বিবাদী কর্তৃক প্রকাশিত ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ সংগ্রহে বাংলা একাডেমির পরিচালক বরাবর পত্র পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমি ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ শব্দ সম্পর্কে জানায়- বাংলা অভিধানে দুশ্চরিত্রাহীন বলে শব্দের ভুক্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে এ রকম কোন শব্দ বাংলা ভাষায় নেই। ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ শব্দটির অর্থ যদি করা হয় তাহলে এর অর্থ হয় উন্নত চরিত্রের অধিকারী বা সদাচারী বা সৎ স্বভাব বিশিষ্ট।

প্রতিবেদনের মতামতে বলা হয়, সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ফেসবুক আইডিটি ডিজিটাল ফরেনসিক কর্তৃক পরীক্ষার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করে পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিবাদী নুরুল হক ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর বাদীকে উদ্দেশ করে ‘ছিঃ আমরা ধিক্কার জানাই এতো নাটক যে করছে সে দুঃশ্চরিত্রাহীন, ধর্ষণের নাটক করছে, স্বেচ্ছায় একটি ছেলের সাথে বিছানায় গিয়ে’ বক্তব্যটি প্রচার করেছে এমন কোন বক্তব্য তার ফেসবুক পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- অপটিক্যাল ডিস্কে থাকা কিছু শব্দ আপাত দৃষ্টিতে আপত্তিকর, মানহানিকর মনে হলেও পুরো বক্তব্যটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনাকালে কাউকে সরাসরি কোনো অপমান, অপদস্ত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়নি। এ ছাড়া সিডিটির সঠিকতা নির্ধারণ করা যায়নি। ফেসবুক আইডিটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব কর্তৃক পরীক্ষার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করে পর্যালোচনায় দেখা যায়, নুরুল হক নুর বাদীর উদ্দেশে যে বক্তব্য প্রদান করেছে এমন কোনো বক্তব্য তার ফেসবুক আইডিতে পাওয়া যায়নি। বাদীর আর্জিতে বর্ণিত অভিযোগ, যা নুরুল হক নুরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেন তা ফরেনসিক পরীক্ষায় এবং অপটিক্যাল ডিস্ক প্রামাণ্য কি না তা নির্ধারণ করে না পাওয়ায় মামলার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার