দুবাইয়ের যে বাজারে ৬০ শতাংশই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

Img

দুবাইয়ে এমন একটি বাজার আছে, যেখানকার ৬০ শতাংশ ব্যবসায়ীই বাংলাদেশের। অনেক সময় বাংলাদেশ থেকে অনেকে ঘুরতে বা কেনাকাটা করতে দুবাইয়ে যায়। দেশটিতে পা রাখার পর আপনিও চাইলে সে বাজার দেখে আসতে পারেন।

নাম ‘ড্রাগন মার্ট’। দুবাইয়ে চীনা পণ্যের বৃহত্তম বাজার এটি। হাত বাড়ালেই মেলে নিত্য ব্যবহারের সব পণ্য। বিশ্বের নানা প্রান্তের পর্যটক ও ভ্রমণকারীরা একবার হলেও ঘুরে যান চীনা পণ্যের এই বাজারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাত্তা-দুবাই মহাসড়কের পাশে ইন্টারন্যাশনাল সিটির নিকটবর্তী বিশাল এলাকাজুড়ে এই বাজার।

ভেতরে-বাইরে চীনা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আলপনা করা ড্রাগন মার্টের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে বাংলাদেশিদের নাম। এখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি- মালিক ও শ্রমিক মিলে প্রায় ৬০ শতাংশই প্রবাসী বাংলাদেশি। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশের প্রবাসীরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

বর্তমানে ড্রাগন মার্টকে ভাগ করা হয়েছে দুটি আলাদা অংশে। আঁকাবাঁকা কারুকাজে তৈরি পুরোনো ড্রাগন মার্টে রয়েছে প্রায় তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান। যেখানে গৃহস্থলি, ভবনের উপকরণ, ইলেকট্রনিক্স, হার্ডওয়্যার, যন্ত্রপাতি, আসবাব, টেক্সটাইল, কার্পেট, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম, বিলাসী পণ্য থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহারের সব পণ্যের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন ড্রাগন মার্ট তৈরি করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ শপিংমলের আদলে। এখানে রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে নির্মিত হয়েছে হোটেল, আলাদা ফুডকোর্ট ও সিনেমা হল। শিশু-কিশোরদের জন্যও রাখা হয়েছে বিনোদনের সুব্যবস্থা।

এই বাজারের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রিজু জানান, চাহিদা অনুযায়ী সব পণ্যের জোগান ও সাশ্রয়ী মূল্য থাকায় ক্রেতাদের অন্যতম পছন্দের জায়গা ড্রাগন মার্ট। প্রতিদিন ওমান, সৌদি আরব, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকরা ভিড় করেন এই বাজারে। ক্রেতাসাধারণের সন্তুষ্টি অর্জন ও ব্যবসায়িক কৌশলের দিক থেকে ভিনদেশিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুনাম কুড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা।

তবে চলমান মহামারি করোনার সঙ্গে অন্যদের মতো এখানকার ব্যবসায়ীদেরও লড়াই করতে হচ্ছে সমানভাবে। আগের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে ব্যবসায়। পরিস্থিতি উন্নতির দিকে থাকায় ঘুরে দাঁড়াতে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তরুণ ব্যবসায়ীরা।

তারা বলেন, ১০ হাজারের মতো গাড়ি পার্কিং থাকায় প্রতিনিয়ত ক্রেতার ভিড় থাকে এই মার্কেটে। দুবাইয়ের এই বাজারটি ঘিরে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির জীবন-জীবিকা জড়িত। করোনার ধকল কেটে গেলে এই বাজারে আবারও বাড়বে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা। প্রসার গড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যে।

ড্রাগন মার্টের মালিক ও নাখিল মলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর খোরি বলেন, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এখানকার ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়। কারণ, ড্রাগন মার্ট এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের কেনাকাটা, বাণিজ্য, আহার এবং বিনোদনের অন্যতম প্রিয় স্থান। এখানে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য ভালোমানের পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হয়।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার