দুবাইতে বাংলাদেশী নারী উদ্দ্যোক্তা হাসিনা মাহমুদের সফলতা

মো নূরুল্লাহ খান শাজাহান | নিজস্ব প্রতিবেদক : জুন ২৩, ২০১৮

অামিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশী নারীরা অার পিছিয়ে নেই, ডাক্তার ইন্জিনিয়ার,পেশাজীবি, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা সহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নারীরা অবদান রেখে চলেছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে একজন সাধারণ গৃহীনি থেকে পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প বিরল।

অামিরাতের বানিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ের বুকে বাংলাদেশী নারী হাসিনা মাহমুদ সে চেষ্টায় সফল হয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি প্রমান করেছেন ইচ্ছা শক্তি ও লক্ষ্য থাকলে নারীরাও কঠিন প্রাচির ঢিঙিয়ে সফলতার চূড়াঁয় পৌছতে পারে।

হাসিনা মাহামুদ হচ্ছে একজন সাধারণ নারী, সাধারন গৃহিনী, সাধারন মা, যার প্রতিনিয়ত কাটতো সাংসারিক ঝামেলায়,গৃহস্থালীর কাজ, মেয়েদের পড়াশুনার দেখভাল কাজে। এতো ব্যস্ততার মাঝে একজন নারী যখন সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে উঠে তখন সত্যি সে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠে।

হাসিনা মাহমুদ ১৯৯১ সালে স্বামীর হাত ধরে দুবাই অাসেন। ১৯৯৩ সালে তিনি স্ব উদ্যোগে স্বামীকে অনুরোধ করে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হন। এক পাশে স্বামী সংসার, অন্যপাশে ব্যবসা দুটিই একসাথে চালিয়ে যান হাসিনা। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে তার, সাংসারিক নানা ঝামেলার পরও দমে থাকেনি হাসিনা। ব্যবসায়ীক হওয়ার স্বপ্ন তাকে প্রলুব্ধ করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে।

সে প্রত্যয় থেকে অাজ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হাসিনা মাহামুদ। দুবাইয়ের অভিজাত অাবায়া মার্কেটে তার প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েল টার্চ, রয়েল টার্চ প্লাস, গ্লোডেন রয়েল টার্চ নামক তিন তিনটি প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান গুলো অাজ ব্রান্ডিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে অারব অনারব সকলের কাছে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানে ৪৫ জনের মত বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি স্বামীর সাথে রিয়েলস্টেট ব্যবসায়ও বড় অাকারের বিনিয়োগ করেছেন হাসিনা।

keystones Realestate নামক এই প্রতিষ্ঠানটি দুবাইতে নামকরা রিয়েলস্টেট নামে পরিচিত। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানে কথা হয় হাসিনার সাথে। তার সৈশব থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত জীবন যুদ্ধের অনেক বিষয় তুলে ধরেন হাসিনা। সাধারন পরিবারের মেয়ে হয়ে কখনো ভাবেনি সে একদিন ব্যবসায়ী হয়ে উঠবে। দামী গাড়ীর স্কেলেডারে পা চাপিয়ে নিজে গাড়ী দৌড়াবে দুবাইয়ের মত অাধুনিক শহরে।

ভাবতে পারেনি কখনো ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবে, জীবনের লক্ষ্যকে অসীমে নিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু অাজ হাসিনা মাহমুদের সাধারণ থেকে অসাধারন হয়ে উঠার বিষয়টি গল্প নয় বাস্তবতা। জীবনে ধর্য্য সাধনা, সততা, লক্ষ্য থাকলে সে নারী হোক অার পুরুষ হোক সফল হবেই। এ বিষয়টি হাসিনা পুরো পুরি অনুভব করতে পেরেছিলেন বলেই সে অাজ সফল।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার মাতার বাড়ী সাতঘর পাড়া এলাকায় হাসিনার পৈতৃক বাড়ী। বাবা মৃত সাহাব উদ্দিন, মা মৃত নয়ন খাতুনের ২ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে হাসিনা। ছোট বোন মিরাজু বেগমও বিবাহিত। হাসিনা সাংসারে ৫ মেয়ে। বড় মেয়ে হেনা পড়াশুনা শেষ করে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে এক্সিকিউটিব লেবেলে কাজ করছেন। মেঝ মেয়ে রোক্সার পড়াশুনার পাশা পাশি দুবাই মিডিয়াতে কাজ করছেন, সেঝ মেয়ে পারভিন দুবাই নলেজ ভিলেজে একটি কোম্পানীতে কর্মরত অাছেন। অার অাসিয়া ও অালিয়া পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন দুবাইয়ের নাম করা স্কুলে।

হাসিনা মাহমুদের সংসারে কোন ছেলে সন্তান না থাকলেও মেয়েগুলুকে ছেলে সন্তান থেকে নির্ভরশীল মনে করেন তিনি। তিনি বলেন অামার এই মেয়েগুলু অামার নামকে অনেক বেশী উজ্জল করবে। অামার ব্যবসা বানিজ্য ও অামার স্বপ্নকে অারো বেশী বিস্তৃত করতে অামার মেয়েগুলু অামার জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

হাসিনা বলেন অামি মেয়ে বলে অনেকে অামাকে দূর্বল মনে করেন। দেশে অামার সম্পদ গুলুর প্রতিও কিছু মানুষের লোলপ দৃষ্ঠি রয়েছে। অামি মেয়ে বলে তারা হয়ত সেগুলু জবর দখল করতে চায়। তিনি বলেন সরকারের সু দৃষ্টি থাকলে কেউ অন্যায় অাচরণ অামার প্রতি করতে পারবেনা। তাই অামি একজন নারী হিসেবে প্রবাসে কষ্টার্জিত অায়ে অামার অর্জিত সম্পদগুলো রক্ষনা বেক্ষনে সরকারে সু দৃষ্টি কামনা করছি।

ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা হাসিনা দেশে প্রবাসীদের জন্য সহজ বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সৃষ্ঠি হলে নারীদের উন্নয়নে নিজ এলাকায় বিনিয়োগ করবেন বলে উল্লেখ করেন। পাশা পাশি তিনি মাতারবাড়ী এলাকায় এতিম ছেলে মেয়েদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার পরিকল্পনায় রয়েছেন বলে জানান। এ জন্য তিনি তার নিজ এলাকা মাতার বাড়ীর লোকজনের অান্তরিক সহয়তা কামনা করেন।

হাসিনার মত বাংলাদেশী প্রবাসী নারীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত ও নিজের পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করবেন এটায় সকলের প্রত্যাশা।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুন ২৩, ২০১৮

প্রতিবেদক: মো নূরুল্লাহ খান শাজাহান

পড়েছেন: 733 জন

মন্তব্য: 0 টি