ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরোধিতাকারী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ভয়াবহ আতঙ্কে আছেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা। এতো আহত, নিহতের শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। অ্যাসিড নিক্ষেপ করে অন্ধ করে দেয়া হচ্ছে মুসলিমদের।
শনিবার থেকে জাফরাবাদেই সিএএ-বিরোধীরা সড়কে অবরোধ করেছিলেন। রোববার থেকে পাল্টা সিএএ-র পক্ষে জমায়েত শুরু হয়। বুধবার দুপুর পর্যন্তও জাফরাবাদের মেট্রো স্টেশনের নীচের সড়কটি বেশ শান্ত। একটু দূরে মৌজপুর চকের সড়কটিও জনশূন্য। 

কিন্তু ‘শান্ত’ মানে শান্তি নয়। নিরাপত্তাও নয়। বুধবার দুপুরেই দেখা যায়, মুস্তাফাবাদে একমাত্র মেয়ের হাত ধরে প্রাণভয়ে মহল্লা ছাড়ছেন এক নারী। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই তার মুখে। পিছনে ফেজ টুপি, কুর্তা-পাজামায় স্বামী। মাথায়-পিঠে ব্যাগ, লেপ-কম্বল। বাড়ি-দোকান পুড়েছে। পথে নেমেছেন নিরাপদ কোনো আশ্রয়ের খোঁজে।

বুধবার দুপুরে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার সতীশ গোলচা ঘোষণা করলেন, জাফরাবাদ, মৌজপুর সব এখন ফাঁকা। গোটা সড়কই এখন ফাঁকা করে দেয়া হয়েছে। সিএএ-র পক্ষে বা বিপক্ষের আন্দোলনকারীরা সরে গিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ লাগোয়া জোহরাপুরীতে পুলিশের সঙ্গেও দুষ্কৃতিকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। রাতেও ভজনপুরা থেকে আটকে পড়া মানুষের ফোন এসেছে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে। গভীর রাতে ব্রহ্মপুরী ও মুস্তাফাবাদ থেকে খবর আসে, ফের অশান্তি শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, আহতের সংখ্যা ২০০ ছুঁইছুঁই। অনেকেরই মাথায় গুরুতর চোট। আহতদের অন্তত ৪৬ জনের শরীরে বুলেটের ক্ষত মিলেছে। মুস্তাফাবাদ থেকে বেশ কিছু আহত এসেছেন হাসপাতালে। তাদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চার জন।

খুরশিদ নামে এক জনের দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তেগ বাহাদুর হাসপাতাল থেকে লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে আসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও পাননি তিনি। গিয়েছেন রিকশায়। দুই চোখ-সহ পুরো মুখ ঝলসে গিয়েছে তার।

জাফরাবাদ-মৌজপুরে এখন শ্মশানের শান্তি। ফাঁকা রাস্তাজুড়ে পাথর, ইট, ভাঙা কাচ, ভাঙা লোহার রড। ভিতরের গলি থেকে আজও পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। মৌজপুরের গলির একটি দোকানে আগুন নিভেনি। দোকানের মালিক কোন ধর্মের, তা দেখেই আগুন লাগানো হয়েছে।