দাগনভূঞায় পিতার লাশ দাফনে সম্পত্তি বঞ্চিত মেয়েদের বাধা!

Img

ফেনীর দাগনভূঞায় সম্পত্তি বঞ্চিত মেয়েদের বাধার মুখে তিন ঘন্টা পর পিতা শামছুল হকের (৬০) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বাদ মাগরিব উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ইসলামপুর সমাজের লমি জমাদার বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বার্ধক্যজনিত রোগে নিজ বাড়িতে মারা যান শামছুল হক। বাদ জুমা মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে পারিবারিক কবরস্থানে এলাকায় মাইকিং করে এমন তথ্য প্রচার করা হয়।

তবে জুমার পর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করায় মরহুমের মেয়ে বিবি তাহেরা, কহিনুর বেগম, হাছিনা আক্তার, শেফালি বেগম ও তাজ নাহার বেগম দাফনে বাধা দেন। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে শামছুল হক ছেলে মোশারফ হোসেন বাচ্চু ও মিজানুর রহমানকে সকল সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছিলেন।

দাফনে বাধা দেয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিলে নির্ধারিত সময়ের তিনঘন্টা পর নিহতের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদ

আফগানদের ভুলেই ম্যাচ হাতছাড়া: শামির হ্যাটট্রিকে ভারতের জয়

সাউদাম্পটনে ভারতকে ২২৪ রানের বেঁধে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল আফগানিস্তান। ব্যাট করতে নেমে লড়াইটা তারা ভালোই করেছিল। ম্যাচের রোমাঞ্চ টিকে ছিল শেষ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু শেষ ওভারে মোহাম্মদ শামির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল আফগানদের। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ ওভারে বল করতে আসেন শামি।

আফগানদের তখন প্রয়োজন ১৮ রান। স্ট্রাইকে দুর্দান্ত খেলতে থাকা মোহাম্মদ নবী। প্রথম বলেই চার মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনলেন তিনি। দ্বিতীয় বল ডট। কিন্তু পরের ৩ বলে বিধংসী এক শামিকে দেখল বিশ্ব। পরপর তিন বলে ফিরিয়ে দিলেন নবী, আফতাব আলম ও মুজিব উর রহমানকে।

অল আউট আফগানিস্তান। ভারতের ২২৪ রানের জবাবে ৪৯.৫ ওভারে ২১৩ রানে অল আউট আফগানিস্তান। ম্যাচটি ১১ রানে জিতে নিল ভারত। চলতি আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। এচাড়া বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন শামি। এর আগের কীর্তি চেতন শর্মার। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে নাগপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন শর্মা। কম পুঁজি নিয়েও এদিন দারুণ বোলিং করেছেন ভারতীয় বোলাররা।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা পুষিয়ে দিয়েছেন তারা নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে। এদিন ভারতের হয়ে উইকেটের খাতাও খোলেন শামি। হজরতুল্লাহ জাজাইকে (১০) আউট করে ভাঙেন আফগানদের ওপেনিং জুটি। এরপর অবশ্য রহমত শাহকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব। দুইজন মিলে গড়েন ৪৪ রানের জুটি।

কিন্তু দলীয় ৬৪ রানে আউট হয়ে যান গুলবাদিন (২৭)। তারপর রহমত ও হাশমতুল্লাহ শাহিদি মিলে আরেকটি জুটি গড়েন। কিন্তু রহমত শাহকে বিদায় করে সেই জুটি ভাঙেন জসপ্রিত বুমরাহ। আফগানদের দলীয় রান তখন ১০৬। রহমত শাহর করা ৩৬ রান আফগান ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তারপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে তারা।

কিন্তু আশা তখনো টিকে ছিল। কারণ ক্রিজে ছিলেন মোহাম্মদ নবী। ভারতীয় বোলারদের ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছিলেন তিনি। আসগর আফগানের সাথে ২৪ রানের জুটি, নাজিবুল্লাহ জাদরানের সাথে ৩৬ রানের জুটি, রশিদ খানের সাথে ২৪ রানে ও ইকরাম আলী খিলের সাথে ২৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।

কিন্তু তার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় শামির করা শেষ ওভারটিতে। ওই ওভারের তৃতীয় বলে হার্দিক পান্ডিয়াকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন নবী। আর আগে ৫৫ বলে ৫২ রানের লড়াকু এক ইনিংস খেলেন তিনি।

শামি ৪০ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ, যুজবেন্দ্র চাহাল ও পান্ডিয়া। এই জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ৩ নম্বরে উঠে এসেছে ভারত। বিপরীতে টানা ষষ্ঠ হার নিয়ে টেবিলের তলানিতেই পড়ে আছে আফগানরা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার