দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বাসীর এসি বাস ও ট্রেনের টিকিটের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়েছে

সক্ষমতা ও সৌখিনতা বেড়েছে

Img

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বাসীর সক্ষমতা বেড়েছে বিগত দিনের চেয়ে অনেক বেশী। সাথে বেড়েছে তাদের সৌখিনতা। এতে করে দ্বিগুণ চাহিদা বেড়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস ও এসি ট্রেনের (এসি বার্থ)।

যার কারণে ঈদে নাড়ির টানে গ্রামে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের(খুলনা) আসা মানুষের কর্মস্থলে ফিরে যেতে এসি বাস ও ট্রেনের টিকিট পাচ্ছে না। তারা নগরীর বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে অবশেষে চেয়ার কোচের টিকিট সংগ্রহ করে কর্মস্থলে (ঢাকা) ফিরছে। একইভাবে তারা ট্রেনের এসি বার্থের টিকিট না পেয়ে নরমাল চেয়ার কোচের টিকিট সংগ্রহ করে ঢাকায় যাচ্ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনার সবচেয়ে বেশী বাস চলাচলকারী কোম্পানী সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে যারা কর্মস্থল ঢাকা থেকে খুলনায় এসেছেন তারা ছুটি শেষে আবারো কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছুটা শুরু করেছেন। এ জন্য তারা আগেভাগেই অগ্রিম ফিরতি টিকিট সংগ্রহ করে রাখছেন।

অন লাইনে অগ্রিম টিকিট ছাড়ার সাথে সাথে তা বুকিং হয়ে গেছে। গত ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত তাদের কোন টিকিট অবশিষ্ট নেই। কর্মস্থলে ফিরতি যাত্রীদের নিয়ে তার কোম্পানীর সাতটি এসি বাস প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করছে। এর মধ্যে চারটি গোপালগঞ্জ ও তিনটি ফরিদপুর রুট হয়ে ঢাকা যাচ্ছে। ভাড়া রাখা হচ্ছে ১৩শ’ টাকা। তবে অনেকে এসি বাসের টিকিট না পেয়ে চেয়ার কোচে টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

তিনি বলেন, আগে চেয়ার কোচের চাহিদা ছিল বেশী। কিন্তু এখন এসি বাসের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে দ্বিগুণ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এক শ্রেণীর মানুষের আয় বেড়েছে। যার জন্য তারা একটু আরামে যাতায়াত করতে চায়। তারা খরচের দিকে না তাকিয়ে স্বাচ্ছন্দের দিকে তাকায়।

ঈগল পরিবহনের (বাস) শিববাড়ী মোড় কাউন্টারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার দারা বলেন, এসি টিকিটের চাহিদা বেশী থাকলেও চেয়ার কোচের চাহিদা তেমন নেই।

৮-১০ জুন এ তিনদিন এসি বাসের যাত্রীর চাপ রয়েছে। অন্য সময় খুলনা থেকে দু’টি এসি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করতো। ঈদ ফিরতি যাত্রীদের এসি বাসের চাহিদা খুব বেশী। সেই চাহিদা পূরণ করতে এ রুটে আরো একটি বাস যোগ করা হয়েছে। এখন প্রতি দিন তিনটি এসি বাস খুলনা ছেড়ে যাচ্ছে। তারপরও যাত্রীদের চাহিদাপূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীরা এসি বাসের টিকিট না পেয়ে চেয়ার কোচে যাচ্ছে। ঈদের আগে এসির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১২শ’ টাকা। তবে অগ্রীম টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে ১৬শ’ টাকা।

তিনি বলেন, আনুমানিক ১০ বছর আগ থেকে এ রুটে এসি বাস চালু হয়েছে। তবে এখন এসি বাসের যেমন চাহিদা বেড়েছে আগে এমন চাহিদা ছিল না। মানুষের আয় বাড়ার কারণে এসি বাসের চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
খুলনা রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শামীমুর রহমান বলেন, আগে ট্রেনের নরমাল চেয়ার কোচের টিকিটের চাহিদা বেশী ছিল। কিন্তু এখন বিশেষ করে ঈদ ফিরতি যাত্রীরা এসি চেয়ার ও এসি বার্থ কোচের টিকিট সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ দু’টি কোচের চাহিদা বিগত দিনের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। টিকিট দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের জেলা কমিটির সম্পাদক এড. কুদরৎ ই খুদা বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ হঠাৎ অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তাদের বিলাসিতা সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে। স্বাচ্ছন্দে যাতায়াতের জন্য তারা জুট ঝামেলা এড়িয়ে এসি বাস বা ট্রেনে যেতে আগ্রহ দেখায়। এদের কারণেই এসি বাস বা ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা বলেন, বিগত দিনের চেয়ে খুলনার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ঢাকামুখী কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। সাথে মানুষের আয়ও বেড়েছে। খুলনাবাসী প্রয়োজনে স্বাচ্ছন্দে ঢাকায় যেতে চায়।

এ জন্য এসি বাস বা ট্রেনের টিকিটের ওপর চাহিদা বেড়েছে। তবে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে খুলনায় ট্রেন ও এসি বাসের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে হবে বলে এ রাজনৈতিক নেতা মনে করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার