প্রচণ্ড তাপদাহ, বৃষ্টির জন্য হাহাকার। আমনের ক্ষেত ফেটে চৌচির। বর্ষার মৌসুমেও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নিরুপায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুর-বিল থেকে পানি দিয়ে আমন ধানের চারা অনেক কষ্টে রোপণ করেছিলেন। তখন ধারণা করেছিলেন বৃষ্টিপাত হবে। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ক্ষেত নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটেরকৃষকরা।

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২২ আষাঢ়।দিনভর আকাশজুড়ে মেঘ আর ঝুম বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতি এবার গো ধরে বসেছে। আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ চলছে কিন্তু এখন পর্যপ্ত বৃষ্টিপাত হয় নি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট সহ   ১০ জেলায়। অনাবৃষ্টির কারনে খরায় পুড়ছে রোপা আমনের বীজতলা। পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে আছে ধানি জমি।

আগামী সপ্তাহ থেকে জমিতে রোপা আমন চাষ করার কথা থাকলেও বৃষ্টি না হওয়ার জমি চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। এ কারনে বাগেরহাট জেলার ৭০ হাজারেও অধিক কৃষকের কপালজুড়ে চিন্তার ভাঁজ প্রসারিত হচ্ছে। সময়মতো ধান রোপণ করতে না পারলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

সরেজমিনে, বাগেরহাটের  শরনখোলা , মোড়েলগঞ্জ, মংলার ,রামপাল উপজেলায় ধানীজমি ও বীজতলা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারনে রোপা আমনের জন্য তৈরি বীজতলায় ধানের চারাগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না।পানির অভাবে বীজতলা ও ধানি জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে।

বাগেরহাটের  মোড়েলগঞ্জসদর উপজেলার কৃষক  আব্দুল হালিম,বাদশা,আব্দুল জুব্বার জানান, আষাঢ় মাস শেষ হতে চললো অথচ এখনো পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় নি । পানির অভাবে ধানের চারাগুলোও বড় হতে পারছে না। বীজতলায় পানি খুব দরকার। এদিকে মাঠে ধান রোপণের জন্য হাতে সপ্তাহ দুয়েক সময় আছে। এর মধ্যে যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে এ বছর রোপা আমন চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে না।

বাগেরহাটের  মোড়েলগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক কৃষক আবু হাসান, শেখ অজিউর রহমান জানান, গত ১৫/২০ বছরে আষাঢ় মাসে অন্তত এমন খরা তারা আর দেখেন নি। আষাঢ় মাসে যেখানে বৃষ্টির জন্য ক্ষেতে রোপণ করা ধানের চারা বৃষ্টির পানির  পানিতে তলিয়ে যেত। অথচ এবছর অনাবৃষ্টির কারনে জমিতে ধান রোপণ করা নিয়েই চিন্তিত আছি। বৃষ্টি নেই, খাল বিল শুকিয়ে গেছে। পানি নেই, কি করি। ধান চাষ না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে বড় বেকায়দায় পরতে হবে বলে কৃষকরা আফসোস করতে লাগলেন।

তবে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা যেন চিন্তিত হয়ে না পড়েন সে বার্তাই দিলেন বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আফতাব উদ্দিন তিনি জানান, যদি এ সময়টাতে বৃষ্টি না হয়ে আরো পরে বৃষ্টিপাত হয় সেক্ষেত্রে কৃষকরা নাবি জাতের ধানের চাষ করলে ভালো হবে। কারন নাবি জাতের ধান চাষ করলে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়া যাবে। তাতে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শংকা থাকবেনা। তবে কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী এখনো বেশ ভালো সময় রয়েছে রোপা আমণ চাষের জন্য । যদি চলতি সপ্তাহের মাঝে বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে কৃষকরা মাঠে রোপা আমন ধান চাষ করে বাম্পার ফলন ফলাতেও পারবে।

এদিকে প্রতিদিন আকাশে সাদা মেঘের ধলা ভেসে বেড়ালেও বৃষ্টি হয়ে তা মাটিতে পরার আগেই হালকা ও মাঝারি বাতাস জমে থাকা মেঘের দলাকে অন্যত্র উড়িয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে আকাশের দিকে চাতকের মত তাকিয়ে থাকা কৃষকরা তৃষ্ণার্ত মন নিয়ে ঘরে ফিরে। গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে প্রতিদিনই মেঘ বৃষ্টি হয়ে মাটিতে পরার আগে বাতাসে উড়ে যায় দূর দিগন্তে,সেই সাথে উবে যায় সঠিক সময়ে কৃষকের রোপা আমন চাষের স্বপ্ন।

প্রকতিতে বাতাসের চাপ কম থাকায় এ বছর সঠিক সময়ে বাগেরহাটের পর্যাপ্ত পরিমান বৃষ্টিপাত হয় নি বাগেরহাটজেলায়। যতটুকু হয়েছে তা বিক্ষিপ্তভাবে হয়েছে। তবে তা রোপা আমন চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ছিলো না।

তবে চলতি সপ্তাহে  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনাআবহাওয়া অধিদপ্তরের  উপপরিচালক তিনি জানান, প্রতি দশ পনের বছর অন্তর অন্তর প্রকৃতির খেয়ালীপনায় অনাবৃষ্টি- অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। এ বছর বাগেরহাটে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হলেও সব অঞ্চলে সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় নি। বলা যায় ঋতুর শুরুটা অনাবৃষ্টির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ধারণা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহে জেলার সর্বত্র ভারি বৃষ্টিপাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।