তরুণ বয়সে সব ধরনের আবেগ-অনুভূতির তীব্রতা বেশি কাজ করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে তরুণদের জীবনে হতাশা, রাগ, ক্ষোভ, অসন্তোষ, অবিশ্বাস ও অস্থিরতা ইত্যাদি নেতিবাচক আবেগ-অনুভূতির সংযোগ ঘটানোর পরিবেশ, সুযোগ ও ব্যবস্থা অনেক বেশি সক্রিয়। এদের জীবনে সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা কতটুকু, আর কতখানি হতাশার অন্ধকারে ঢাকা পড়বে _ সেই হিসাব আমরা কেউ খুঁজে দেখি না।

এ দেশের তরুণ সমাজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে যতটা মাতে, তার চেয়ে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডেই যেন সাড়া দেয় বেশি। শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রতিনিয়ত নানারকম ধ্বংসাত্মক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। দলীয় রাজনীতি ও আধিপত্য বিস্তারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মেতে উঠছে বেশি। এ ধরনের নেতিবাচক ঘটনার বিপরীতে তারুণ্যের স্বপ্ন-সম্ভাবনায় উজ্জীবিত হবার মতো ঘটনা খুব বেশি ঘটছে না।

তরুণদের জন্য সৃষ্টিশীলতার পথ নয়, বরং আত্মবিনাশী ধ্বংসাত্মক পথটাই যেন রাজপথ হয়ে উঠছে। দেখেশুনে এমন নেতিবাচক ধারণা জন্মানো অস্বাভাবিক নয়। ব্যর্থতা ও হতাশা সব সমাজেই ব্যক্তির জীবনকে আক্রান্ত করতে পারে। কিন্তু তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা ও সংগ্রামের বদলে ব্যক্তি যখন নিজের ও অপরের জন্য ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকর্মে আত্মসমর্পণ করে, তখন সেটা কেবল তার নিজের বা পরিবারের জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্য হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। তখন সে কেবল নিজের জীবনের জন্য অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা ডেকে আনে না, সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধ্বংসের জন্যও কাজ করতে থাকে। হতাশ তরুণরা যে সকল অপরাধকর্মে সহজেই জড়িয়ে পড়ে, তার মধ্যে মাদকাসক্তি প্রধান।

আমরা খেয়াল করি আর না করি, মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে ইতোমধ্যে এরকম একটি ভয়ঙ্কর ও ধ্বংসাত্মক ক্রিয়া হয়ে উঠেছে। শহর কি গ্রাম _ সর্বত্রই মাদকের ভয়াল থাবা প্রসারিত হয়েছে।

একটি তথ্যসূত্র মতে, বাংলাদেশে মাদকসেবীর সংখ্যা এখন ৫০ লাখেরও বেশি। বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী এই সংখ্যা বর্তমানে ৭০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। মাদকাসক্তদের ৯১% কিশোর ও যুবক। তাদের অধিকাংশেরই বয়স ২১ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অনেকটা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোশকতার কারণেই দেশের সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল তরুণ সমাজ মাদকের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজেদের আত্মবিনাশকে ত্বরান্বিত করছে।

প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন মাদক বিরোধী কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিয়ে নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্ট করলে মাদকের ভয়ঙ্কর আগ্রাসন অনেকটাই রোধ করা সম্ভব বলে মনে হয়।রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে যে বা যারা মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের নিয়ন্ত্রন এখনই জরুরী নয় কি ?

রাজনৈতিক উচ্চ মহল বিষয়টি একটু গভীরে ভেবে দেখবেন কি ?