চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, ৬ থেকে ৭ ঘন্টার বাস জার্নি। কখনো কখনো তা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাও লেগে যেতো। মেঘনা ও গোমতী সেতু দুটি উদ্বোধনের পর মহাসড়কের দৃশ্যপট অনেকটা পাল্টে গেছে। সেই একই দুরত্ব এখন অতিক্রম করা যাচ্ছে মাত্র ৪ ঘণ্টায়।

রীতিমত অবিশ্বাস্য এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের। নেই কোথাও কোন যানজট, নেই পথে পথে দুর্ভোগ। সড়কের কোথাও নেই হয়রানি বা অযথা যানবাহন থেমে থাকার বিড়ম্বনা। 

এবারের ঈদ উদযাপনে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারা সব শ্রেণির মানুষকে বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রামের দীর্ঘ সড়ক পথে দ্রুত ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। 

ঈদকে সামনে রেখে শহর ছেড়ে গ্রামে আসা সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন যানবাহন চালক ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যানজটমুক্ত দুর্ভোগহীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কথা। 

একটা সময় এই মহাসড়কের গজারিয়া অংশে সপ্তাহে ৪/৫ দিন যানজট লেগে থাকত। সেখানে সেতু দুটি উদ্বোধনের পর চার লেনের সেতুগুলো খুলে দেয়ায় আসা-যাওয়া উভয় লেনে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারছে। ফলে মহাসড়কের এই অংশে আর কোনো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। 

স্থানীয় সূত্রমতে, জাতীয় এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। আর এ বিপুল সংখ্যক যানবাহন গোমতী-মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে গিয়ে যানজটের কবলে পড়ত। নিত্যদিনের যানজটের কারণে মহাসড়কটি মহাভোগান্তিতে রূপ নিয়েছিল বিগত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে।

ঢাকায় ফ্যাশন ও চলচ্চিত্র জগতে কাজ করেন চট্টগ্রামের ছেলে খালেদ হোসেন সুজন। ঈদ উদযাপনে তিনি রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে নিজেই ড্রাইভ করে রওনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। মাত্র ৪ ঘন্টায় সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি পৌঁছে গেছেন চট্টগ্রামে। 

খালেদ হোসেন সুজন জানান, এই ঈদের মতো এতো স্বস্তির ভ্রমণ আর কখনো হয়নি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের কমপক্ষে ৭/৮ ঘন্টার জার্নি মাত্র ৪ ঘন্টায় অতিক্রম করা গেছে। সড়কের কোথাও কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা যানজট নেই। মহসড়কের সবগুলো পয়েন্টেই হাইওয়ে পুলিশের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। 

সুজন বলেন, ‘আমি প্রাইভেট কার চালিয়ে ৪ ঘণ্টায় আসলেও লক্ষ্য করেছি যাত্রীবাহী বাসগুলোও প্রাইভেট কারের সমগতিতে চলছে। বাসের ক্ষেত্রে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টার বেশি লাগছে না। এতে সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত বিড়ম্বনা ছাড়াই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।’ 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী গ্রিন লাইন পরিবহনের চালক মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, তিনি শনিবার রাত ১২টায় ঢাকার কলাবাগান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কুমিল্লায় আধঘণ্টার যাত্রা বিরতি দিয়ে মাত্র ৫ ঘন্টায় তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। যাত্রা বিরতির আধঘণ্টা বাদ দিলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র সাড়ে ৪ ঘন্টা। 

একই রকম তথ্য দিয়েছেন ইউনিক পরিবহন বাসের চালক আরাফাত। আরাফাত জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবারের ঈদযাত্রা অনেক স্বস্তির। আমরা কোথাও কোন যানজট পাচ্ছি না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি। 

এদিকে ঈদকে ঘিরে দুরপাল্লার বাসযাত্রীরা যাতে কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হয় এবং পরিবহন সংস্থাগুলো যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র একাধিক ভ্রাম্যমান আদালত। 

বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মনজুরুল হক জানান, কাউন্টারে এবং যাত্রী বেশে বাসে উঠেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রীরা বিআরটিএ’র ফেসবুক পেইজে গিয়েও কোন পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায় কিংবা অন্য কোনভাবে হয়রানীর অভিযোগ করলে তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে এর প্রতিকার এবং দায়ী পরিবহন চালক বা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল হক বলেন, ‘ঈদে স্বস্তির বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে আমরা রাতদিন মাঠে রয়েছি। সরেজমিনে বিভিন্ন কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে কোন যাত্রীর বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলে সেই বাড়তি টাকা যাত্রীকে ফেরত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।’