ঢাকার পাঁচটি  নির্বাচনী এলাকায় মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

Img

ঢাকা জেলার পাঁচটি  নির্বাচনী এলাকায় (ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০) মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। গতকাল সোমবার তিনি এমন নির্দেশনা দেন বলে তথ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এবং তার আগের দুই দিন ও পরের দুই দিন (মোট পাঁচ দিন) এই পাঁচ আসনে মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি ওই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তিনি কমপক্ষে দুই বছর এবং অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এতে আরো বলা হয়, ‘‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুযায়ী ঢাকা জেলার ৫টি নির্বাচনী এলাকার (১৭৪ ঢাকা-১, ১৭৫ ঢাকা-২, ১৭৬ ঢাকা-৩, ১৯২ ঢাকা-১৯ এবং ১৯৩ ঢাকা-২০) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণ করার পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনো ব্যক্তি কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংগঠিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না।

এছাড়া উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কোনো হিংসাত্মকমূলক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ, ভোটারগণ বা নির্বাচনী কাজকর্ম বা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কোনো অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শন বা ব্যবহার করা যাবে না।’’

পূর্ববর্তী সংবাদ

কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির কৌশলী প্রচারণা

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামীলীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী জাফর আলম বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গেলেও মাঠে নেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হাসিনা আহমেদ।

প্রতীক পাওয়ার পর থেকে যেভাবে বিএনপি প্রার্থীর মাঠে থাকার কথা তাও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি এই আসনের নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া ও পেকুয়ায় নৌকা প্রতীকের পোস্টার ও ব্যানার ছেয়ে গেলেও বিএনপি প্রার্থীর ধানের শীষের পোস্টারেরও তেমন দেখা পাচ্ছে না ভোটাররা। বলতে গেলে পুরো মাঠই দখলে রয়েছে নৌকার প্রার্থীর।

অবশ্য বিএনপি প্রার্থীর এমন নীরবতার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমেদ কোথাও প্রচারণা করতে গেলেই সেখানে হামলা করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশের হয়রানি ও গ্রেপ্তার এবং একের পর এক মামলায় জড়িয়ে এলাকাছাড়া করার কারণে বিএনপি প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছেন না।

মূলত, এসব কারণে বিএনপি প্রচারণার মাঠে দেখা যাচ্ছে না বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নানা কারণে বিএনপি প্রার্থী হাসিনা আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে না থাকলেও ভেতরে ভেতরে দলটি চুড়ান্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কয়েকশ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে শক্ত কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভোট কেন্দ্র পাহারায় কেন্দ্রভিত্তিক গঠিত এই কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা বর্তমান প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদের স্বামী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ভোটারদের উদ্দেশ্যে লেখা প্রচারপত্র বিলি করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের একাধিক নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী প্রচারণায় নামলেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সশস্ত্র লোকজন হামলা করছে। হামলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আহত হচ্ছেন। আবার একের পর এক মামলায় জড়িয়ে দেয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আপাতত চুপ থেকে মাঠে নামছে না। তবে ভেতরে ভেতরে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের আহবান করছেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষে ভোট দিতে একেবারে ভোরে কেন্দ্রে চলে যেতে।’

চকরিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর যতই হামলা বা মামলায় জড়ানো হউক না কেন। আমরা কোন অবস্থাতেই মাঠ ছাড়ছি না। যে কোন কিছুর বিনিময়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রতিটি ভোটকেন্দ্র আমাদেরই দখলে রাখা হবে। মাঠপর্যায়ে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের দেখা না গেলেও আমাদের চুড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’

কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আকতার ফারুক খোকন বলেন, ‘এবারের নির্বাচন বিএনপির জন্য অস্তিত্বের লড়াই। তাই আমরা আওয়ামীলীগের হামলা ও পুলিশের মামলার কারণে কোন অবস্থাতেই ভীত নই। যতই নির্যাতন ও মামলা হউক এসবের পরোয়া না করে আমরা মাঠেই রয়েছি। যার প্রমাণ দেখা যাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোর থেকেই।’

চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার বলেন, ‘গত দশবছর ধরেই তো বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা-হামলা মোকাবেলা করে মাঠে ছিল। সেখানে নির্বাচনের আগ মুহূর্তেও নেতাকর্মীরা একের পর এক সরকার দলের হামলা, মামলা, পুলিশের হয়রানি সহ্য করছে। এর পরেও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ গত দশবছরের দুঃশাসনের জবাব কড়াগণ্ডায় দেবে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমাদের নেতাকর্মীরা অধীর অপেক্ষায় রয়েছে ৩০ ডিসেম্বরের জন্য।’

চকরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়ার বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের দেখা না গেলেও ভেতরে ভেতরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছে। ভারতের শিলংয়ে অবস্থানরত কক্সবাজারের বিএনপির প্রাণপুরুষ সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি সালাহউদ্দিন আহমদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিনগুলোতে বিএনপির তৎপরতার বিষয়ে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন।

নির্বাচনের মাঠে প্রকাশে দেখা না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা তো দূরের কথা, প্রচারণায় গেলেও আমার নিজের গাড়িতেও আক্রমণ করছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর লোকজন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে আমার এবং দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।

এ অবস্থায় আমার জীবনের নিরাপত্তাও নেই। আবার প্রশাসনকে অবহিত করে প্রচারণা চালাতে যাওয়ার আগমুহূর্তেও সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এখানে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।’ হাসিনা আহমেদ বলেন ‘নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা চালাতে গেলেই বার বার বাধা দেয়া হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও। তার ওপর তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত চকরিয়া ও পেকুয়া থানায় ১০টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় দুই উপজেলার কয়েকশত নেতাকর্মী আসামী হয়েছেন। যারা মাঠপর্যায়ে বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালাবেন।’

প্রতিপক্ষের সকলকে সতর্ক করে দিয়ে হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘এসব কিছুর পরেও কেউ মনে করবেন না বিএনপি এমনিতেই চুপ করে বসে আসে। যতই আমার এবং দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা হউক না কেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন দেখিয়ে দেবে চকরিয়া-পেকুয়ার সালাহউদ্দিন প্রেমী জনগণ। আমরা সেভাবে ভেতরে ভেতরে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করছি। যাতে ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্র বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদেরই দখলে থাকে।’

এদিকে শিলংয়ে অবস্থানরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়া ও পেকুয়ার ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছিল। আগামী ৩০ ডিসেম্বর আরো একটি বিজয় হবে, সেই বিজয় হবে জনগণের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয়।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার