ট্রলার ছিনতাইয়ের জন্য পিতা-পুত্রকে হত্যা: স্বীকারোক্তি

Img

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পিতা-পুত্রকে খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিহতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মায়ের পরশ নামক ট্রলার, মোবাইল সেটসহ বেশকিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের ইন সার্ভিস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ট্রলার ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই পিতা ও পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আর ছিনতাই হওয়া ট্রলারটি বিক্রি করতে গিয়েই ঢাকার সদরঘাট সংলগ্ন তেলঘাট এলাকা থেকে ঘাতকরা গ্রেফতার হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরলক্ষিপাশা এলাকার একটি বাগানের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২২ বছরের যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুলাই সকাল ৮টার দিকে একই এলাকার নদীর ধারে ভাসমান অবস্থায় ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, মরদেহ দুটি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলার দোয়ানিয়া এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে ইয়াসিন হাওলাদারের।

তিনি জানান, বাবা-ছেলে উভয়ে মাছ ধরার চাঁই (ফাঁদ) তৈরি করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করতো। গ্রেফতারকৃতরা তাদের হত্যা করে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের মায়ের পরশ নামক একটি ট্রলার, নগদ টাকা-পয়সা, নিহত হেলালে ব্যবহৃত একটি মোবাইল নিয়ে পলায়ন করে। পরবর্তীতে জেলা পুলিশের তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একটি টিম মোবাইলফোনের সূত্র ধরে ঘাতকদের অবস্থান করে এবং ঢাকা জেলা পুলিশের সহায়তায় ৬ জুলাই ঢাকার সদরঘাটের তেলঘাট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে।

এসপি জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাকেরগঞ্জের দুবারচর এলাকার মৃত জয়নাল হাওলাদারের ছেলে মো. বাদশা হাওলাদার (৩৮), গোমা এলাকার সবুজ খাঁর ছেলে শাহীন খাঁ (২৫) ও একই এলাকার আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে ছানির হাওলাদার (১৭)। এদের মধ্যে বাদশা ঘটনার মূল হোতা ও তার বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মো. নাঈমুল হক, আনোয়ার সাঈদ ও ফরহাদ সরদার উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার