জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী জেনে নিন কোন রাশির মেয়েরা কেমন চরিত্রের

Img

মানুষের চরিত্র, স্বভাব, আচার-আচরণ তার রাশি অনুযায়ী হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, প্রত্যেকটা রাশির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। যেগুলো ব্যক্তিজীবনে প্রতিফলিত হয়। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে জানবো কোন রাশির মেয়েরা কেমন চরিত্রের হয়।

মেষ রাশি:(২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল)

জীবনের সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করে মেষ রাশির জাতিকা। সহজাত নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা থাকে তাদের। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতা দেখা যায় তাদের মাঝে। প্রতিটা দিন কর্মচঞ্চল করে ধরে রাখার ব্যাপারে এই জাতিকার জুড়ি নেই। কখনও কখনও নিজের ক্ষমতায় বেশি কাজের ভার নিয়ে ফেলে তারা। অনেক সময় একটা কাজ শেষ না করে আরেকটা শুরু করে দেয়। জীবনের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে থাকেন মেষ রাশির জাতিকা। একটা ভালো কাজ করার সুযোগ পেলে তারা তা করে ফেলবে। সেই কাজে তার নিজের কতখানি লাভ হলো, সেটা নিয়ে চিন্তা করবে না। নিজের মতামত জানানোর ব্যাপারে একেবারেই ঠোঁটকাটা এই রাশির জাতিকা। কখনো কখনো মেষ রাশির জাতিকা এতই সফল হয়ে থাকে যে, অন্যেরাও তার মতো হতে চায়। যদিও তারা পেরে ওঠে না।

মেষ রাশির প্রতীক আগুন। এ থেকেই বোঝা যায় মেষ নারীর প্রেমও হয় তেমনই উষ্ণ। প্রেমের ক্ষেত্রে মেষ নারীর জাতিকা নিজেই উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তার সঙ্গীকেও হতে হয় শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সঙ্গী পুরুষের ব্যক্তিত্ব দূর্বল হলে খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন মেষ নারীর জাতিকা। মেষ নারীর সঙ্গে তর্ক হলে তেমন বিচলিত হবেন না। এই তর্কের মাধ্যমেও সম্পর্ক পোক্ত হয়ে উঠতে পারে।

বৃষ রাশি:(২১ এপ্রিল - ২১ মে)

প্রথম দেখায় বৃষ রাশির জাতিকাকে মনে হবে খুব শান্তশিষ্ট মিষ্টি প্রকৃতির। সাধারণত তিনি আপনার সঙ্গে এমন মিষ্টি আচরণই করবেন। কিন্তু রেগে গেলে তার আসল রূপ দেখতে পাবেন। বৃষ রাশির জাতিকার চরিত্রে ‘সুগার কোটিং’ এর নিচে রয়েছে আগুনে মেজাজ। তাই এর আওতায় না পড়ার চেষ্টা করুন। তবে ভালোবাসার ছোট্ট ছোট্ট উপহার পেতে পছন্দ করেন এই রাশির জাতিকা। তাকে উৎসর্গ করতে পারেন নিজের তৈরি একটি কবিতা অথবা অন্যরকম কিছু ফুল, সঙ্গে অবশ্যই আন্তরিক অনুভূতি। রাগ গলে পানি হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।

বৃষ রাশির জাতিকার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা হয়ে থাকে খুবই একগুঁয়ে। কোন কিছু পাওয়ার জন্য কোমর বেঁধে লাগেন তারা।

মানসিক শক্তির দিক দিয়েও তারা যথেষ্ট কঠোর। তবে যতই কঠোর হোক না কেন, তারা মমতাময়ী হয়ে থাকেন। বৃষ রাশির জাতিকা হয়ে থাকেন বিচক্ষণ এবং ধৈর্য শালী। এই কারণে তাদের জীবনে সফলতা আসে প্রচুর। এই নারীর জাতিকার উপাদান হলো মৃত্তিকা। তাই তার সাথে মাতৃসুলভ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিতে থাকতেই পছন্দ করেন বৃষ রাশির জাতিকা। জীবনে নিরাপত্তার অনুভূতি পেতে তিনি পছন্দ করেন। সাধারণত এই রাশির জাতিকা একই কাজ বারবার করেন না। ভালোবাসার ক্ষেত্রে ধীরস্থির এবং মিষ্টি ভাব নিয়ে অগ্রসর হন। একটু সময় নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা পছন্দ করেন। প্রেমের ক্ষেত্রে তাকে তাড়া না দেওয়াই ভালো। কিছু সীমানা মেনে চলেন তারা এবং সঙ্গীর উচিত এই সীমানাকে শ্রদ্ধা করা।

মিথুন রাশি:(২২ মে – ২১ জুন)

একজন মিথুন নারীর জাতিকাকে বোঝানোটা বেশ কঠিন। আকাশে মেঘ ধরে রাখা যেমন কঠিন, মিঠুনের জাতিকার মন বোঝাও তেমনি কঠিন। কারণ একজন নয় তার সঙ্গে দেখতে পাবেন বহু নারীর ছায়া। কেউ কেউ মিথুন নারীর চরিত্রে বিরক্ত হতে পারেন। কিন্তু তারা নিজেদের ব্যক্তিত্বে স্বতন্ত্র। ক্ষণে ক্ষণে তার মাঝে পরিবর্তন আসতে পারে। পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে তার মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই। অনেক ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা দেখা যায় তার মাঝে। আশাবাদী মনোভাব থাকার কারণে, যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি মানিয়ে নিতে পারেন ।

মিথুন রাশির প্রতীকে রয়েছে একটি নয় বরং দুইটি সত্ত্বা। মিথুন রাশির জাতিকার ব্যক্তিত্বে একটি নয় বরং দুই বা তার বেশি স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। এর ফলে তার ব্যক্তিত্ব অস্থিতিশীল মনে হতে হতে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে একটু খুঁতখুঁতে হতে পারেন। তবে তিনি নিজের পছন্দ করা সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে, তখন আর কোন রকম সংকোচ করেন না নিজের অনুভূতি প্রকাশে। আর এই সম্পর্ক হয়ে থাকে দীর্ঘস্থায়ী।

কর্কট রাশি:(২২ জুন – ২২ জুলাই)

কর্কট নারীর জাতিকার চরিত্রে তাদের চাঁদের প্রভাব প্রবল। চাঁদের কলা বাড়া-কমার মতো ওঠানামা করে কর্কট রাশির মেজাজ। সাধারণত কর্কট নারীর জাতিকা যথেষ্ট সহজ সরল হয়ে থাকেন। কিন্তু তার অনুভূতি হয়ে থাকে যথেষ্ট জটিল। সবগুলো রাশির মাঝে কর্কট নারীর জাতিকার বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা সবচেয়ে কঠিন। কর্কট নারীর জাতিকা হয়ে থাকে খুবই স্পর্শ কাতর। বিশেষ করে কোন কর্কট নারীর জাতিকাকে সমালোচনা করার ব্যাপারে খুবই সাবধান থাকুন। এই সমালোচনা জীবনে কখনো ভুলবে না তারা। বয়স বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্কট রাশির জাতিকার অনুমান শক্তি প্রখর হয়। কোন ব্যক্তির ব্যাপারে খুব কম জেনেও, সে আসলে ভালো না খারাপ তা ধারনা করে নিতে পারে। এই ধারণা সঠিক হয়ে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। তাদের ব্যাপারে সহানুভূতি দেখাতেও কর্কট নারী সিদ্ধহস্ত। প্রেমের ব্যাপারে কর্কট নারীর জাতিকাকে একটু সময় দিতে হবে। হুট করে তারা প্রেমে জড়িয়ে পড়তে নারাজ। সঙ্গীকে তারা বিশ্বাস করতেও সময় নেন। এছাড়া খুব সহজেই কষ্ট পান তারা। এসব কারণে সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায়ে একটু সময় নিলেও পরবর্তী পর্যায়ে সম্পর্ক অনেক মিষ্টি হয়ে ওঠে।

সিংহ রাশি:(২৩ জুলাই - ২৩ আগস্ট)

এই রাশির জাতিকার মাঝে সিংহের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। তারা সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন সবসময়। সিংহ রাশির জাতিকাদের না ঘাঁটানোই ভালো। যদি রেগে যায় সিংহ রাশির জাতিকা তাহলে উপহার এবং মিষ্টি মিষ্টি কথা দিয়ে আগে তাকে ঠান্ডা করে নিতে হবে। তারা যেমন বুদ্ধিমতী হয়ে থাকেন, তেমনি শক্তিশালী চরিত্র এবং সৃজনশীলতা দেখা যায়। প্রেমের ক্ষেত্রে সিংহ রাশির জাতিকা কোন রকম ছাড় দিতে রাজি হন না। তাকে খুশি করতে পারলে আপনার সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে প্রেমের গল্পের মতোই রোমান্টিক এবং একই সঙ্গে ড্রামাটিক। সঙ্গীর জীবনে তিনি হয়ে থাকতে চান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তখন প্রেমের বিষয়-এ গুরুত্ব দিতেও পিছপা হন না।

কন্যা রাশি:(২৪ আগস্ট – ২৩ সেপ্টেম্বর)

কন্যা রাশির জাতিকা হবে একেবারেই নারীসুলভ এবং চুপচাপ অবলা প্রকৃতির, এটা ভাবলে ভুল করবেন। অন্যান্য রাশির জাতিকার চাইতে একটু চুপচাপ হলেও তারা একেবারে শান্ত শিষ্ট নন। কেউ কেউ আবার ভয়াবহ রকমের অগোছালো। কন্যা রাশির নারীর মাঝে নিজেকে নিখুঁত করে গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যায়। নিজেকে আরও উন্নত করে তুলতে তারা জীবনকে জটিল করে ফেলেন অনেক সময়। কন্যা রাশির জাতিকার প্রতীক কুমারী এবং এই কারণে তাদের মাঝে দেখা যায় একটু লাজুক বৈশিষ্ট্য।

সময়ের কাজ সময়ে করতে ভালোবাসেন এরা। কন্যা রাশির জাতিকা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। প্রেমের ক্ষেত্রে কন্যা রাশির জাতিকার মাঝে দেখা যায় প্রচ্ছন্ন সংকল্প এবং শক্তি। সত্যিকারের ভালোবাসার নারী ও বিশ্বাসী হয় কন্যা রাশির জাতিকা। ভালোবাসায় ভুলেও তার হৃদয় দিয়ে খেলা করতে যাবেন না। কন্যা রাশির জাতিকা প্রেমে পড়ে না খুব সহজে। কিন্তু একবার প্রেমে পড়লে তিনি সেই সম্পর্ককে করে ফেলেন দীর্ঘস্থায়ী।

তুলা রাশি: (২৪ সেপ্টেম্বর – ২৩ অক্টোবর)

তুলারাশির নারী সৌন্দর্য, ন্যায় এবং ভারসাম্যের প্রতীক। দাঁড়িপাল্লার মতই তার চরিত্রেও দেখা যায় সমতা। এরা অন্যদের সাথে ভালো মিশতে পারে। শুধু তাই নয়, তুলা নারীর প্রতি অন্যদের আকর্ষণ থাকে প্রবল। এ কারণে অন্যদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে কোনও সমস্যাই হয় না তার।

প্রকৃতির দুই বিপরীত শক্তি (ইন ও ইয়াং) এর মিশ্রন দেখা যায় তুলা রাশির নারীর মাঝে। এ কারণে তার মাঝে দেখা যায় একই সাথে যৌক্তিক বিবেচনা এবং অযৌক্তিক আবেগ। যুক্তি দিয়ে যে কোনও কিছু তাকে বোঝাতে পারবেন আপনি। একই সাথে আপনার আবেগের মুল্য দিতেও তিনি সিদ্ধহস্ত।

বৃশ্চিক রাশি: (২৪ অক্টোবর – ২২ নভেম্বর)

১২ টি রাশির মাঝে সবচাইতে “সেক্সি” হলেন বৃশ্চিক নারী। একই সাথে তিনি রহস্যময়ী। চুম্বকের মতো আকর্ষণে আপনাকে জড়িয়ে ফেলতে পারেন তিনি। তখন তাকে মনে হবে এক গভীর সাগর, যে মুহূর্তেই প্রশান্ত আবার মুহূর্তেই উত্তাল। প্রকৃতির সাথে একই সুরে বাধা তার মেজাজ। কখনও হালকাভাবে নেবেন না বৃশ্চিক নারীকে। একদম সোজাসাপটা আচরণ পছন্দ করেন তিনি। আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী বৃশ্চিক নারী।

পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পছন্দ করেন তারা। কখনও কখনও নিজের ক্ষতি করে বসেন। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে চাপা একটি সৌন্দর্য রয়েছে তাদের ব্যক্তিত্বে। তাদের মনের ভেতরটা অনেক জটিল। এই জটিলতার রহস্য সবাইকে জানাতেও ইচ্ছুক না তারা। তাই কোনও বৃশ্চিক নারীর মন বুঝতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করাই শ্রেয়।

ধনু রাশি: (২৩ নভেম্বর – ২১ ডিসেম্বর)

ধনু রাশির নারীর মাঝে প্রচ্ছন্ন দার্শনিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। সব পরিস্থিতিতেই সত্যের খোঁজ করেন তিনি। অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায় তার চরিত্রে এবং সব অভিজ্ঞতাকেই তিনি মুল্যবান বলে মনে করেন। নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজে বেড়ান তিনি। খুব স্বতঃস্ফূর্ত এবং স্বাধীনচেতা এই নারীর গভীর ব্যক্তিত্ব অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। কোনও বাঁধাধরা নিয়মের বেড়াজালে আটকাতে যাবেন না বৃশ্চিক নারীকে, সহসাই সেই জাল ছিঁড়ে চলে যাবেন তিনি।

মকর রাশি: (২২ ডিসেম্বর – ২০ জানুয়ারি)

উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নেতৃত্ব দেবার মনোভাব মকর নারীকে নিয়ে যায় সাফল্যের চূড়ায়। এই সাফল্য অর্জন করার পথে কোনও বাধাই সহ্য করেন না তিনি। সুতরাং তার ইচ্ছেপূরণের বিরোধীতা করবেন না কখনোই। আপনাকেও ধুলোয় ফেলে যেতে তিনি দ্বিধা করবেন না। মকর নারী হয়ে থাকেন একগুঁয়ে। খুব সহজে নিজের মেজাজ খারাপ করেন না তিনি। মাথা ঠাণ্ডা রেখেই নিজের প্রতিযোগীকে পিষে ফেলেন পায়ের নিচে।

কুম্ভ রাশি: (২১ জানুয়ারি – ১৮ ফেব্রুয়ারি)

হাতের মুঠোয় বাতাস ধরে রাখতে পারবেন আপনি? পারবেন না। কুম্ভ নারীকে কোনও রকম শৃঙ্খলে আটকে রাখাটাও একই রকমের অসম্ভব। তার চরিত্র বোঝার চেষ্টা করাতাও একই রকমের অসম্ভব। কারন আপনার সব ধারনাকে ভুল প্রমাণিত করে তিনি পরিবর্তিত হয়ে যাবেন মুহূর্তের মাঝে। এই বাতাসের মতই তিনি পরিবর্তনশীল, কখনও মৃদুমন্দ আবার কখনও ঝড়ো বিধ্বংসী। কিন্তু এই ঝড়ের কেন্দ্রে রয়েছেন চমৎকার একজন নারী। জীবনের প্রতি ইতিবাচক তাদের মনোভাব। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজসেবী হয়ে থাকেন তারা। নিজেরদের বুদ্ধি এবং সৃজনশীলতা দিয়ে চমৎকার সব আইডিয়া তৈরি করে ফেলতে পারেন তারা।

কুম্ভ নারী অন্যের অযাচিত উপদেশ শুনতে মোটেই পছন্দ করেন না। কিন্তু আপনার যে কোনও প্রয়োজনে তাদের সাহায্য পাবেন আপনি। তারা নিজেরা বেশ কার্যকরী উপদেশ দিতে পারেন। ভ্রমন করতে পছন্দ করেন তারা। ভালোবাসেন নতুন, কিন্তু একই সাথে পুরনোর প্রতি তাদের অদ্ভুত এক মায়া দেখা যায়।

মীন রাশি: (১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ)

মীন রাশির নারীর ভেতরে লুকিয়ে আছে অনেক অনেক রহস্য। প্রাণবন্ত এবং রোমান্টিক তিনি। বাইরে থেকে দেখে যেমনটা মনে হয়, তার থেকে একেবারেই অন্যরকম ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে রাখেন তারা। হয়ে থাকেন স্পর্শকাতর, আবেগী, কিন্তু সেটা সহজে বুঝতে দেন না কাউকে। সত্যিকারের স্বপ্নচারী হয়ে থাকেন মীন নারী। গভীর আধ্যাত্মিক মানসিকতা রয়েছে তার মাঝে। খুব সাধারণ কোনও কিছুর মাঝেও অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে বের করেন তিনি, যেটা অন্য কারও চোখে পড়বেই না।

তারা হয়ে থাকেন বেশ সৃজনশীল। পরিচিত-অপরিচিত সবার প্রতিই দয়ালু হয়ে থাকেন তারা। তার চরিত্রের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য হলো, বাস্তবতা যখন কঠিন হয়ে যায়, তখন মীন নারী নিজের কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে পারেন সহজেই। এর মাধ্যমে নিজের দুঃখকে সবার থেকে আড়াল করে রাখতে পারেন মীন নারী।

পূর্ববর্তী সংবাদ

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

আজ ৭ মে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের কাছে একটি স্মরণীয় দিন। ২০০৭ সালের ৭ মে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারঘোষিত জরুরি অবস্থা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে শত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যাতে দেশে ফিরতে না পারেন সেজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক অবৈধ নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কিন্তু সাহসী শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারের বেআইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন।

অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিশ্বব্যাপী। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক দৃঢ়তা, সাহস ও গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর চাপে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়।

৭ মে শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরে এলে লাখো জনতা তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানায়। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মিছিল শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে নিয়ে আসা হয়। দেশে ফিরে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শুরু করেন নতুন সংগ্রাম।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হয় দেশবাসী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় গ্রেফতার করে।

২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে কারান্তরীণ রাখা হয়। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন এবং চিকিৎসা শেষে ৪ ডিসেম্বর স্বদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

অতঃপর গণতন্ত্রের শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়।

আন্দোলনের মুখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় জোরপূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতায় চেপে বসা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। শুরু করেন সংকটের আবর্তে নিমজ্জমান অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রাম। দিন বদলের অভিযাত্রায় উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাসে ৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ৭ মে উপলক্ষে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

কিন্তু এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শখ হাসিনার নির্দেশে সব ধরনের জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করে আসছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

৭ মে উপলক্ষে বাঙালির চিরঞ্জীব আশা ও অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ঘরে বসেই পরম করুণাময়ের নিকট বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালনের মধ্যদিয়ে করোনা সংকট মোকাবিলায় চলমান কর্মোদ্যোগকে আরও গতিশীল করে প্রিয় নেত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার