জেলের পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল দুই অস্ত্রতৈরির পাণ্ডাঃ আতঙ্ক

image
image

জেলের পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল দুই অস্ত্র তৈরির পাণ্ডা। এই ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শেষপ্রান্ত সাব্রুমে। পালিয়ে যাওয়া আসামীর মধ্যে একজন এর আগেও একবার জেলথেকে পালিয়ে ছিল।প্রথমবারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়বারেরমতো সফল হলো এরা। আসামীরা হলো, স্বর্ণকুমার ত্রিপুরা ও জুয়েল ত্রিপুরা।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১তারিখ এদের কে পুলিশ পিস্তল, কার্তুজও বিভিন্ন আপত্তিকর জিনিসপত্রসহ মনুবাজার থানাধীন শাকবাড়ি থেকে পুলিশ আটক করে। এরপর এদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ অস্ত্র তৈরির কারখানার হদিশ পায় এবং পিস্তল কার্তুজসহ অস্ত্রতৈরির যন্ত্রপাতি আটক করে। স্বর্ণকুমার, জুয়েল ছাড়াও আরো একজন এদের সাথে ধরা পড়ে তার নাম বাহাদুর ত্রিপুরা। যদিও বাহাদুর এদের সাথে জেল থেকে পালাতে পারেনি, সে এখনো জেল হাজতে রয়েছে। 

স্বর্ণকুমার ত্রিপুরা এক পুলিশ কর্মী খুনের সাথে যুক্ত থাকার ঘটনায় ২০১৪সালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং বিচারে তার জেল হলে ২০১৬সালে রাজ্যের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে ছিল। সে সময়ও তার সাথে আরো একজন আসামী ছিলো। দু'আড়াই বছর পর সে ঘটনা চক্রে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও বাইশ দিনের মাথায় আবারো পালিয়ে গেল আরেক সাথীকে সঙ্গী করে।

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ জেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জেল পুলিশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোন সময়ে যে এরা পালালো তা জেল পুলিশরা টের পেলনা। আসামিরা তারা তাদের জেলখানার কক্ষে ব্যবহৃত কম্বল ছিঁড়ে তা দিয়ে দড়ি পাকিয়ে, জেলের এক বালতির তোড়া খুলে তা দিয়ে হুক বানিয়ে জেলের উচু পাঁচিলের উপর বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের উপর দিয়ে হুক আটকে সিনেমার কায়দায় পালিয়ে গেল অথচ কেউ এত বড় একটা ঘটনা টের করতে পারেনি। এতেই বোঝা যায় জেলের নিরাপত্তা বা জেল পুলিশরা তাদের দ্বায়িত্ব নিয়ে আদৌ সচেতন কিনা।                                                                                                                

পূর্ববর্তী সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছেলের অপকর্মের কারণে পিতার আত্মহত্যা

গত ২০ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নাঈম ইসলাম (২৭) শ্যালিকা তামান্না আক্তারকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যা করেন। কিন্তু আজ নাঈমের বাবা বসু মিয়ার (৫০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গোসাইপুর গ্রাম থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে ছেলের অপকর্মের কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত বসু মিয়া জেলার সদর উপজেলার নাটাই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের শালগাঁও গ্রামের মৃত মলাই মিয়ার ছেলে।

নবীনগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছেলের ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার ভয়ে বসু মিয়া বাড়ি ছেড়ে গোসাইপুর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনাটি নিয়ে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ভোরে আত্মীয়ের বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বসু মিয়া।

উল্লেখ্য, নাঈম তার বাবা বসু মিয়ার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক বাজারে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। গত সোমবার তামান্নাকে খবর দিয়ে বাড়িতে আনেন নাঈম। বুধবার রাতে বসু মিয়া কাজে গেলেও নাঈম যাননি। নাঈমের স্ত্রী স্মৃতি কাজে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাঈম জানান তিনি সকালে ঢাকা থেকে তার মাকে আনতে যাবেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাঈম আমের জুস নিয়ে তার মেয়ে জান্নাতকে খাওয়ান। জুস খেয়ে জান্নাত ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর তামান্নাকেও জুস খেতে বললে তামান্না জুস না খাওয়ায় স্মৃতি সেই জুস খান। জুস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি অচেতন হয়ে পড়েন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে তামান্নাকে ডাক দিলেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। এরপর তামান্নার কাছে গিয়ে দেখেন তার শরীর রক্তাক্ত। খবর পেয়ে গ্রামের এক সর্দার বাড়িতে আসলে নাঈম পালিয়ে যান। নাঈম ধর্ষণের পর তামান্নাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার