জানাজায় মানুষ বেশি হলে মৃতব্যক্তির কী লাভ

Img
প্রতীকী ছবি

মানুষ চিরজীবী নয়। ‘প্রত্যেক প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে’ (সূরা: আল ইমরান, আয়াত ১৮৫)। যে শিশুর আজ জন্ম হলো তাকেও একদিন না একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ছাড়তে হবে, যেতে হবে পরপারে। এই নির্দিষ্ট সময়ের পৃথিবীটি মানুষের জন্য পরীক্ষা।

প্রায়ই দেখা যায় কারো জানাজায় লাখো মুসল্লির ঢল। আবার অনেক কারণে অনেকের জানাজায় মুসল্লির সংখ্যা থাকে হাতেগোনা। পরিস্থিতির কারণেই জানাজায় মানুষ কম এবং বেশি হয়। তবে এই নিয়ে আছে নানান যুক্তিতর্ক। অনেকে আছেন না জেনেই এই বিষয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। যা একেবারেই অনুচিত।

কোনো মৃত মুসলমানকে কবর দেয়ার পূর্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রার্থনাকে জানাযা বলা হয়। সাধারণত এটি জানাযার নামাজ নামে অভিহিত হয়। মুসলমান অর্থাৎ ইসলাম ধর্মামলম্বীদের জন্য এটি ফরযে কেফায়া বা সমাজের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব অর্থাৎ কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে অবশ্যই জানাযার নামাজ পাঠ করতে হবে। তবে কোনো এলাকা বা গোত্রের পক্ষ থেকে একজন আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে মুসলিম মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করে নাই এমন ৪০জন লোক নামাজ আদায় করবে, তবে মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের সুপারিশ আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন।’ (মুসলিম)

জানাজার জন্য লাশ কিবলার দিকে রাখতে হবে। লাশ যদি পুরুষ হয় তবে, মাথার পাশ বরাবর ইমাম সাহেব দাঁড়াবেন। আর মহিলা হলে মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়াবেন, এটাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের সুন্নত।

অনেকের মনেই প্রশ্ন লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা পড়ার কী কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে? জানাজায় বেশি মানুষ উপস্থিত হওয়া ইসলামি শরিয়ত কোন দৃষ্টিতে দেখে? এতে মৃতব্যক্তি কি উপকারিতা পাবেন? হ্যাঁ, জানাজায় বেশি মানুষ উপস্থিত হওয়া ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ এবং কাম্য। কেননা জানাজায় বেশি মানুষ উপস্থিত হলে মৃতব্যক্তির জন্য যেমন কল্যাণের তেমনি যারা জানাজায় উপস্থিত হবে তাদের জন্যও কল্যাণের। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত-

মৃতব্যক্তির কল্যাণ ও উপকার
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘কোনো মৃতব্যক্তির ওপর যখন একদল মুসলিম; যাদের (সংখ্যা) একশ’ হবে, জানাজার নামাজ আদায় করে এবং সবাই তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে, তবে তার জন্য এ সুপারিশ অবশ্যই কবুল করা হবে।’ (মুসলিম)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘কুদায়দ’ অথবা ‘উসকান’ নামক স্থানে তার এক ছেলে সন্তান মারা যায়। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! দেখ কিছু লোক একত্রিত হয়েছে কিনা? আমি বের হয়ে দেখলাম কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। আমি তাকে খবর দিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- বল, তাদের সংখ্যা কি চল্লিশ হবে?

(আমি) বললাম, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, তাহলে লাশ বের করে নাও। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি- ‘কোনো মুসলিম মারা গেলে, তার জানাজায় যদি এমন চল্লিশজন দাঁড়িয়ে যায় যারা আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করে না তবে মহান আল্লাহ তার (মৃতব্যক্তির) অনুকূলে তাদের প্রার্থনা কবূল করেন।’ (মুসলিম)

জীবিতদের কল্যাণ
মৃতব্যক্তির জানাজায় উপস্থিত হওয়া জীবিত মুসলমানের জন্য ফরজে কেফায়া এবং সওয়াবের কাজ। হাদিসে একাধিক বর্ণনায় এসেছে- হজরত সাদ ইবনে ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) র কাছে বসা ছিলেন। এমন সময় হজরত খাব্বাব (রা.) এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন- ‘হে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর! আপনি কি আবু হুরায়রা (রা.) র কথা শুনছেন না?

তিনি বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছেন-‘যে ব্যক্তি জানাজার সঙ্গে ঘর থেকে বের হয় এবং জানাজার নামাজ আদায় করে, অতঃপর দাফন করা পর্যন্ত জানাজার সঙ্গে থাকে, তাকে দুই ক্বিরাত সাওয়াব দান করা হবে। প্রতিটি ক্বিরাত হবে উহুদ পাহাড় সমতুল্য। হজরত ইবনে ওমর (রা.)  এ কথা যাচাই করার জন্য হজরত খাব্বাবকে হজরত আয়েশা (রা.) র কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

হজরত খাব্বাব (রা.)  চলে গেলে ইবনে ওমর (রা.)  মাসজিদের কাঁকর থেকে এক মুষ্টি কাঁকর হাতে নিলেন এবং খাব্বাব ফিরে না আসা পর্যন্ত তা হাতে নিয়ে নড়াচড়া করছিলেন।

হজরত খাব্বাব ফিরে এসে বললেন, ‘হজরত আয়েশা (রা.)  বলেছেন, হজরত আবু হুরায়রা (রা.)  ঠিকই বলেছেন। (তখন) হজরত ইবনু ওমর (রা.) তাঁর (হাতে থাকা) কাকর জমিনের উপর ছুঁড়ে মেরে বললেন- ‘আমরা অবশ্যই বহু সংখ্যক ক্বিরাত বরবাদ করে দিয়েছি।’ (মুসলিম)

- হজরত সাওবান (রা.)  বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ আদায় করে তাকে এক ক্বিরাত সাওয়াব দেয়া হবে। আর সে যদি দাফন কাজে শরিক থাকে তবে ওই ব্যক্তি দুই ক্বিরাত পাবে। এক ক্বিরাত হলো উহুদ পাহাড় সমতুল্য।’ (মুসলিম)

মৃতব্যক্তির সংবাদ প্রচারের গুরুত্ব
হজরত রাফে ইবনে খাদিজ (রা.)  আসরের পর ইন্তেকাল করলে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কে তার মৃত্যু সংবাদ দিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো- তার জানাজা কি এখন পড়া যেতে পারে?

তিনি (হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আশপাশের গ্রামসমূহে খবর না দিয়ে রাফের মতো ব্যক্তির জানাজা পড়া যায় না।’ (বায়হাকি) এ বর্ণনার আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলেন, জানাজার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মৃত্যু সংবাদ দেয়া মোস্তাহাব। তবে জানাজা ছাড়া যদি মৃত ব্যক্তির গুণাগুণ বর্ণনার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর সংবাদ প্রচার ও লোকজন জমায়েত করা হয় তবে তাতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও হুজায়ফা (রা.)  প্রমুখ সাহাবারা নিজেদের মৃত্যু সংবাদ এভাবে প্রচারিত হওয়ার ভয়ে (তাদের) মৃত্যু সংবাদ কাউকে জানানোর ব্যাপারে আগেই নিষেধ করে গেছেন।’ (তিরমিজি) তবে কারো মৃত্যু হলে তার সংবাদ মানুষকে জানানো উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকেও তা প্রমাণিত। হাদিসে এসেছে-

- হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ (সা.)  বাদশা নাজ্জাশির ইন্তেকালের দিন তার মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে জানাজার স্থানে গেলেন, অতঃপর সাহাবায়ে কেরামকে কাতারবন্দি করে চার তাকবিরের সঙ্গে জানাজা আদায় করলেন।’ (বুখারি)

- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি রাতে ইন্তেকাল করলে সাহাবারা তাকে রাতেই দাফন করে দেন। সকালে সংবাদটি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জানানো হলে তিনি বলেন, কেন তোমরা আমাকে (তখন) জানালে না?’ (বুখারি)

মনে রাখতে হবে
জানাজায় বেশি মানুষ উপস্থিত হওয়ায় উভয়ের অনেক উপকারিতা আছে। তবে তা যেন জাহেলি যুগের উদ্দেশ্যে না হয়। সাওয়াবের উদ্দেশ্যে জানাজায় অংশগ্রহণ মোস্তাহাব। একাধিক বর্ণনায় এসেছে-

- ইমাম নববি (রাহ.) বলেন-‘ইসলাম আবির্ভাবের আগে জাহেলি যুগের মতো (মৃত্যুর সংবাদ প্রচার) না করে শুধু জানাজার নামাজের সংবাদ দেয়ার জন্য মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা মোস্তাহাব। কেননা হাদিসে জাহেলি যুগের মতো মৃতের গুণগান গেয়ে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে।’

- হজরত ইবনে হাজার আসকালানি (রাহ.) বলেন, মৃত্যু সংবাদ প্রচার নিষেধ নয়, নিষেধ হল জাহেলি যুগের কর্মকাণ্ড।’

- হজরত ইবরাহিম হালাবি (রাহ.) বলেন, ‘মৃতব্যক্তির গর্ব-গৌরবের উল্লেখ ছাড়া সাধারণভাবে অলিতে-গলিতে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা দোষণীয় নয়। কেননা জাহেলি যুগের প্রচার তো হলো- বিলাপ-আর্তনাদের সঙ্গে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা।’

জানাযার নামাজ:

জানাযার নামাজ একজন ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে বা দলবদ্ধভাবে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা বেজোড় সংখ্যক কাতারে বা সারিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এ নামায আদায় করেন। এটি ৪ তকবিরের নামাজ। দাঁড়িয়ে এ নামাজ আদায় করতে হয় এবং সালাম ফেরানোর মধ্য দিয়ে এ নামায শেষ হয়। সাধারণত জানাযার নামাযের শেষে মুনাজাত বা দোয়া করতে হয় না কারণ ইসলামের প্রতিষ্ঠিত বিধান অনুযায়ী এ নামাযের মাধ্যমেই মৃতের জন্য দোয়া করা হয়। জানাযা শেষে মৃতব্যক্তিকে অবিলম্বে গোরস্থানে নিয়ে যেতে হয় এবং ইসলামী রীতিতে কবর তৈরি করে মাটিতে দাফন করতে হয়।

জানাযার নামাজের ফজিলত

ফরজে কেফায়া হওয়ার কারণে জানাজার নামাজ সমাজের কিছু মানুষ আদায় করলে দায়মুক্ত হওয়া যাবে। তবে, কেউ আদায় না করলে একসঙ্গে সবাই পাপের ভাগীদার হবে। সমস্যা থাকলে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে একি এলাকার অন্য কেউ নামাজ পড়লে গুনাহগার হবে না।

হাদিসে আছে জানাজার নামাজে উহুদ পরিমাণ সাওয়াব আদায় হয়, তাই সুযোগ পেলে এই নামাজ ছাড়া উচিত নয়। এছাড়া একজন প্রতিবেশী হিসেবে, একজন আত্নীয় হিসেবেও এ নামাজ আদায় করা মুসলমানের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

জানাযার নামাজের নিয়ম:

চার তাকবীরের সঙ্গে জানাযার নামাজ আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজে তাকবীর দেয়ার সময় হাত তুলতে হয়, কিন্তু জানাযার নামাজে তাকবীর দেয়ার সময় হাত তোলার প্রয়োজন পড়ে না।

জানাযার নামাজের নিয়ত:

نَوَيْتُ اَنْ اُؤَدِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ تَكْبِيْرَاتِ صَلَوةِ الْجَنَا زَةِ فَرْضَ الْكِفَايَةِ وَالثَّنَا ءُ لِلَّهِ تَعَا لَى وَالصَّلَوةُ عَلَى النَّبِىِّ وَالدُّعَا ءُلِهَذَا الْمَيِّتِ اِقْتِدَتُ بِهَذَا الاِْمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

নিয়তের বাংলা উচ্চারণ: "নাওয়াইতু আন উয়াদ্দিয়া লিল্লাহে তায়ালা আরবা আ তাকবীরাতে ছালাতিল জানাজাতে ফারজুল কেফায়াতে আচ্ছানাউ লিল্লাহি তায়ালা ওয়াচ্ছালাতু আলান্নাবীয়্যে ওয়াদ্দোয়াউ লেহাযাল মাইয়্যেতে এক্কতেদায়িতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতে আললাহু আকবার।"

এখানে নিয়তে ‘লেহাযাল মাইয়্যেতে’ পুরুষ/ছেলে লাশ হলে পড়তে হবে, আর লাশ নারী/মেয়ে হলে ‘লেহাযিহিল মাইয়্যেতে’ বলতে হবে।

নিয়ত আরবিতে করতে না পারলে বাংলায় করলেও চলবে, ‘আমি চার তাকবিরের সহিত ফরজে কিফায়া জানাযার নামাজ কিবলামুখী হয়ে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে মরহুম ব্যক্তির (পুরুষ/মহিলার) জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।’

জানাযার নামাজে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করা হয়। বাংলায় নিয়ত করলে তা বাংলায় বলে অথবা মনে মনে নিয়তে আনলেও চলবে।

নিয়তে তাকবীরে তাহরিমা অর্থাৎ, আল্লাহু আকবার বলার পর হাত তুলে তারপর অন্যান্য নামাজের মতো হাত বেঁধে নিতে হবে। হাত বেধে সানা পড়তে হবে।

আরবিতে সানা:

سُبْحَا نَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ:

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।

সানা পড়ার পরে তাকবীর বলে দরুদ শরীফ পড়তে হবে যেটা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া হয়।

দরুদ শরীফ:

للَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ- اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদি ওয়া আলা আলি মুম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।

দরুদ শরীফ পড়ার পর তৃতীয় তাকবীর আদায় করে জানাযার দোয়া পড়তে হয়।

জানাযার দোয়া:

لَّهُمَّ اغْفِرْلحَيِّنَاوَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَا نَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا ارْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়্যেনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িইবিনা ও ছাগীরিনা ও কাবীরিনা ও যাকারিনা ও উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলামী ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ ফাহু আলাল ঈমান বেরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহীমিন।

তবে নাবালক ছেলের ক্ষেত্রে জানাযার দোয়া পড়তে হবে,

اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وْاَجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাজ আল হুলানা ফারতাও ওয়াজ আল হুলানা আজরাও ওয়া যুখরাঁও ওয়াজ আলহুলানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ্ফায়ান।

নাবালিকা মেয়ের ক্ষেত্রে জানাযার দোয়া পড়তে হবে,

اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرْطًا وَاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًاوَاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَمُشَفَّعَة

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারতাও ওয়াজ আলহা লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়াজ আলহা লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ ফায়ান।

এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে একটু নীরব থেকে ডানে এবং বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

যদি কারো নামাজে আসতে দেরী হয়ে যায়, তবে ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করতে হবে। সম্ভব হলে চার তাকবীর আদায় করে নিতে হবে, তা যদি সম্ভব না হয়, তবে ইমাম সাহবকে অনুসরণ করে সালাম ফিরিয়ে নিয়ে জানাজা নামাজ সম্পন্ন করবে। জানাজা নামাজ জামাতে আদায় করতে হয়, তাই এটি কাজা পড়ার সুযোগ নেই।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার