জাকারিয়া মন্ডলের গ্রন্থে মিথিক্যাল মালয়েশিয়া

Img

মিথিক্যাল মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক রূপ ফুটে উঠেছে ‘পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য’ নামক ভ্রমণ গল্পগ্রন্থে। পশ্চিম মালয়েশিয়া বা মালয় উপদ্বীপ এবং পূর্ব মালয়েশিয়া বা বোর্নিও দ্বীপের অজানা অনেক বর্ণিল উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে বইটিতে। 
বইটির লেখক জাকারিয়া মন্ডল পেশায় সাংবাদিক। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি ঘুরেছেন দক্ষিণ চীন সাগরের পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে। তারপর সরেজমিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে কিংবদন্তি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, সাহিত্য ও সভ্যতার গল্প মিশিয়ে নিজস্ব ঢঙে বুনেছেন হৃদয়গ্রাহী ভ্রমণ সাহিত্য। ফাঁকে ফাঁকে বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, মহাপুরাণ, উপপুরাণের আখ্যান ও উদ্ধৃতি বইটিকে আরও অসাধারণ করে তুলেছে।
পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য গ্রন্থে স্থান পাওয়া ১২টি গল্পের ছয়টিই মালয়েশিয়ার। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগরের পশ্চিমপাড়ের মালয় উপদ্বীপের গল্প পাঁচটি, অবশিষ্টটি পূর্ব পাড়ের বোর্নিও দ্বীপের। এছাড়া ত্রিপুরার চারটি এবং নেপাল ও বাহরাইনের একটি করে গল্প আছে।
মালয়েশিয়ার ‘ক্ল্যাং তীরের কভিল’ গল্পে কুয়ালালামপুরের জন্ম ও বেড়ে ওঠার অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। ‘বাতু পাহাড়ে মুরুগান’ ও ‘গুহাজুড়ে রামায়ণ’ গল্পে সমাবেশ ঘটেছে পৌরাণিক মহাভারতের। ‘মালয়েশিয়ায় মহামারিয়াম্মান’ গল্পে তামিল মাতৃদেবী ছাড়াও সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ নানা আখ্যানে বিবৃত। ‘জোহরের ভালোবাসা মন্দিরে’ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা। এছাড়া বোর্নিও দ্বীপের আত্মার উপাসক মুসলমান আদিবাসিদের গল্প ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে। 
পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য গ্রন্থে অনেক কঠিন বিষয়কে সহজ বুননে উপস্থাপন করেছেন জাকারিয়া মন্ডল। তার বিবরণ সাবলীলভাবে এগিয়ে চলে স্রোতস্বিনীর মতো। একবার পাঠের মধ্যে ঢুকে পড়লে বুঁদ হয়ে যেতে হয়। 
সব গল্পেই প্রাসঙ্গিক ও দুর্লভ আলোকচিত্রের ব্যবহার বইটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। সহায়িকা হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন গ্রন্থ ও সূত্রের উদ্ধৃতি গ্রন্থটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে নি:সন্দেহে। চলতি বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি প্রকাশ পায়। প্রকাশক শুদ্ধপ্রকাশ। চার রঙে ছাপা বইটির দাম রাখা হয়েছে ২৫০ টাকা। বিভিন্ন অভিজাত বই এর দোকান ছাড়াও অনলাইনে রকমারি ও ইত্যাদি শপে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

এরশাদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা রোববার এক শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গঠনমূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও অন্যান্য নেতকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রোববার পৌনে ৮টায় ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদ মারা যান। দীর্ঘদিন যাবত এরশাদ রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার