জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, কক্সবাজারের ২৫ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

Img

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ৬ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে বক্তব্য দেওয়ার জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র নিয়ে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে গতকাল মঙ্গলবার চিঠি দেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।

ওই ৫ কর্মকর্তা হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মক্তার, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেন, কানুনগো নুরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মো. জিয়াউর রহমান ও আশরাফুজ্জামান।

এছাড়া অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়া আবদুল বাতেনকে পৃথক চিঠিতে ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজের এবং স্ত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র, মূল পাসপোর্ট, ২০১৬ সাল থেকে ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং আয়কর নথি আনতে বলা হয়েছে।

এর আগে কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে আরো ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, কানুনগো, সার্ভেয়ার, একজন জনপ্রতিনিধি ও কক্সবাজার পৌর সভার সচিবসহ ১৯ জনকে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য পৃথক পৃথক চিঠি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। তাদেরকে ১৫ নভেম্বর হতে ২২ নভেম্বরের মধ্যে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

তারা হলেন- কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এএলও) মোশাররফ হোসেন, বিজয় কুমার সিংহ, কানুনগো আবদুল খালেক, আবদুর রহমান, বসন্ত কুমার চাকমা, সার্ভেয়ার রাসেল মাহমুদ মজুমদার, কবির আহমেদ, কেশব লাল দে, পরিমল চন্দ্র দাশ, সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, মিশুক চাকমা, আতাউল হক, পিকলু দাশ, তহশীলদার জয়নাল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী এহসান কুতুবী, আবুল হাশেম, কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ এবং কক্সবাজার পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের অভিযানে ঘুষের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকাসহ গ্রেপ্তার হন কক্সবাজার এলএ শাখার সার্ভেয়ার ওয়াশিম খান। পরে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুদকের মামলা তদন্ত শুরু হলে কক্সবাজার জুড়ে এলএ শাখার দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার ৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, তাঁর ছেলেসহ কক্সবাজারের দুইজন সাংবাদিক, কয়েকজন আইনজীবী, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলরসহ প্রায় অর্ধশত দালালের নাম উঠে আসে। তাছাড় আসামিদের স্বীকারোক্তিতে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বর্তমান ও সাবেক ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে অধিগ্রহণের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে কক্সবাজার ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের প্রস্তাবিত জমি পৌর মেয়র ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান নিজের স্ত্রী ও শ্যালকের নামে কিনে নেন। পরে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে ৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে নেন তিনি। এ নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীতে ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম; নেপথ্যে স্ত্রী-শ্যালকসহ পৌর মেয়র, অনুসন্ধানে দুদক; কক্সবাজার ভু-উপরস্থ পানি শোধনাগার স্থাপন প্রকল্প’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর কক্সবাজার জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর ওই টাকার মধ্যে শ্যালক মিজানুর রহমানের ব্যাংক হিসেব থেকে ৪ কোটি টাকা জব্ধ করে দুদক। সর্বশেষ গতকাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে তলব করে দুদক।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার