জয়পুরহাটে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের ৭ দালাল গ্রেফতার

Img

জয়পুরহাট জেলার কালাই থানা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ অসহায় ও গরীব প্রকৃতির লোকজন (পুরুষ/ মহিলা) দের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মানবদেহের কিডনি বিক্রয়ে প্রলুব্ধ করে।

প্রতারণার শিকার ভিকটিমরা পরবর্তীতে দালালে পরিনত হয় এবং তাদের আত্নীয়-স্বজনসহ  এলাকার নিরীহ গরীব লোকজনদেরকে কিডনি বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় এবং তাদের অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য প্রাথমিক অবস্থায় ভিকটিমদের ১৫,০০০-২০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ধার/ সুদের উপর দেয়।

কিছু দিন পরে পরিকল্পনা মোতাবেক টাকা ফেরত চায় এবং টাকা ফেরত দিতে না পারলে কিডনি বিক্রয়ের জন্য বাধ্য করে। পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কতিপয় অসাধু ডাক্তারের মাধ্যমে ভিকটিমদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের কিডনি অপসারণ করায়।

অতঃপর ভিকটিমকে নাম মাত্র চিকিৎসা শেষে তাদের হাতে ১,০০,০০০/২,০০,০০০ টাকা দিয়ে সারা জীবনের মতো অঙ্গহানী করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এই দালাল চক্রকে সনাক্ত করার জন্য জেলা পুলিশ, জয়পুরহাট গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সাম্প্রতিক সময়ে কালাই থানা এলাকা হতে কয়েকজন লোক নিখোঁজ হয়  এবং বর্তমানে তারা কালাই এলাকার কিডনি চক্রের প্রধান দালাল জনৈক কাওছার এবং সাত্তার এর মাধ্যমে দুবাই ও ভারতে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতিকালে কালাই থানা এলাকার পাশাপাশি পাঁচবিবি থানা এলাকাতেও কিডনি বিক্রয়ের জন্য অসহায় গরীব লোকজনকে প্রলুব্ধ করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্যে পাওয়া যায়।

কিডনি দালাল চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে জয়পুরহাট জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মাছুম আহাম্মদ ভূঞা, পিপিএম-সেবা মহোদয়ের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা, জয়পুরহাট-এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল কালাই থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের প্রধান জনৈক কাওছার এবং সাত্তার এর সহযোগী এলাকার দালাল চক্র এবং ঘটনার সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ১। মোঃ সাহারুল (৩৮), পিতা-মৃত সিরাজ, সাং-থল, থানা-কালাই, ২। মোঃ ফরহাদ হোসেন  চপল (৩১), পিতা-মোঃ ফরিদুল ইসলাম, সাং-উলিপুর, থানা-কালাই, ৩। মোশাররফ হোসেন (৫৪), পিতা-মৃত মফিজ উদ্দিন, সাং-জয়পুর বহুতী, থানা-কালাই, ৪। মোঃ শাহারুল ইসলাম (৩৫), পিতা-মোঃ জাহান আলম, সাং-ভেরেন্ডি, থানা-কালাই, ৫। মোঃ মোকাররম (৫৪), পিতা-মৃত মোবারক, সাং-জয়পুর বহুতী, থানা-কালাই, ৬। মোঃ সাইদুল ফকির (৪৫), পিতা-মৃত বছির উদ্দিন ফকির, সাং-দুর্গাপুর, থানা-কালাই, সর্ব জেলা-জয়পুরহাট এবং পাঁচবিবি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কিডনি চক্রের দালাল ৭। মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৪০), পিতা-মৃত আঃ সাত্তার, সাং-হানাইল বম্বু, থানা-জয়পুরহাট, বর্তমান সাং-গোড়না আবাসন, থানা-পাঁচবিবি, জেলা-জয়পুরহাটদের গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখিত দালাল চক্রের মধ্য হতে মোশাররফ হোসেন ২০০৯ সালে, মোঃ শাহারুল ইসলাম ২০০৯ সালে, মোঃ মোকাররম ২০০৬ সালে, মোঃ সাইদুল ফকির ২০১৬ সালে তাদের কিডনি বিক্রয় করে এবং ফরহাদ হোসেন  চপল, মোঃ সাদ্দাম, মোঃ শাহারুলগণ কিডনি বিক্রয়ের জন্য ভারতে গেলেও তারা ভয় পেয়ে কৌশলে পালিয়ে  আসে।

পরবর্তীতে একই প্রক্রিয়ায় সকলেই কিডনি বিক্রয় চক্রের দালালে পরিনত হয়। গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যেকেই এই দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য। উল্লেখিত দালাল চক্র এলাকার অসহায় গরীব লোকদের সংগ্রহপূর্বক প্রলুব্ধ করে ঢাকায় অবস্থানরত কাওছার ও সাত্তারদ্বয়ের নিকট প্রেরণ করে থাকে।

উল্লেখিত দালাল চক্রের সদস্য ছাড়াও অন্যান্য দালাল চক্রের সদস্যদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে। 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার