জগন্নাথপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি

Img

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মহামারি করোনাকালীন সময়ে দিন দিন অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলছে সংঘর্ষের ঘটনা। চলতি মে মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পারিবারিক দ্বন্দ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৫৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও নিহত হয়েছেন ৩ জন। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা গেছে।

নিহতরা হলেন- মিরপুর ইউনিয়নের আটঘর গ্রামের সাদিকুল ইসলাম খান(৫০), আশারকান্দি ইউনিয়নের মিলিক গ্রামের তখলিছ মিয়া (৫৮), কলকলিয়া ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের রোয়াব আলী (৫৫)। এমন পরিস্থিতিতেই সচেতন মহলে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানায়, চলতি মে মাসে সর্বোচ্চ ৩৫৭ জন বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। যা অন্য মাসের তুলনায় তিনগুন বেশি। এদের মধ্যে ৪৩ জনকে সিলেটে রেফার করা হয়েছে। ২৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে প্রতি মাসে ৮০/৯০ জন আহত হয়ে এসেছেন চিকিৎসা নিতে। 

স্থানীয়রা বলেন, একদিকে গোটা পৃথিবীজুড়ে চলছে করোনা মহামারি আতঙ্ক, আমাদের দেশেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। এমন অবস্থায় মানুষ উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় সময় পাড় করছেন। এরমধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একটু বাকবিতণ্ডা হতে না হতেই দা, লাঠি, টেঁটা, ফলা ও বল্লমের মতো দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঘটছে সংঘর্ষের ঘটনা। ঈদের জামাতে কিংবা মসজিদে ইমামের থাকা না থাকা নিয়ে সংঘর্ষে পবিত্র স্থানকে রক্তাক্ত করতেও কার্পন্য বোধ করছে না লোকজন। যুগ যুগ ধরে চলা এসব গ্রাম্য সংঘর্ষে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। আবার আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকে। এমন অবস্থা থাকলে তো গোটা জগন্নাথপুরে শান্তির পরিবর্তে আরো বড় ধরেনর সংঘর্ষে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানসহ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল। 

জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তোফাজ্জুল হোসেন সুমন বলেন, আমরা একটা কঠিন সময় অতিবাহিত করে যাচ্ছি। এর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারামারি-হানাহানির ঘটনা মোটেও কাম্য নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ জগন্নাথপুর উপজেলা চাই। 

এমন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি যেনো আর না ঘটে সেজন্য সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।

এনিয়ে কথা হয় জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম মুন্নার সাথে। তিনি বলেন, মহামারি করোনা পরিস্থিতেই এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সময়ে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, যেনো অদৃশ্য এই মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করেন। আমরা সংঘাত-সংঘর্ষ দেখতে চাইনা, সুন্দর জগন্নাথপুর উপজেলা গড়তে চাই। 

যেসব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে দ্রুত তা সমাধানের জন্য এগিয়ে আসতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুধন ধর বলেন, বৈশ্বিক এমন দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে যারা এরূপ মারামারি করতে পারে তাদের বিষয়ে বলার কোন ভাষা আমার জানা নেই। শুধু এটুকুই বলব বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা- কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, এলাকার স্বেচ্ছাসেবক টিম সহ অনেকেই আপনাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। উনারা হয়তো উনাদের পরিবারের কথা চিন্তা করারও সময় পাচ্ছেন না। উনাদের এই আত্নত্যাগ আপনাদের মনে দাগ না কাটলেও অন্তত নিজের পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা করে এসব মারামারি থেকে দয়া করে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন নিজে না বাঁচলে আপনার পরিবারকে দেখার কেউ থাকবে না আবার আপনার উপার্জিত সম্পত্তিও হয়তো নিজে ভোগ করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মারামারি ঘটনা করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়াবে। এখনই সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা উচিৎ।

স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধি সহ সবার সমন্বয়ে এখনই সমাজে আরও সচেতনতা তৈরির আহবান জানান ডা. মধু।

জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৫৭ জন আহত হওয়ার সঠিক পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। আর সংঘর্ষের ঘটনায় মারা গেছে ১ জন। বাকী দু’জনের একজন ভাইয়ে-ভাইয়ে হাতাহাতির ঘটনায় আর অন্যজন সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা গেছেন। মে মাসে থানায় দুটি হত্যা মামলাসহ ২৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮/২০টি মামলা হবে মারামারির ঘটনায়। এসব মামলায় অনেকেই গ্রেফতারও হয়েছেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার