ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ

Img

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সম্প্রতি গঠন হওয়া কমিটিতে অছাত্র ও ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে অবমাননা করে কমিটি গঠনের এ অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, ৯ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সদর উপজেলা, পৌর শাখাসহ ছাত্রদলের ১২টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করেন। ঘোষণার আগে কমিটির সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা না করে সাংগঠনিক টিমের কাছে তথ্য গোপন করে বিবাহিত, চাকরিজীবী, অছাত্র, ছাত্রলীগ এবং দেশের বাইরে অবস্থান করা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৮ সালের জুন মাসে ৮ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ আড়াই বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পরিচালনা না করে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যে কমিটি ঘোষণা করেছেন তা ছাত্রলীগ, অছাত্র, বিবাহিত ও চাকরিজীবীতে ভরা।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অভিযোগগুলো বিভাগীয় টিম অবহিত না করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তথ্য গোপন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের রেখে কমিটি ঘোষণা করায় কমিটির সদর উপজেলার পৌর শাখার পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে চারজন ও পাঁচ সদস্য এবং একই উপজেলা শাখার তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও তিন সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সদর উপজেলার অধীন ১৪টি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর শাখার ১৫টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মীম ফজলে আজিম, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেজর ডালিম, পৌর শাখার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিলুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কেন্দ্রের নির্দেশে গঠনতন্ত্র মেনেই কমিটিগুলো করা হয়েছে। তার দাবি, যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা সত্যিই দলের ভালো চাইলে কমিটি নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তাদের বিষয়টি জানাতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো অনিয়ম না পেয়ে দলবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছে একটি মহল।

তিনি আরও বলেন, ৯ জানুয়ারি আব্দুল আলিম নামের এক নেতা বিবাহিত হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে কমিটিতে স্থান পাওয়ার পর বিষয়টি তারা জানতে পেরে পরদিন ১০ জানুয়ারি অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদি এ ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনকারীরা দেখাতে পারত, তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাহিদ সিকদার জানান, সম্প্রতি তাদের এক কর্মী ফাহাদুজ্জামান ছাত্রদলের কমিটিতে অনুপ্রবেশ করার অভিযোগ পেয়ে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এর পরও এ ধরনের অভিযোগ এলে ছাত্রদল বহিস্কার করুক বা না করুক ছাত্রলীগ সাংগঠনিক ব্যবস্থা অবশ্যই নেবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার