চুয়াডাঙ্গায় ঘুষ ছাড়াই ৪৬ যুবক-যুবতীর পুলিশে চাকরি

Img

টাকা ছাড়া চাকরি, তাও আবার পুলিশে? এমনটি কি ভাবা যায়? বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। কিন্তু এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গায়। সেখানে জেলা পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগে ৪৬ জন যুবক-যুবতী চাকরি পেয়েছেন মাত্র ১০৩ টাকা খরচে। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে জেলাজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়েও চলছে আলোচনার ঝড়।

নাম স্বাধীন। বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেদারগঞ্জ এলাকায়। শহরের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসার চালান নিজেই। বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবাসহ ছয়জনের পরিবার। কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি পুলিশে চাকরি করবেন তিনি। তাও আবার কোনো টাকা ছাড়াই। এ যেন স্বাধীনের স্বপ্নপূরণের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ভাবতে পারছে না তার পরিবারও।

শুধু স্বাধীন নন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে এমন দরিদ্র পরিবারের ৪৬ জন যুবক-যুবতীর চাকরি হয়েছে। এদের কেউ মাঠে শ্রমিকের কাজ করেন, কেউবা আবার ঠ্যালা বা তিন চাকার যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পুলিশের চাকরিতে রীতিমতো এমন পরিবর্তনে হতবাক চাকরি পাওয়া জেলা শহরের সাদেক আলী মল্লিকপাড়ার সারজিনা খাতুন। তিনি জানান, সততার এমন নিদর্শন কর্মক্ষেত্রে তারাও নিজেদের উজাড় করে দেবেন দেশ তথা জাতির জন্য।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত ২২ জুন কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য সহস্রাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। যাচাই-বাছাই এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৬ জুন ৪৬ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, সেটা শুধু পুলিশ বাহিনীতে নয়, সব সরকারি চাকরিতেই এ ধারা অব্যাহত থাকুক, এমনটাই প্রত্যাশা এ শিক্ষকের।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) জানান, ‘মাত্র ১০৩ টাকায় দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের চাকরি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি।’ তিনি আরো জানান, চেষ্টা করা হয়েছে সব চাপ মোকাবিলা করে একটি সুন্দর নিয়োগ সম্পন্ন করার।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার