চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮৩

Img

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার চারশ ৮৩ জনে।

শুক্রবার সে দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুবেই প্রদেশে আক্রান্তের হার কমেছে। গতকাল যেখানে জানানো হয়েছিল যে, আগের দিন বুধবার ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে আজ জানানো হলো- গত বৃহস্পতিবার ১১৬ জন মারা গেছে।

এছাড়া আগের দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার আটশ ৪০ জন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে  দাবি করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে আজ শুক্রবার জানানো হলো- গতকাল আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার আটশ ২৩ জন।

পূর্ববর্তী সংবাদ

অবাধে শামুখ নিধন: প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র হুমকীর মুখে

প্রাকৃতিক ফিল্টার নামে খ্যাত শামুক মণিরামপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চলে  অবাধে ধরা ও ব্যবহার করা হচ্ছে; ফলে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র হুমকীর মুখে পড়ছে। এর যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অচিরেই এ প্রজাতির জীব প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হবে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা।

খোঁজ খবরে জানা যায়, শামুক মোলাস্কা পরবের গ্যাস্ট্রোপোডা শ্রেণির নরমদেহী নিরীহ প্রাণী। উপ-উষ্ণ মন্ডলীয় মৌসুমী জলবায়ূ এবং সমৃদ্ধ গাছপালা, প্রাকৃতিক নদী, জলাভূমি, কৃত্রিম হ্রদ, বদ্ধ জলাশয় এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে নানা প্রজাতির শামুক দেখা যায়। এদের মধ্যে পাইলা গ্লোবাসা বা আপেল শামুক প্রকৃতি থেকে মানুষ অবাধে উজাড় করে দিচ্ছে বহুমাতৃক ব্যবহারে। আপেল শামুকের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি জমিতে থাকা ক্ষতিকারক ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, জৈবকণা, কীট-পতঙ্গ শামুক খেয়ে তা বজ্য হিসেবে মাটির উরবরতা বৃদ্ধি করে। শামুক গাছের আধাপাকা পাতা খায় এবং জীব বস্তুকে মাটির উপাদানে পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

তাছাড়া শামুক প্রকৃতির ইকো সিষ্টেম রক্ষায় ভূমিকা রাখে। শামুকের প্রকৃতিগত ভূমিকা ছাড়াও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও অধিক। যশোরের মণিরামপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে গড়ে উঠা মৎস্য খামারে চাষিরা বিশেষ করে চিংড়িমাছসহ অন্যান্য মাছের প্রথম শ্রেণির খাদ্য হিসেবে শামুকের নরম মাংসল অংশ (স্থানীয় ভাষায় গেঁথো) এবং শামুকের খোলস পুড়িয়ে তা দিয়ে চুন তৈরি করে খামারে/জমিতে উরবরতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করে থাকে। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ বলে বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ এটিকে সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। কিছু কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে শামুক ব্যবহার হয়ে থাকে। তাছাড়া পোল্ট্রি ফিড তৈরিতেও শামুকের জুড়ি নেই। সরবোপরি শামুকের গুরুত্ব অপরিসীম।

মণিরামপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার রিপন কুমার ঘোষ বলেন, চাহিদার তুলনায় অন্ততঃ ৫গুণ মৎস্য উৎপাদন হয় মণিরামপুরে। এখানে অধিকাংশ চাষিরা সাদা মাছ চাষ করে থাকেন। সাধারণতঃ চিংড়ি মাছের ঘেরে চাষিরা শামুকের খাবার ব্যবহার করে। তবে শামুকের ব্যবহার মণিরামপুরে কম।

উপজেলার ভরতপুর গ্রামের মৎস্য চাষি আনছার গাজী বলেন, আমরা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, মাগুরা প্রভৃতি এলাকা থেকে কখনো ওজন হিসেবে আবার কখনো বস্তা হিসেবে শামুক সংগ্রহ করি। যার মাংসল অংশটুকু মাছের খাদ্য হিসেবে খামারে দেই। বাকি খোলস অংশ চুন প্রস্তুতকারকদের কাছে বস্তা বা ওজনে (মন দরে) বিক্রি করি। আবার সেই উৎপাদিত চুন কিনে জমি বা খামারের উর্বতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে থাকি। চিংড়ি মাছের জন্য এটি প্রথম শ্রেণির এবং ভালমানের প্রধান খাবার।

শামুকের খোলস থেকে চুন প্রস্তুতকারক উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সুভাষ বিশ্বাস বলেন, শামুকের খোলস বা খোসা বস্তা প্রতি ৬৫০-৭৫০টাকা, আবার মণ প্রতি ৫৫০-৬৫০ টাকা দরে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে জিরো পাওয়ারের বোলার মেশিনের সাহায্যে তা পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হয়। তৈরি চুন খামার বা জমির মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়।

যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার জানান, এভাবে অবাধে যথেচ্ছ শামুক আহরণের ফলে (বিশেষ করে প্রজনন ক্ষেত্র থেকে মা শামুক ডিমগুচ্ছ থেকে তুলে নিলে) এক সময় এর শূন্যতা দেখা দিবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। জীব হিসেবে স্বাধীন ভাবে মুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার সবার আছে। তিনি আরও জানান, শামুক নিরীহ প্রাণী। এর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এই শামুকের প্রতি আমরা অন্যায় আচরণ করছি। এর যথেচ্ছ ও অবাধ ব্যবহার যদি কমানো না যায় তাহলে সেদিন বেশি দুরে নয়, যেদিন এ প্রজাতির প্রণি জীব বৈচিত্রে প্রকৃতি থেকে অতল গহবরে হারিয়ে যাবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার