চমেকে মারামারি, ১১ ছাত্র গ্রেপ্তার

Img

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গতকাল শুক্রবার কর্মবিরতি পালন করেছেন। কর্মবিরতি চলাকালে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা দেন প্রতিবাদকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে কলেজ ছাত্রাবাসে দু’গ্রুপের মারামারির জেরে গোলজার মোড়ে তিনজনের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ২১জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে নগরীর চকবাজার থানায় মামলা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শাহরিয়ার ইসলাম ইমন (২৪), খোরশেদ বিন মেহেদী (২৫), ওবায়দুল হক (২৪), বুলবুল আহমেদ (২৪), আতাউল্লাহ বুখারি (২৩), কে এম তানভির (২৪), ইমন সিকদার (২৩), মাহমুদুল হাসান (২৮), অভিজিৎ দাশ (২৩), তৌফিকুর রহমান (২৮) ও সরওয়ার ফারুকি (২৫)। তাঁরা চমেকের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে গত রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে নগরীর চকবাজার থানার চট্টেশ্বরী সড়কে চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে আধিপত্য নিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং কলেজে বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রদের দুইগ্রুপে মারামারি হয়। এ ঘটনার জের ধরে ছাত্রাবাস সংলগ্ন গুলজার মোড়ে হামলার শিকার হন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) আহ্বায়ক ডা. ওসমান ফরহাদ ও চমেক ছাত্র সংসদের (চমেকসু) সাহিত্য সম্পাদক সানি হাসনাইন প্রান্তিকসহ তিনজন। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। সকাল থেকে তারা ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ শুরু করেন। প্রতিবাদকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ফটকেও তারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পাশাপাশি হাসপাতাল সীমানার মধ্যে রশি টেনে লোকজনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেয়া হয়। এতে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ওষুধ-পথ্য নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতার মুখে ভোগান্তিতে পড়ে স্বজনরা।

এদিকে গোলজার মোড়ে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ডা. এম এ আউয়াল রাফি বাদি হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, খোরশেদ বিন মেহেদী, ইমন শিকদার, তৌফিকুর রহমান, ইশতি, কে এম তানভীর, বুলবুল আহমেদ, ওবায়দুল হক, শাহরিয়ার ইসলাম ইমন, মুশফিকুন ইসলাম আরাফ, রিয়াজুল ইসলাম জয়, অভিজিৎ দাশ, ফাহাদুল ইসলাম, আতাউল্লাহ বুখারি, জামশেদুল ইসলাম, হুজায়ফা কবির পিয়াল, কনক দেবনাথ, সাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ইমতিয়াজ আলম, সাইফ উল্লাহ ও নিবরাজ হোসাইন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব তাজওয়ার রহমান খান বলেন, বৃহস্পতিবার ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. ওসমান গনি ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রসংসদের সাহিত্য সম্পাদক সানি হাসনাইন প্রান্তিকের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুইয়া বলেন, মারামারির ঘটনা চকবাজারে হয়েছে। কিন্তু ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ধর্মঘট পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে এখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘চকবাজারে মারামারির ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের শুক্রবারই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গুলজার মোড়ের ঘটনায় মামলা হলেও মেডিকেল হোস্টেলের ঘটনায় দুই পক্ষে দুইটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগে দীর্ঘদিন ধরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের আধিপত্য ছিল। আ জ ম নাছির মেয়র পদ ছাড়ার আগে থেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী পরিচয়ে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছে।

এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবীর জানান, ছাত্রাবাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাডেমিক কাউন্সিলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন। আগামী সোমবার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার