চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা হয়নি এক শতাংশও

বিষয়: করোনাভাইরাস
Img

প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই নমুনা পরীক্ষার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যার কারণ, যে কোন সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচতে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ রোগী শনাক্ত করা।

দেশের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে নমুনা পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামেও। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নমুনা পরীক্ষার তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশও পরীক্ষার আওতায় আসতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়াতে জোর তাগিদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। 

তথ্য মতে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পর চট্টগ্রামে প্রথম নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় গত ২৫ মার্চ। ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) ল্যাবে সর্বপ্রথম পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করলেও, ধীরে ধীরে চট্টগ্রামে বর্তমানে ৬টি ল্যাব বিদ্যমান আছে। যাদের প্রতিদিন কমপক্ষে ২ হাজারের অধিক পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। কিন্তু তার অর্ধেকের চেয়ে কম পরীক্ষা করে আসছে এসব ল্যাব। যদিও গত একসপ্তাহ থেকে পরীক্ষার সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তাও কম। কিন্তু করোনা পরীক্ষার ল্যাবের সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না মোট পরীক্ষার সংখ্যা।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার পর নগরীসহ চট্টগ্রাম জেলায় গতকাল শনিবার পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২৬ হাজার ৯২১ জনের। যাদের মাধ্যে মহানগরীর রয়েছেন ১৭ হাজার ৮২ জন। যা মোট নমুনা পরীক্ষার ৬৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। যদিও চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বশেষ জরিপের তথ্যে ৩০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে। এরবাইরে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যে বর্তমানে বাস করছেন ৭০ লাখ মানুষ। সে হিসেবে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষার আওতায় এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ মানুষ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যা পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার চেয়ে আরও কয়েকগুণ বেশি নমুনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে। এত অল্প পরিমাণ পরীক্ষা করে  করোনার বিস্তৃতি কতটা, তা বোঝা অসম্ভব। পরীক্ষার পরিমাণ যদি না বাড়ে সামনের দিনগুলোতে চট্টগ্রামে আরও বেশি সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা তাদের।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা কমিটির আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে করোনার হটস্পট হিসেবে চট্টগ্রামের অবস্থান। রোগটি নিয়ন্ত্রণের প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে রোগী শনাক্তকরণ। কিন্তু সেটা অনুপাতের তুলনায় খুবই কম। সংক্রমণ ঠেকাতে হলে অবশ্যই নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ বাড়াতে হবে। যথাসম্ভব দ্রুত রোগীদের শনাক্ত করা না গেলে রোগটি আরও অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার পরমার্শ এ বিশেষজ্ঞের।’

এদিকে, প্রয়োজনের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘যে পরিমাণ পরীক্ষা হওয়া দরকার, জনবল ও অন্যান্য কারণে তা হচ্ছে না। যদিও পূর্বের চেয়ে ল্যাবের সংখ্যা ও নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। সামনেও তা বাড়াতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বাড়বে। একই সাথে সাধারণ মানুষ যেন সহজে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলও জানতে পারে সে বিষয়টির দিকেও নজর রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।’

প্রতিক্রিয়া (৯) মন্তব্য (০) শেয়ার (৬)