চট্টগ্রামে টিকা পেলেন নিবন্ধনের ২৮%

বিষয়: করোনাভাইরাস
Img

আট মাস আগে যখন দেশে টিকাদান শুরু হয়, তখনও করোনা সুরক্ষার টিকা গ্রহণে অনীহা ছিল সাধারণ মানুষের মাঝে। যদিও টিকাদান শুরুর পর ভ্রান্ত ধারণা বদলে গিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সকল শ্রেণীর মানুষ। এরমধ্যে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেই ইতোমধ্যে টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আর তাদের ৪৮ শতাংশের বেশি প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। আর মোট জনসংখ্যার হিসেবে ২০ শতাংশ মানুষই টিকার আওতায় চলে এসেছেন ইতোমধ্যে।

তথ্য বলছে, শুধুমাত্র গেল তিন মাসেই বড় একটি অংশকেই টিকার আওতায় আনা হয়েছে। টিকা গ্রহণকারী ২০ শতাংশের মধ্যে পুরোপুরি দুই ডোজে তথা টিকা সম্পন্নকারীর অংশ ১২ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ নিবন্ধনের ২৮ শতাংশের বেশি সম্পন্ন করেছেন দুই ডোজের টিকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অজ্ঞাত করোনার সংক্রমণ নিয়ে গেল ১৯ মাস এ অঞ্চলের মানুষ যুদ্ধ করলেও অবশেষে মুক্তির পথ যেন হাতছানি দিয়েছে। এরইমধ্যে গতকাল সংক্রমণ হারও কমে এক শতাংশের নিচে এসেছে। সহনীয় হয়ে ওঠেছে গড় সংক্রমণ হারও। যার কারণ হিসেবেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, টিকা গ্রহণের প্রভাবেই এ হার কমতে শুরু করেছে। তবে পুরোপুরি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানার সঙ্গে আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে সকলকে টিকা প্রদানের তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া গণটিকাদানের পর থেকে গত রবিবার পর্যন্ত সুরক্ষা অ্যাপস ও অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ২৩৫ জন। আর তাদের মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন ১৯ লাখ ৫২ হাজার ২৩৫ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৫ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসেবে, নগরীসহ চট্টগ্রাম জেলায় মোট জনসংখ্যা ৯৫ লাখ ৫১ হাজার ৬০৫। ইপিআই মাইক্রোপ্ল্যানের অনুসারে এ জনসংখ্যার হিসেব করা হয়। এ জনসংখ্যার মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৯৭৭ জন এবং উপজেলায় ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৮ জন রয়েছেন। জনসংখ্যার এ হিসেবে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণকারীর হার ২০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণকারীর হার ১২ দশমিক ০২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, প্রথম দিকে টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরণের ভয় ছিল। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। টিকাদান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি কেন্দ্রেই মানুষের ভিড় বাড়ছে। দিনদিন নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়েছে। চট্টগ্রামের বড় অংশই ইতোমধ্যে টিকার আওতায় চলে এসেছে। আশা রাখছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকিদেরও টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার