চট্টগ্রামে কাল থেকেই করোনা রোগীর ডায়ালাইসিস সেবা

বিষয়: করোনাভাইরাস
Img

কিডনি রোগের জটিলতায় ভুগতে থাকা করোনা রোগীর ডায়ালাইসিসের সংকট অবশেষে কাটছে চট্টগ্রামে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রয়োজন, সেসব রোগীদের জন্য আলাদা করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালটির নিচতলায় করোনা ইউনিটেই প্রাথমিক ভাবে দুটি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। শনিবারের (আজ) মধ্যেই মেশিন দুটি বসানোর কাজ শেষ হবে। এতে করে রোববার (আগামীকাল) থেকেই করোনা রোগীরা এখানে ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে করোনা রোগীদের জন্য প্রথম কোন হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, শনিবারের মধ্যে কাজ শেষ করে রোববার থেকেই করোনা রোগীদের এখানে ডায়ালাইসিস সেবা দিতে পারবো বলে আমরা আশা করছি। একটি মেশিনে একজন রোগীর ডায়ালাইসিসে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় দরকার হয়। সেভাবে হিসেব করলে একটি মেশিনে সারাদিনে অন্তত ৫ জন রোগীর ডায়ালাইসিস করা কঠিন নয়। আর দুটি মেশিন হওয়ায় দিনে অন্তত ১০ জন করোনা রোগীর এখানে ডায়ালাইসিস করা যাবে। প্রাথমিক ভাবে এই সুযোগও কম নয় বলে মনে করেন হাসপাতাল পরিচালক।

হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, করোনা ইউনিটে স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৫টি হেমো ডায়ালাইসিস মেশিন পায় চমেক হাসপাতাল। কিন্তু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন জটিলতায় এসব মেশিন বসানো যাচ্ছিল না। সর্বশেষ চট্টগ্রামের বাইরে থেকে কাজের লোকজন ম্যানেজ করে এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানোর কাজ শুরু হয়। তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রাথমিক ভাবে দুটি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা চালু করতে যাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন।

আরো ৫০ শয্যা বাড়ানো হচ্ছে : হাসপাতালের আলাদা ইউনিটে একশো শয্যায় বর্তমানে করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবা চলছে। কিন্তু একশো শয্যার স্থলে দৈনিক প্রায় দেড়শ রোগী ভর্তি থাকছে এখানে। শয্যার সংকুলান না হওয়ায় বাকি রোগীদের থাকতে হচ্ছে ফ্লোরে। এমন পরিস্থিতিতে একশো শয্যার সাথে আরো ৫০টি শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, করোনা ইউনিটে বর্তমানে একশো শয্যায় চিকিৎসা চলমান। কিন্তু রোগীর চাপ খুব বেশি। তাই আরো ৫০টি শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এসব শয্যা যুক্ত করা হবে।

শয্যার পাশাপাশি রোগীরা যাতে অক্সিজেন সাপোর্ট পায়, সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, কোভিড আক্রান্ত রোগীর জন্য অক্সিজেন সাপোর্ট খুব বেশি অপরিহার্য। সেটি বিবেচনায় নিয়ে শুরুতেই আমরা সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজ শেষ করেছিলাম। বর্তমানে একশোটি শয্যা থাকলেও প্রায় দেড়শো রোগীর অক্সিজেন সাপোর্ট পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আরো বাড়িয়ে যাতে অন্তত দুশো রোগী অক্সিজেন সাপোর্ট পেতে পারে, আমরা সে ব্যবস্থাটা করছি।

প্রসঙ্গত, হাসপাতালের নিচতলায় জরুরি বিভাগের পার্শ্ববর্তী তিনটি ওয়ার্ড (ক্যাজুয়াল্টি, ফিজিক্যাল মেডিসিন এবং চর্ম ও যৌন রোগ) অন্যত্র সরিয়ে আলাদা ব্লক প্রস্তুত করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে চমেক হাসপাতালে। সে হিসেবে হাসপাতালের মূল প্রবেশ পথে (নিচতলার ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত) বাম পাশের পুরো ব্লকটি করোনা ব্লক হিসেবে নির্ধারণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই অংশের অবজারভেশন সেলে আগে থেকেই ৩০টি শয্যা বসানো আছে। যেখানে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই অবজারভেশন সেলকে বর্তমানে ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করেছে হাসপাতাল প্রশাসন। আর করোনা পজিটিভ রোগীদের জন্য রেড জোন প্রস্তুত করা হয়েছে। রেড জোনে বর্তমানে ৭৩টি শয্যা রয়েছে। এছাড়া ২০টি কেবিনও রাখা হয়েছে করোনা আক্রান্তদের জন্য।

বাড়ছে আইসিইউ শয্যা : করোনা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর পর প্রাথমিক ভাবে ভেন্টিলেটরসহ ৫টি আইসিইউ শয্যা চালু করা হয় আলাদা ব্লকে। এখন আরো ৫টি বাড়িয়ে এই আইসিইউ শয্যা মোট ১০টিতে উন্নীত করা হচ্ছে। ভেন্টিলেটরসহ ১০টি আইসিইউ শয্যায় ক্রিটিক্যাল রোগীরা সেবা পাবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।

সংকট চিকিৎসকের : করোনা রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার পরিসর বাড়ানোর চেষ্টায় থাকলেও চিকিৎসকের সংকটের কথা জানিয়েছে চমেক হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর আগে মন্ত্রণালয়ের কাছে একশ জন চিকিৎসক চাওয়া হয়। কিন্তু পাওয়া যায় মাত্র ২৫ জন। এর মাঝে আবার মাতৃত্বজনিত ছুটি প্রয়োজন এমন চিকিৎসকও ছিলেন। সবমিলিয়ে ১৬ জন নতুন চিকিৎসককে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কম সংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে বর্তমানে রোগীর অত্যধিক চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসনকে। এর উপর শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে আইসিইউ শয্যা। নতুন করে চালু হচ্ছে ডায়ালাইসিস সেবাও।

সবমিলিয়ে আরো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক প্রয়োজনের কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরইমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে আরো ৪০ জন চিকিৎসক চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠিও দিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরে ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, আমরা প্রথমেই একশো চিকিৎসক চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু পেয়েছিলাম ২৫ জন। বর্তমানে রোগীর চাপ এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, নতুন করে ডায়ালাইসিস সেবা চালু, আইসিইউ শয্যা বাড়ানোসহ সার্বিক ভাবে জরুরি ভিত্তিতে আরো কিছু চিকিৎসক প্রয়োজন। এ জন্য আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কিছু চিকিৎসক পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার