চট্টগ্রামে উপজেলা নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার

Img

জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী মার্চে দেশব্যাপী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ধাপে ধাপে।

চট্টগ্রামে কোন কোন উপজেলায় নির্বাচন হবে সেই ব্যাপারে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনাও শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে উপজেলা রয়েছে ১৫টি।

সেগুলো হচ্ছে- মিরসরাই, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনীয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী। ১৫ উপজেলা পরিষদের মধ্যে আগামী মার্চে ১৪ উপজেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় শুধুমাত্র কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন মার্চে হবে না। এই উপজেলায় নির্বাচন হবে ২০২২ সালে।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। সংসদ সদস্যদের মতো পুরো উপজেলা জুড়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে এবার উৎসাহ-উদ্দীপনা বেশি।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মার্চের শুরুতে প্রথম দফা নির্বাচনে চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে; এমনটাই জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা।

জেলা নির্বাচন অফিস ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করেছে। প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজও শেষ। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি শেষে প্রশিক্ষণের দিন তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, ১৪টি উপজেলায় ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৮১ জন পুরুষ ও ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮২ জন নারী ভোটার রয়েছে। এসব উপজেলায় ভোটকেন্দ্র (সম্ভাব্য) রয়েছে ১ হাজার ২৯৫টি ও ভোটকক্ষ রয়েছে ৯ হাজার ৫১৮টি। ১৪টি উপজেলায় (অতিরিক্ত ৫ শতাংশসহ) ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন ৩১ হাজার ৩৪১ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ১১ হাজার ৩৫২ ও পোলিং কর্মকর্তা ১৯ হাজার ৯৮৭ জন।

জেলা নির্বাচন অফিসের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান বলেন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর নির্বাচন পাঁচ ধাপে সম্পন্ন হয়েছিল। এবারও সেভাবে হবে।’

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। প্রণয়ন শেষে ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দেশনা না দিলেও ভোটগ্রহণের কাজগুলো ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরই, ১৯ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কমিশন। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট ছয় ধাপে দেশের সব কটি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন উপজেলা নির্বাচন তো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করতে হবে। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা আর এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা। তাই আমরা মার্চ মাসটাকে ধার্য করেছি উপজেলা নির্বাচন করার জন্য।

আইন অনুযায়ী, কোনো উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্তির আগের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইসি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার