ঘুরে দাড়াচ্ছে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি, প্রবাসী কর্মীদের মাঝে স্বস্তি

Img

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রম বাজার খ্যাত মালয়েশিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে চমক সৃষ্টি করেছে। আর এই সফলতায় সকল অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ফিরে আসছে তাদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য। কোভিড-১৯ পেনডেমিক মোকাবেলায় ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক ধ্বস নামে। 

এসময় বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সব ধরনের শিল্প - কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষি উৎপাদন বিপণনসহ  যাবতীয় কার্যক্রম। এর ফলে অভিবাসী শ্রমিক সহ স্থানীয়রা হয়ে পড়েছিলেন খাদ্য সংকটে এবং হয়ে পড়েন দীর্ঘ মেয়াদী কর্মহীন। যা এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ও সরকারি বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করা হয়েছে যা যথেষ্ট ছিল না। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন ৩৫ বিলিয়ন রিংগিত এর আর্থিক প্রনোদনার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন।  যার সুফল জনগন হাতেনাতে পেতে শুরু করেছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির সূচক যখন উদ্ধগতি ঠিক এই সময় আরেক সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর)  জাতির উদ্দেশ্যেে এক ভাষনে প্রধানমন্ত্রী ২য় দফায় জাতীয় কেয়ারিং এইড (বিপিএন) ২.০ নামে ৭ বিলিয়ন রিংগিত এর একটি মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দিলেন। এই আর্থিক প্রনোদনা পূর্বের ন্যায় দেশটির সরকারি বেসরকারি অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন সহ প্রত্যেক নাগরিকদের মাথাপিছু ব্যয় হবে। 

মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় সংবাদ মাধ্যম "দ্য স্টার" একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, আলহামদুলিল্লাহ প্রধানমন্ত্রী ৭ বিলিয়ন বরাদ্দের পর এখন আমাদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার প্রকৃত সময় হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়,  এখন  আমাদের কারোরই কারো কাছে হাত পাততে হবে না। এবারের অর্থিক প্রনোদনার বিষয়টি পূর্বের প্রকল্পের চেয়ে সহজতর করা হয়েছে। যা দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক মাথাপিছু উপভোগ করতে পারবেন।

কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা "বারনামা" এক প্রতিবেদনে বলেছিল টানা লকডাউনের কারণে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি এতটা ধ্বস নেমেছিল যে আজ থেকে ২২ বছর আগে এমন টা হয়েছিল। এর মধ্যে আর কখনও এই পরিস্থিতি দেখেনি দেশটির জনগণ। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রনোদনা দেশের নাগরিকদের মাথা পিছু ব্যয় হলেও অভিবাসীরা কর্মীরা সরাসরি পাবেন না।

তবে আশার কথা হলো সরকারি বেসরকারি খাতের উন্নয়নে এই প্রনোদনা ব্যয় হওয়ার কারনে লকডাউনে কর্মহীন অভিবাসীদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশটিতে দিন দিন শ্রমিক সংকট তীব্র হচ্ছে।

 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার