ঘুরে আসুন কুমিল্লায় গোলাপ গ্রামে

Img

লাল গোলাপ যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক, তেমনি আরেকটি বিষয়ের জানান দেয়—‘ভালোবাসি’! লাল গোলাপে ভালোবাসা প্রকাশ পায়, আমাদের ধারণা এমনই। ভালোবাসা দিবস যদি গোলাপ ফুলের গ্রামে কাটানো যায়, তাহলে কেমন হয়? এমন দিনে এর চেয়ে ভালো জায়গা খুব কমই আছে।

গ্রামটা কুমিল্লার খুব কাছেই। গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। পথের ধার ঘেঁষে অসংখ্য গোলাপের বাগান। যত দূর চোখ যাবে, শুধু লাল গোলাপের সমারোহ। মাঝে মাঝে কিছু সাদা গোলাপ, গ্লাডিওলাস, জারবেরার বাগানও চোখে পড়ে। প্রিয়জনের হাত ধরে যেতে যেতে মনে হবে, আপনাদের পদাচরণ ভালোবাসার রাজ্যে!

এরমধ্যে একটা টিপস দেই, দুটি রঙের গোলাপ একই সঙ্গে দিতে পারেন আপনার প্রিয়জনকে। আপনি যদি লাল ও সাদা গোলাপ একই সঙ্গে দিতে চান, তার মানে দাঁড়াবে—‘প্রিয়জনের সঙ্গে আপনার একতা’। লাল আর হলুদ গোলাপ বোঝাবে—‘তোমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি’। লাল ছাড়া অন্যান্য গোলাপ কম চোখে পড়লেও খুঁজে নিন। কথায় আছে না? ভালোবাসার মানুষের জন্য সব করা যায়!

কুমিল্লায় বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুল চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। এ জেলার উৎপাদিত গোলাপের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই বাজারে এর চাহিদাও বেশি।

গেল কয়েক বছর ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ফুল চাষ করে কৃষকরা সাফল্য পাচ্ছিল না। তাই গেল কয়েক বছর জেলার হোমনা, মুরাদনগর, তিতাস, সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় গোলাপ চাষ শুরু হলেও সাফল্য আসেনি। তাই মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে এই চাষ।

তবে সম্প্রতি এই ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার কৃষক চারু মিয়া। মাটি উর্বর হওয়ায় ফলনও ভালো হচ্ছে। আশা জাগাচ্ছে আশাপাশের কৃষকদের।

বেশ কয়েক বছর ধরে তিনটি জমির ৩০ শতাংশ জমিতে গোলাপ চাষে লাভবান হচ্ছেন চারু মিয়া। নানা জাতের গোলাপ ফুটছে তার জমিতে।

চারু মিয়ার এই গোলাপ কুমিল্লা জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। শুরুতে শখের বশে হলেও লাভ হওয়ায় এখন তা পেশায় পরিণত হয়েছে।

চারু মিয়ার গোলাপ চাষ দেখে বিস্মিত স্থানীয় কৃষকরা। তারা তার সাফল্যের গল্প বলে বেড়ান এলাকা জুড়ে। তার ব্যবসায় ব্যাপক সাফল্যে গর্বিত তারাও।

চারু মিয়া বলেন, গোলাপ চাষ লাভজনক ও চাহিদা থাকার কারণে এ চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এতে কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর আরো আন্তরিক হবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী জানান, কুমিল্লা জেলার জমি উর্বর হওয়ায় এখানে সব ধরনের ফসল ফলে। তবে ফুলের খেতে এই প্রথম সাফল্য পাওয়া গেছে। আর তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আরও সহায়তা দেয়ার কথা জানান তিনি।
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার