গাণিতিক হারে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম

Img

গাণিতিক হারে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অন্যান্য অপরাধ তুলনামূলকভাবে কমলেও ঠিক উল্টো রথে ছুটছে সাইবার অপরাধীরা। কার্যত লকডাউনের মধ্যেই বেড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক অপরাধ বহুগুণ। চলছে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের হিড়িক। এমন পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধীদের রাশ টানতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ড. ফয়সাল কামাল চৌধুরী বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে লোকজন ঘরে বন্দী থাকার কারণে হাতে রয়েছে অফুরন্ত সময়। কেউ কেউ এটাকে অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি হ্যাকিং, সাইবার বুলিং, গুজব রটানোসহ নানা ধরনের সাইবার ক্রাইম সংঘটিত করছে। তাই করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সাইবার ক্রাইম বেড়েছে।

এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সরকারের।’ তিনি বলেন, ‘এ সময় অনলাইন বেচাকেনা বেড়েছে বহুগুণ। লোকজন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন করছে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এটাকে পুঁজি করে অপরাধে জড়িত হয়েছে কেউ কেউ। তাই এ সময় প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক ক্রাইম বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাভাবিকভাবে। তাই সাধারণ লোকজনের অনলাইন কেনাকাটায় আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার শওকত আলী বলেন, ‘করোনার প্রভাবে অন্যান্য অপরাধ কমলেও সাইবার ক্রাইমে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি। স্বাভাবিক সময়ের মতোই সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ পাচ্ছি আমরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ জানা যায়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অন্যান্য অপরাধ তুলনামূলক কমলেও ঠিক আগের মতোই চলছে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ। এরই মধ্যে করোনা নিয়ে গুজব রটনা, করোনার কথিত ভ্যাকসিনের কথা বলে প্রতারণা, সহিংস উগ্রবাদ, সাইবার বুলিং, মিথ্যা সংবাদ প্রচারসহ এ-সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ফেসবুক, ইমো,  হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের হয়রানির ঘটনা।

এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ফেসবুক আইডি হ্যাক, ভুয়া আইডি তৈরি, ব্ল্যাকমেইলিং, ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস, কুৎসা রটানোর মতো ঘটনা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন ইফতেখার মোহাম্মদ আদনান, এ বি এম রেজা, কামরুল হাসান নামে তিন ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে করোনাভাইরাস মুক্তির ওষুধ বিক্রির ঘোষণা দেওয়ায় মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয় মনসুর আলী নামে এক যুবককে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানিত ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করায় গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন হাবিব খান, দিদার আশরাফী, রনিসহ একাধিক ব্যক্তি। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ড. ফয়সাল কামাল চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের ৫১.১৩ শতাংশই হচ্ছে নারী। ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ নারীর বয়স হচ্ছে ৩০ বছরের কম।

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধীদের ৯০ শতাংশেরই বয়স হচ্ছে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের মতে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের লকডাউনের মধ্যে সাইবার অপরাধ বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু মানুষ ঘরবন্দী থাকার কারণে অপরাধগুলো প্রকাশ্যে আসছে না। অনেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ঘর থেকে বের হতে সাহস করছে না। সাইবার ক্রাইমের সবগুলো অপরাধের যদি অভিযোগ আসত, তাহলে বোঝা যেত বর্তমান পরিস্থিতি কতটুকু ভয়াবহ।

পূর্ববর্তী সংবাদ

মন্ত্রী-এমপির দায়িত্ব পালন করেছি, চুরি-চামারি করি নাই: সোহেল তাজ

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ বলেছেন, আমি মন্ত্রী-এমপির দায়িত্ব পালন করেছি সততা নিষ্ঠার সাথে। আমি চুরি-চামারি করি নাই। সবকিছু টাকা-পয়সা দিয়ে হয় না। আমি টাকা-পয়সা দিতে পারবো না। নিজেকে চলতেই আমার হিমশিম খেতে হয় মাঝে মাঝে। লোক দেখানোর জন্য এসে কিছু ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার মানুষ নই। এটা দয়া করে আমার কাছ থেকে আশা করবেন না। কিছু পাওয়ার জন্য আমি লোক দেখানো কাজ করতে পারি না পারবো না, সরি। আমার যতটা সাধ্য আছে, অন্তর থেকে যেটা করতে পারবো উপকার করতে পারি সেটা আমি করবো।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে সোহেল তাজ  এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, 
আমার কিছু দরকার নাই। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সন্তান। আমার বাবা জীবন দিয়ে গেছেন এ দেশের জন্য। 
আমার মা এদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের জন্য আন্দোলন করে সারাজীবন দিয়ে গেছেন। আমাদের পরিবার সারাজীবন ত্যাগ করেছে মানুষের জন্য। 

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে সোহেল তাজ বলেন, প্রাণঘাতী এই মহামারী শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সুযোগসন্ধানী দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই করোনাভাইরাস আমাদের জন্য অভিশাপ। আমাদের দেশের গরীব মানুষদের ওপর এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে। এখানে দুর্নীতি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ক্যান্সার। দুর্নীতি যেন না হয়, সে দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। 

করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, টেস্টিং যত বাড়বে, আক্রান্তের নাম্বার তত বাড়তে থাকবে। দেখা যাবে বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষের করোনা হয়ে গেছে। কিন্তু আপনারা নার্ভাস হবেন না। ভয় পাবেন না। স্বাস্থ্য ঠিক রাখেন। খাদ্যাভাস ঠিক রাখেন। খাদ্য হয়ত কিছুটা ভেজাল আছে। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল। পুষ্টিকর খাবারে কিছু ভেজাল থাকলেও কিছু পুষ্টি পাবেন। আপনারা অসহায় বোধ করবেন না। আপনারা সাহস হারাবেন না। যারা বয়স্ক ঝুঁকিপূর্ণ তাদেরকে সাবধানে রাখতে হবে।

করোনা সংকটে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে সোহেল তাজ বলেন, দয়া করে এই মুহুর্তে রাজনীতি টানবেন না। এখন থামুন। এটা মহামারী। দেশটাকে আগে বাঁচাই, তারপর রাজনীতির মাঠে এসে কাঁপাকাঁপি কইরেন। 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার