গাজর খান সুস্থ থাকুন

Img

গাজর একটি মূলজ সবজি, বৈজ্ঞানিক নাম ডকাশ ক্যারোটা। গাজর যেমন পুষ্টিকর, তেমনি শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। কারো কারো শরীরের বৃদ্ধি থেমে গেলে, শারীরিক ক্ষমতা কমে গেলে, খাদ্যদ্রব্য হজম হতে দেরি হলে, ত্বকের রোগ দেখা দিলে গাজর খুব উপকারী ভূমিকা পালন করে। শরীরে পুষ্টি ও বিকাশে গাজরের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণ সম্বন্ধে জেনে নেয়া যাক। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে গাজরে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান গুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। নিয়মিত গাজর খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলোন ক্যান্সার ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এর বিটা ক্যারোটিন আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বকের ক্যান্সারও প্রতিরোধ হয়। বয়স ধরে রাখে গাজরে অ্যান্টি এজিং উপাদান থাকায় এর ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাবার তালিকায় গাজর রাখলে শরীরের বয়সজনিত ছাপ কম হয়। বয়সের কারণে কোষের ক্ষতি রোধ করতে গাজরের ভূমিকা অনেক। ইনফেকশন কমায় কোনো যায়গা কেটে ছিঁড়ে গেলে অনেক সময় ইনফেকশন হয়ে যায়। কাটা ছেঁড়া জনিত ইনফেকশন এড়াতে গাজর খুবই কার্যকরী। তাই ইনফেকশন এড়াতে কাঁটা ছেঁড়া জায়গায় গাজর ব্লেন্ড করে লাগিয়ে নিন। চোখের দৃষ্টি বাড়ায় গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ চোখের সমস্যা দূর করতে সহায়ক। চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে গাজর খুবই উপকারী। ওজন কমায় গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষুধা লাগলে স্ন্যাকস না খেয়ে একটি বা দুটি গাজর খেয়ে নিলে পেটও ভরে আবার বেশি ক্যালোরীও যোগ হয় না। শিশুর টনিক শিশুদের জন্য গাজরের জুস টনিকের কাজ করে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গাজরের জুসের সঙ্গে মধু ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক গ্লাস করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে যাবে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

চেক নিয়ে প্রতারিত হলে কি করবেন

ধরা যাক, আপনি এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকা পান। লোকটির কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি এক লাখ টাকার একটি চেক দিলেন। আপনি চেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলেন।

কিন্তু ব্যাংক ‘অপর্যাপ্ত ফান্ড’ দেখিয়ে চেকটি ডিজঅনার করল। আপনি কয়েক দিন পর আবারও টাকা তুলতে গেলেন; কিন্তু এবারও বলা হলো, যিনি আপনাকে চেকটি ইস্যু করেছেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। আপনি মহাচিন্তায় পড়ে গেলেন। চেকদাতার কাছে বারবার চেয়েও আর লাভ হলো না। এখন আপনি কী করবেন? কিন্তু এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। প্রচলিত আইনেই আছে উপায়।

পাওনাদারের কাছে যদি এমন চেকের মাধ্যমে প্রতারিত হন, তাহলে চাইলেই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। এই অপরাধের বিচারের জন্য হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ নামের একটি আইন রয়েছে। এই আইনের ১৩৮ নম্বর ধারায় আপনি প্রতারক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিকার পেতে পারেন।

কীভাবে চাইবেন প্রতিকার: মনে রাখতে হবে, চেক ডিজঅনারের ক্ষেত্রে কিছু সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আর প্রতিকার পাওয়া যায় না। প্রথমেই যেটি জেনে রাখতে হবে তা হলো, যেকোনো চেক ইস্যু করার তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ব্যাংকে উপস্থাপন না করলে চেকটির কার্যকারিতা আর থাকে না।

এ ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে, চেকটি ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাস সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ক্যাশ করার জন্য জমা দিতে হবে। চেকটি ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হওয়ার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের জন্য চেক প্রদানকারীকে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে হবে।

প্রথমে চেষ্টা করতে হবে নোটিশটি ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি চেক প্রদানকারীর ওপর জারি করতে। যদি এ ক্ষেত্রে সম্ভব না হয়, তাঁর বাসস্থান বা যে স্থানে তিনি সর্বশেষ কাজ করেছেন, সেই ঠিকানায় প্রাপ্তি স্বীকার রসিদসহ (এডি) ডাকযোগে নোটিশ পাঠাতে হবে।

উল্লেখ্য, নোটিশটি ফেরত না এলেও নোটিশটি চেক প্রদানকারীর ওপর সঠিকভাবে জারি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। নোটিশ জারির তৃতীয় পদ্ধতিটি হচ্ছে, একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় পত্রিকায় নোটিশটি প্রকাশ করা। ওই নোটিশে চেক প্রদানকারীকে টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিতে হবে।

এ সময়ের মধ্যে চেক প্রদানকারী টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে এ সময় পার হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। কোনোভাবেই নোটিশ প্রেরণ না করে সরাসরি মামলা করা যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে এই আইনের ১৩৮ ধারার পাশাপাশি ১৪০ ধারা উল্লেখ করে মামলা করতে হবে।

এ ধরনের নোটিশ জারি ও মামলা করার জন্য আপনি একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে পারেন।

কোথায় করতে হয় মামলা: এ ধরনের অভিযোগ নালিশি মামলা বা সিআর মামলা হিসেবে মহানগর এলাকা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অথবা মহানগরের বাইরে হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করতে হবে।

চেকটি যে ব্যাংকে ডিজঅনার হয়েছে, সেই ব্যাংকের এলাকা যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে, সেই আদালতে করতে হবে। তবে এ অপরাধের মূল বিচার হবে দায়রা আদালতে। দায়রা আদালত ইচ্ছা করলে যুগ্ম দায়রা আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠাতে পারেন। যা দাখিল করতে হয়: মামলা করার সময় আদালতে মূল চেক, ডিজঅনারের রসিদ, আইনি নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তির কপি, পোস্টাল রসিদ, প্রাপ্তি রসিদ আদালতে প্রদর্শন করতে হবে। এসবের ফটোকপি ফিরিস্তি আকারে মামলার আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হয়।মনে রাখতে হবে, একবার চেক ডিজঅনার হলে একবার অপরাধ সংঘটিত হয়। কোনো কারণে যদি প্রথমবার চেকটি ডিজঅনার হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ না পাঠাতে পারেন, তাহলে দ্বিতীয়বার চেকটি ডিজঅনার করাতে পারেন। এভাবে একাধিকবার ডিজঅনার করিয়ে নোটিশ পাঠাতে পারেন।

তবে একবার চেক ডিজঅনার হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করা হলে এক অপরাধের জন্য বারবার মামলা করা যাবে না।

শাস্তি: চেক ডিজঅনার অপরাধের শাস্তি হচ্ছে, এক বছর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা চেকে বর্ণিত অর্থের তিন গুণ পরিমাণ অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ আছে। তবে আপিল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, চেকে উল্লেখিত টাকার কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ যে আদালত দণ্ড প্রদান করেছেন, সেই আদালতে জমা দিতে হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার