গলা ভেঙে গেলে করণীয়

Img

স্বরভঙ্গ হওয়া বা গলার স্বর ভেঙে যাওয়া বেশ প্রচলিত সমস্যা। গলা বসা বা ভাঙাকে অনেকেই খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। কিন্তু এই গলা ভাঙাই অনেক সময় মারাত্মক কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায়ও অনেক সময় গলার স্বর বসে যায়। 

এছাড়া গলার কোনো অস্ত্রোপচারে ভোকাল কর্ড বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গলা বসে যেতে পারে। অনেক সময় ঠান্ডা থেকে গলা বসে যায় বা কন্ঠস্বর ফ্যাসফ্যাসে হয়ে যায়। এটাকে খুবই সাধারণ স্বাস্থ্য-সমস্যা মনে হলেও আদতে তা না-ও হতে পারে।

ঘুম থেকে উঠেই দেখলেন কণ্ঠনালী দিয়ে কোনও আওয়াজ আসছে না। ফ্যাসফ্যাস শব্দ। যেটাই বলার চেষ্টা করছেন কষ্ট হচ্ছে। গলার স্বরের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রথমেই কথা বলা কমিয়ে দিতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গলা বসা বা কণ্ঠস্বর ভাঙার কারণ হলো শ্বাসনালিতে সংক্রমণ। এমনকি সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা বললেও গলার স্বর ভাঙতে পারে।

এর চিকিৎসা সঠিকভাবে না হলে বিভিন্ন জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত গলার স্বর বসা বা ভাঙার প্রাথমিক কারণ হলো শ্বাসনালীতে ইনফেকশান বা সংক্রমণ। ইনফেকশান বা অন্য কোনও কারণে যদি গলার স্বর ভাঙে তবে তা বিশ্রাম ও সামান্য ওষুধ ব্যবহার করলে ভাল হয়ে যায়।

গলার সাধারণ ব্যথা বা গলা ভাঙার জন্য ভাল একটি ওষুধ হলো গরম বাষ্প। ফুটন্ত পানির বাষ্প যদি মুখ ও গলা দিয়ে টানা হয় তবে গলার উপকার হয়। দৈনিক অন্তত দশ মিনিট এ ভাবে গরম ভাপ নিতে হবে। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এ ছাড়া গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা হলে তাতেও উপকার পাওয়া যায়।

তবে এমন সব চিকিৎসাও অনেক সময় কাজে দেয় না। দিনের পর দিন ধরে গলার স্বর বসে থাকে। গলা দিয়ে কথা বের হতে চায় না। স্বর বদলে যায়। ফ্যাস ফ্যাসে আওয়াজ হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিকে সব সময় বিপদের লক্ষণ হিসেবে ধরতে হবে। গলা একবার বসে যাওয়ার পর চার সপ্তাহ বড় জোর ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেরি করা যায়। চিকিৎসকরা মনে করেন কারো গলা ভাঙা যদি ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তবে তাকে দেরি না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এ ধরনের স্বর বসে যাওয়া অনেক সময়ই মারাত্মক রোগের লক্ষণ হয়ে আসে।

তবে প্রাথমিকভাবে ঘরেই নিতে পারেন কিছু চিকিৎসা

>>লবণপানি দিয়ে গড়গড়া করা কার্যকর একটা পদ্ধতি। দিনে অন্তত চারবার লবণপানি দিয়ে গড়গড়া করা যেতে পারে।

>>গলা ভাঙা উপশমে ভালো আরেকটি পদ্ধতি হলো গরম বাষ্প টানা। ফুটন্ত পানির বাষ্প যদি দৈনিক অন্তত ১০ মিনিট মুখ ও গলা দিয়ে টানা হয়, তবে উপকার হবে।

>>হালকা গরম লেবুপানি ও আদা বেশ কার্যকর। শুকনো আদায় ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উপাদান রয়েছে, যা গলা বসে যাওয়ায় উপকার করে।

>>যারা কন্ঠস্বর বেশি ব্যবহার করে তাদের কন্ঠস্বরকে বিশ্রাম দিতে হবে।

গলা একবার বসে যাওয়ার পর চার থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়। সাধারণভাবে ৫০ বছরের ওপরের যেকোনো রোগীর গলা যদি কোনো কারণ ছাড়া বসে যায়, তবে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।

ধূমপায়ীরাও বিপদের মধ্যে আছেন। গলা বসার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত, ওজন হ্রাস বা অন্যান্য উপসর্গ যদি থাকে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার