খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির জুলাই মাসের সভা আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অবৈধ হাউজিং ব্যবসার মাধ্যমে ভূমিদস্যুতা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা দূরীকরণ, মহাসড়কে অবৈধ যানচলাচল বন্ধ,মরফিন-প্যাথেড্রিন জাতীয় ঔষধের অপব্যবহার রোধসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে। ব্যাটারি চালিত রিক্সার কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে, তাই এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এসময় তিনি মাদকের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক না রাখতে সবাইকে পরামর্শ দেন।

সভায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ জানান, মহাসড়ক হতে অবৈধ যান অপসারণে জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা প্রয়োজন। সকল মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করতে পারলে মোটরসাইকেল চুরি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, খুলনা নগরীর বহুতল ভবনসমূহের অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই করতে পরিচালিত পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে পরামর্শ প্রদান করে সকল ভবন মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এসময় বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসির মাধ্যমে মরফিন, প্যাথেড্রিনের অবৈধ হস্তান্তর ও ব্যবহার প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি করতে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন বিভাগকে সভা হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, কৃষি জমির উপর আবাসন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যাবে না। জেলা কালেক্টরের অনুমতি ব্যতীত কোন জমির ভূমিরূপ পরিবর্তনের সুযোগ নেই। শিল্প-কারখানাসমূহ শিল্প এলাকাতেই করতে হবে। অবৈধ হাউজিং ব্যবসা ও ভূমিদস্যুতা বন্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

খুলনা জেলা অধিক্ষেত্র গত জুন মাসে চুরি ৫টি, খুন ২টি, অস্ত্র আইন ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১০টি, নারী ও শিশু পাচার ১টি, মাদকদ্রব্য ৭১টি এবং অন্যান্য আইনে ৮২টি সহ মোট ১৭২টি মামলা দায়ের হয়েছে। জেলা অধিক্ষেত্র মে ২০১৯ মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৯৩টি। খুলনা মহানগরী অধিক্ষেত্রে গত মাসের তুলনায় ২১টি মামলা কমেছে।

খুলনা মহানগরী অধিক্ষেত্র জুন মাসে চুরি ৬টি, খুন ১টি, ধর্ষণ ৫টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১১টি, মাদকদ্রব্য ১১৫টি এবং অন্যান্য আইনে ৪৫টি সহ মোট ১৮৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। খুলনা মহানগরী অধিক্ষেত্র মে ২০১৯ মাসেও এ সংখ্যা ছিল ১৮৩টি।