খুলনা আধুনিক রেলস্টেশনে টিকেট বিক্রিতে জিম্মিদশা চলছেই

Img

খুলনা আধুনিক রেলস্টেশনে টিকেট বিক্রির জন্য ছয়টি কাউন্টার রয়েছে। জনবল অভাবের কারণ দেখিয়ে চালু করা হয়নি সবগুলো। পুরাতন স্টেশনের ন্যায় ট্রেনের টিকেট বিক্রিতে এখনও জিম্মিদশা। টিকেট বিক্রি শুরু করার দু’একদিন পর থেকে কাউন্টারে টিকেট না থাকলেও ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তেও বিক্রি করা হয় টিকেট। টিকেট না পেয়ে এখনও টিকেট আগের মতো ব্লক করে রাখে স্টেশনের ওই চক্রটি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, খুলনা রেল স্টেশনে অগ্রিম টিকেট বিক্রির সময় দীর্ঘ লাইন শেষ করে কাউন্টারে আসতেই টিকেট শেষ এই কথা শোনার অভিজ্ঞতা যাত্রীদের কম না। একদিকে কাউন্টারে বিড়ম্বনা আর অন্যদিকে টিকেট না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সংখ্যাও বেশ ভালো। বেশি টাকা দিলে ওই টিকেটই পাওয়া যায় অন্যদের কাছ থেকে। যাত্রী জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে টিকেট বিক্রির চক্রের সাথে স্টেশনের কর্মরতদের চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ করার মতো টিকেট বুকিং ইনচার্জ ও মাস্টার কারও দেখা মেলে না স্টেশনে। আগস্ট মাসে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন দুদকের তিনটা টিম।

টিকেট অটোব্লক করে যাত্রীদের কাছে বিক্রি না করার প্রমাণও পান। সতর্ক করে সকল অটোব্লক মুক্ত করে যাত্রীদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশনা দেন। টিকেটের বুকিং ইনচার্জ মেহেদী হাসানকে বরখাস্তের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেয় দুদক টিম। দুদকের অভিযানে পরে অভিযান পরিচালনা করেন খুলনা জেলা প্রশাসন। সেখানে অগ্রিম টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে তৌহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক ধরা পড়লে তাকে কারাদ- দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে তাকে জরিমানাও করা হয়।

দৌলতপুর থেকে টিকেট কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, এখনও অগ্রিম এসি বাথ বা এসি চেয়ার টিকেট নেওয়ার জন্য ভোর থেকেই লাইন দিতে হয়। এখনও জিম্মিদশা কটেনি। টিকিট না পাওয়ার বেদনা যায়নি যাত্রীদের।

রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে টিকেট কিনতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, টিকেট কাটতে আসতে হয় এক সপ্তাহ আগে। তা না হলে আগের মতোই টিকেট পাওয়া যায় না।

মিয়াপাড়া থেকে টিকেট কিনতে আসা সাফিয়া খাতুন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শুরুর দুই একদিন আগে গেলে কোনোভাবেই টিকেট পাওয়া যায় না। আবার যেদিন পরীক্ষার্থীরা ট্রেনে যায় সেদিন অনেক আসনের যাত্রীদের কোনো টিকেট থাকে না।

বাইতিপাড়া এলাকার সঙ্গীতা রাণী বলেন, টিকেট কিনতে যত ঝামেলা তত সহজ। কেননা ট্রেন ছাড়ার দিন অনেক টিকেট থাকে কিন্তু ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে কিনতে পারে না। ওই টিকেটগুলো আগে বিক্রি করলে সরকারের অনেক রাজস্ব হয়।

টিকেটের বুকিং ইনচার্জ মেহেদী হাসানকে সব সময় পাওয়া না গেলেও সার্ভার রুমে টিকেটের দায়িত্বে থাকা শাহরিয়ার বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সবাই টিকেট চায়। এছাড়া নির্দেশ ছাড়া কোনো কিছু করা যায় না।
খুলনা স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, টিকেট বুকিং ইনচার্জের বরখাস্তের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু তার পদোন্নতি হয়েছে। এক্ষেত্রে তার কিছু করার নেই।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার