খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লিয়াকত আলী অর্থ বানিজ্যে বেশামাল হয়ে পড়েছে

Img

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লিয়াকত আলী অর্থ বানিজ্যে বেশামাল হয়ে পড়েছে। পুলিশের এ কর্তার প্রতি মাসে আয় অর্ধলক্ষাধিক টাকা। এটিএসআই লিয়াকত আলীকে এলাকার অনেকেই রামের করাত আখ্যায়িত করে অবৈধ অর্থবানিজ্য সহ তার অশুভ দৌরাত্ম্য বন্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
একাধিক সুত্রে ও ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে জানাযায়, এটিএসআই লিয়াকত আলী কপিলমুনিতে আসার পর তার ভাগ্যের আমুল পরিবর্তণ ঘটেছে। কপিলমুনি যোগদানের পর নেভী থেকে বেনসন সিগারেটে উন্নতি লাভ হয়েছে। শুধু তাই নয়, যোগদানের সময় তার পোষাকের হাল ছিল একেবারেই নরমল ও অতি সাধারণ। মোবাইলটাও ছিল বাটন হ্যান্ডসেট। এখন তার সব কিছুতেই যেন উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। অতি শটতামীর কারিগর এটিএসআই লিয়াকত কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির প্রবীন সদস্য অর্থাৎ ( এক নাগাড়ে ১০ বছরের অধিককাল অবস্থানকারী) কনস্টেবল, এলাকার অপরাধীদের আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত শাহিন এর সাথে জুটি বেঁধে শুরু করেন অবৈধ পন্থায় অর্থবানিজ্য। ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলামের অগচরে তাদের অবৈধ অর্থবানিজ্য এক ভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলার সার্বিক উন্নয়নে ফাঁড়ি ইনচার্জ এর দুর্দর্শিতায় সুনাম অর্জন করলেও এটিএসআই লিয়াকত ও কনষ্টেবল শাহিন এর ক্ষুধার্ত কাতাতুর উন্মাদনায় বেশামাল ও অর্থলিপ্সায় তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে সার্বিক ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। যারফলে প্রশাসনের এ কর্তার কর্মকান্ড নিয়ে সম্প্রতি ভুক্তভোগী সহ এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জনবান্ধবের পরিবর্তে জনরাক্ষসে আস্থা হারানোর পথে চলছে তাদের অবৈধ মিশন। অভিযোগ উঠেছে ফাঁড়ির জনবান্ধব পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলামের সততা ও ভদ্রতার সুযোগ নিয়েই মুলত তারই অজান্তে বিভিন্ন পন্থায় এলাকার নিরীহ মানুষের কাছ থেকে এক প্রকার জোর করে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। কোন বিষয় এলাকার কেউ ফাঁড়িতে অভিযোগ করার পর ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম শান্তিপুর্ণ ভাবে মিমাংসা করিয়ে দেয়ার পর শুরু হয় লিয়াকত মিশন। মিমাংসা বাবদ দুপক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায়ে নেমে পড়েন এটিএসআই লিয়াকত, কনষ্টেবল শাহিন ও কতিপয় দালাল। শুরু করে দেনদরবার ও দরকষাকষি। এক পর্যায় বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেন চাহিদানুযায়ী টাকা। সম্প্রতি, তার টাকা হাতানোর কৌশল হিসাবে বেরিয়ে পড়েছে অনেক কাহিনী। জানাযায়, গাঁজা বা মাদক এর মিথ্যা অজুহাতে প্রথমে নিরীহদের আটক করা হয়। এরপর কেস নরমল করতে দাবী করা হয় টাকা এবং তা চাহিদানুযায়ী আদায় করা হয়। পুলিশের এ কর্তার বিরুদ্ধে এও অভিযোগ রয়েছে, কাছে কোন কিছু না পেলেও নিরীহ ব্যাক্তিদের আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে লোকাপে আটকে রাখা হয়। সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয় তথ্য প্রদানে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এবং বলা হয় এখনও ঠিক হয়নি, স্যার বাইরে আছেন, তিনিই বলবেন ইত্যাদী। অথচ তখনও লোকাপে আটকে থাকা মানুষগুলো আকুতি জানাতে থাকে আমি নিরীহ নিরাপরাধী। লিয়াকত স্যার আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। আমার কাছে কিছুই ছিল না বলে জানান তারা। কিছু না পেলেও ধরা হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নে সাংবাদিকরা জেনে গেলে নিরীহ ঐ ব্যাক্তির কপাল মন্দ হয়ে যায়। ছাড়া যাবে না বলে বাইরে থেকে গাঁজা বা ইয়াবা সংগ্রহ করে দায়মুক্তির জন্য নুন্যতম মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়ার মত ঘটনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এখানেও রয়েছে বানিজ্য।আটক ব্যাক্তি বা তাদের পরিবারকে বলা হয় নরমল করতে টাকা লাগবে। তা নাহলে বেশী মাদক দিলে জামিন হবে না। কি করবেন বোঝেন! কেস নরমল করতে আসামী প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করছেন তিনি। শেষমেষ দোষী না হলেও মাদক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে তাকে জেলে যেতে হয়। অভিযোগ রয়েছে নিরীহ এক ব্যাক্তিকে মাদকের মিথ্যা অযুহাতে ধরে আনার পর এমপি মহোদয়ের সুপারিশে ছাড়া পেলেও তাকে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। এনিয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ অনেক সময় বিব্রতবোধ করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সহ সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান মোটরযান আটক করে গাড়ী প্রতি ১ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করে ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গাড়ী মালিকরা। তার এ সব অর্থবানিজ্য নিয়ে যেন কাউকে কিছু না জানানো হয় সে ব্যাপারেও কড়া হুসিয়ারী দিয়ে থাকেন ভুক্তভোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, তার এক শালিশে ফাঁড়ি ইনচার্জ কোন টাকা না নিলেও এটিএসআই লিয়াকত তার কাছ থেকে আদায় করেন ৩ হাজার টাকা। বিষয়টি জানতে ফোন কল করলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন ভাই oc সাহেবের বিষয় তো! তখন ওসি সাহেবের দোহায় দিয়ে অবৈধ বৈতরনী পার করার চেষ্টা করে থাকেন। এ ব্যাপারে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয় গুলা আমার নলেজের বাইরে। কেউ তো অভিযোগও করেননা, বুঝবো কেমনে? আর ভুলের উর্ধে কেউ নয়। ত্রুটি বিচ্যুতি হইতেই পারে। তবে বিষয়টি আমি খেয়াল রাখব। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সহ এলাকাবাসী।

পূর্ববর্তী সংবাদ

যথাযোগ্য মর্যাদায় স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালিত

স্পেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

স্থানীয় সময় বুধবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মাধ্যমে শোক দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।

সকাল ১১টায় দূতাবাস হলরুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার। এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতীকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন রাষ্ট্রদূত। 

মিনিস্টার ও দূতালয় প্রধান এম হারুণ আল রাশিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনান কমার্সিয়াল কাউন্সিলর  মোহাম্মদ নাভিদ শাফিউল্লাহ ও প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, আজকে কেবল শোকাভিভূত হওয়ার দিন নয়; শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার দিন। ৭১ এবং ৭৫ এর সেই সহোদররা, উত্তরসূরীরা এখনো বাংলাদেশে আছে। যার দরুণ এখনো আমরা জঙ্গিবাদ দেখি, ভালো আন্দোলনকে বিপদগামী করার অপচেষ্টা দেখি।

রাষ্ট্রদূত সেইসব ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে প্রবাসীদেরকেও সচেতন থাকার  আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শক্তি ধারণ করে আমরা যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারি- সেই প্রত্যয় আমাদের নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, আওয়ামী লীগ স্পেন শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১৫ আগষ্ঠে বঙ্গবন্ধুসহ নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের অন্যতম স্পেনে অবস্থানরত শরিফুল হক ডালিমকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ও স্পেন সরকারের মধ্যে কোন সমঝোতা কিংবা কোন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার কোন মন্তব্য না করলেও দূতালয় প্রধান এম হারুণ আল রাশিদ বলেন, দূতাবাস এ ব্যাপারে অবগত আছে এবং এ ব্যাপারে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার