আজ ৬ মে ২০১৯ সেহরি খাওয়ার মধ্যদিয়ে মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজা। প্রতি বছরের ন্যায় মানবতার সুমহান আদর্শ নিয়ে মুসলমানদের দরবারে হাজির হয় পবিত্র কুরআন ঘোষিত শ্রেষ্ঠ মাস পবিত্র রমজান। রমজানের প্রথম রোজা নিয়ে তাই আগ্রহ থাকে প্রতিটি মুসলমানের। কবে থেকে শুরু রমজান মাস, চাঁদ দেখা গিয়েছে কিনা, কবে সেহরি খাবো, ইফতারের সময় কখন এইসব নিয়ে সবার মাঝে থাকে কৌতুহল! অন্যরকম একটা আবেগ এবং ভালোবাসায় জড়ানো থাকে রমজানের প্রথম রোজা টি।

যদিও রমজানের প্রতিটি রোজাই মুসলমানদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ তবুও ১১ মাস অপেক্ষার পর রমজানের প্রথম রোজা, প্রথম সেহরি, প্রথম ইফতার, প্রথম তারাবির নামাজ থাকে সকল মুসলমানদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে সকলেই চায় অন্তত এই দিনটি পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে অতিবাহিত করতে। বিশেষ করে ইফতারের সময়টা পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে এক টেবিলে বসে ইফতার করার আনন্দ এবং এতটাই আবেগময় যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

প্রতিবারের মতো এবারও সৌদি আরবের একদিন পর থেকে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে রমজানের প্রথম রোজা তবে দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বিশেষ করে মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঐ দেশের সময় অনুযায়ী আজ সেহরি খাওয়ার মধ্যদিয়ে রমজানের প্রথম রোজা রেখেছে।

ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা সেহরি গ্রহণ করেছে। অনেকেই দেখা গিয়েছে রমজানের প্রথম রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরি গ্রহণ করে আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে স্ট্যাটাস লিখেছেন।

এদিকে অনেক প্রবাসীদের স্ট্যাটাস গুলোতে লক্ষ্য করা যায় একটি চাপা কষ্ট! আজ তারা পরিবারের সদস্যদের অনেক বেশি মিস করছে। অনেকেই ইচ্ছে প্রকাশ করে লিখেছেন, আজ প্রথম রমজান যদি পরিবারের সাথে কাটাতে পারতাম!

কেউ কেউ স্মৃতিচারণ করছে অতীতের রমজানের দিনগুলোর কথা, মায়ের হাতের তৈরি বেগুনী, আলুর চপ, পেঁয়াজু, সেই পরিবারের সকলে মিলে একসাথে ইফতারের কথা।

শারীরিক প্রচুর পরিশ্রমের কাজ করলেও প্রবাসীরা এই দিনে কোন ভাবে রোজা ভঙ্গ করে না। কেউ কেউ কাজে মাঝে সময় পেলে কুরআন তেলাওয়াত করেন আমার স্বদেশী কাউকে ফেলে একসাথে জামাত করে নামাজ আদায় করেন।

এই দিনে প্রবাসীরা দূরে থাকলেও যোগাযোগ মাধ্যম গুলো যেমন, মোবাইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, ভাইবার এই সব ব্যবহার করে পরিবারের সাথে যুক্ত থাকে। এই দিনে তারা অত্যন্ত আবেগী হয়ে পড়ে কিন্তু পরিবারের কাছে তা খুব কমই প্রকাশ পায়। উপরন্তু রমজান উপলক্ষে পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর খবর নেন এবং আশ্বস্ত করেন সব কিছুর ব্যবস্থা করবেন।

এই দিকে রমজানের রোজার শেষে আসবে ঈদ, ঈদে পরিবারের খরচ এবং প্রয়োজন বৃদ্ধি পাবে, সে কথা মাথায় রেখে এখন থেকে প্রবাসীরা আরো বেশি কাজ করা শুরু করেন। কাজই তাদের সুখ, পরিবারের আনন্দই তাদের আনন্দ, শুধু নিজের কাছে গোপন রেখে দেয় কিছু ইচ্ছে, "এই রমজানটি ও পরিবারের সাথে কাটাতে পারলাম না"!