ক্যাম্পাসে ফেরার প্রতীক্ষায়

Img

প্রকৃতিকে পাঠদানে যুক্ত করার অনন্য এক দৃষ্টান্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকায় আপন মহিমায় বেড়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের গাছপালা , বেড়েছে পাখপাখালি ও বণ্য প্রাণীর সংখ্যা। সবুজ পাতা আর রঙ-বেরঙের ফুলে ভরে উঠেছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। সেই সৌন্দর্য আরো স্নিগ্ধ ও মনোরম হয়েছে বর্ষা শেষে শরতের ছোঁয়ায়। 

শিক্ষার্থী শূন্য ক্যাম্পাসে নেই ব্যস্ততা ও ছোটাছুটি এই সুযোগে ক্যাম্পাস প্রকৃতি পেয়েছে স্বস্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতি রক্ষায় বড় অবদান রেখে আসছে শিক্ষার্থীরাই। তারা যখন ক্যাম্পাসে ফিরবে তখন নিশ্চই এই বদলে যাওয়া সৌন্দর্য তাদের মনে যোগাবে বাড়তি ভালো লাগাবে। তাই ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন ইসলাম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তৃণা বলেন,

দীর্ঘ দুই বছরের অলসতাময় সময়ের অবসান হতে চলেছে। বাড়িতে বসে বসে প্রিয় ক্যাম্পাসের সেই স্মৃতিময় বটতলা, টিএসসি তে আড্ডা, হল, বন্ধু বান্ধব সবাইকেই খুব মিস করছি। আগামী ১১ অক্টোবর ক্যাম্পাস খুলবে খবরটি শুনে খুবই আনন্দিত হয়েছি। করোনার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে খুব শীঘ্রই প্রিয় শিক্ষা অঙ্গনে ফিরতে চাই। সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি অবলম্বন করে আবারো ক্যাম্পাস আড্ডায় মেতে উঠতে চাই। 

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম চঞ্চল বলেন,

ক্লাসরুমে বসে যে মজাটুকু পেতাম অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় সেটা স্বল্পতুল্য মনে হতো। তাছাড়া ক্যাম্পাস নামক জায়গাটা অনেক আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির জায়গা। তাই ক্যাম্পাসের সেই সুন্দর দিনগুলো মিস করছি,মিস করছি সেই সুন্দর মুহূর্তগুলো। স্বশরীরে আবারো ক্লাস শুরু হলে ক্যাম্পাসের সেই চঞ্চলতার দিনগুলো আবারো ফিরে পাবো। ফাঁকা ক্যাম্পাস যেমন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, আমরাও অধীর আগ্রহে বসে আছি কবে আসবে সেই দিন!

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সঙ্গীতা কর্মকার তিথি বলেন,

ক্যাম্পাস খোলার শব্দে চারদিক মুখরিত। নতুনভাবে নতুন রূপে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফেরার অনুভূতিটাই অন্যরকম আনন্দের হবে হয়তো। দীর্ঘ ১৮ মাস পর আবারও ক্যাম্পাসে ফিরবো ভেবেই অনেক আনন্দ বোধ করছি। দীর্ঘ ছুটির পর আবারও ক্যাম্পাস ফেরার আনন্দ গত দেড় বছরের ক্যাম্পাস লাইফ হারিয়ে ফেলার মলিনতাকে দূর করে দিয়েছে। আবারো বন্ধুদের সাথে হৈ হুল্লোড় আড্ডা গানে মেতে ওঠার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সুবীর সরকার শাওন বলেন,

হঠাৎ করে সবকিছু যেন থমকে দাঁড়ায় অজানা এক ভাইরাস আতংকে। করোনা ভাইরাসের কারণে বঞ্চিত ছিলাম ক্লাসরুমের সেই চিরচেনা আড্ডাময় ব্যস্ত থাকা দিনগুলো থেকে। যাইহোক অবশেষে ক্যাম্পাস খোলার ঘোষণা এসেছে। সবকিছু ফিরে পাবো ভেবেই মনের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাসবোধ কাজ করছে। আবারও বন্ধুদের সাথে ৭০০ একরের চিরচেনা প্রিয় জায়গা গুলোতে আড্ডায় মেতে উঠবো ভেবেই বারবার পুলকিত হয়ে উঠছে মনের আঙ্গিনা ।আবারও ফিরে পাবো ক্লাস, পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকা দিনগুলো। 

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী 

তাফহীম বুশরা বলেন," ক্যাম্পাসের রানিং স্টুডেন্ট হয়েও এই দীর্ঘবিরতির পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার অনুভুতিটা ঠিক যেন স্কুল জীবন ছেড়ে আসার পর আবার স্কুলে ফিরে যাবার মতই। সুদীর্ঘ প্রতিক্ষার পর প্রার্থনা যেন পূর্নতা পেল। করোনা কালীন সময়ে স্থবিরতা কাটিয়ে জীবন যেন ফিরে পেল নতুন গতিময়তা। "অসাধারণ অনুভূতি, এতো দিন পর চিরচেনা ক্যাম্পাসে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি, চিরচেনা মুখগুলো আবার দেখা হবে। হবে আড্ডা গান রাত জেগে ক্যাম্পাস ঘোরা। 

ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন হোসেন বলেন,

কবে যে আবার ফিরবো সেই চিরচেনা, সেই লাল ইটের তৈরি আবাসভূমিতে। বাসায় আসা যেন মনে হয় সহস্র বছর আগে। আমার মতো অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ ক্যাম্পাসে ফেরার প্রতিক্ষায়। এ যেন এক সুমহান প্রত্যাবর্তন। আবার ফিরতে চাই ক্যাম্পাসে, বসতে চাই মুক্তমঞ্চের দর্শক সারিতে, শুনতে চাই অতিথি পাখিদের গুঞ্জন, খেতে চাই হরেক রকমের ভর্তা, মিলতে চাই অমিয় আনন্দের ঝর্ণাধারায়।

ইমন ইসলাম
লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার