ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ

Img

ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দুটো জিনিস প্রয়োজন-কারসিনোজেন (প্রত্যক্ষভাবে দায়ী ক্যানসার সৃষ্টিকারী বস্তু) ও কো-কারসিনোজেন (পরোক্ষভাবে দায়ী ক্যানসার সৃষ্টিকারী বস্তু ও অবস্থা)। এগুলোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রয়োগের সময় ও পুনরাবৃত্তি।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও যে বিষয়গুলো সম্পৃক্ত সেগুলো হলো-ব্যক্তিগত ক্যানসার প্রতিরোধ শক্তি, খাদ্যে অভাব বা আধিক্য, তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা অধিক সূর্য রশ্মির প্রতিফলন, ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা, ভাইরাসের মাধ্যমে কোষের ক্ষতিসাধন ইত্যাদি। ক্যানসার কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয়। জীবাণুর মাধ্যমেও উৎপন্ন হয় না।

ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, হরমোন, তেজস্ক্রিয়তা, পেশা, ধূমপান, মদ্যপান, ঘর্ষণজনিত আঘাত, প্রজনন (বহু সন্তান প্রসব), বিকৃত যৌনাচার (সমকামিতা, অপরিণত বয়সে যৌনাচার), অধিক চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, বায়ু ও পানিদূষণ, বর্ণগত, জীবনযাপন পদ্ধতি, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত প্রভাব, প্যারাসাইট ও ভাইরাস সাধারণত ক্যানসার সৃষ্টির কারণ। এর প্রায় ৯০ শতাংশই এড়িয়ে চলা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুলাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। ক্যানসারের সার্বিক প্রতিরোধ, সত্ব¡র ও সঠিক রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে এ সংখ্যা অনেক কমানো সম্ভব। ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ : যন্ত্রণা নয়। স্তনের কোনো অংশে যন্ত্রণাবিহীন লাম্প (নুড়ির মতো ছোট মাংসপি) স্তন ক্যানসারের গোড়ার লক্ষণ। সঙ্গে বৃন্ত থেকে রক্তমেশা দেহরস বের হতে পারে। ঘা নয়। মুখের মধ্যে ব্যথাহীন সাদা ছোপ ছোপ দাগই মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ।

খেয়াল রাখতে হবে, অন্তর্বাসে বিন্দুর মতো রক্তের দাগ লাগছে কিনা। মাসিকের হিসেবে বাইরে যোনি থেকে রক্তরণ হলেও সাবধান হতে হবে। জরায়ু ও জরায়ুমুখের ক্যানসারে এগুলোই প্রাথমিক উপসর্গ। বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট নয়, মাসখানেক ধরে কাশি না কমলে ফুসফুসের ক্যানসার বলে সন্দেহ করতে হবে। শরীরের কোনো অংশে ব্যথাবিহীন মাংসপি- যদি আকারে বাড়ে, সতর্ক হতে হবে তখনই। শরীরের যে কোনো ছিদ্রপথের রক্তরণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আচমকা ওজন কমতে থাকা, খিদে চলে যাওয়া ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হওয়া সন্দেহের চোখে দেখাই ভালো।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার