কোয়ারেন্টিন থেকে পালালো যুবক

বিষয়: করোনাভাইরাস
Img

বান্দরবান সদর হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়েছে আবসার (৩১) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাহমুদুর রহমান মাহিন নামে এক কিশোরকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার রাতেই ওই কিশোরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে জেলা জুড়ে। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রমতে, চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে বান্দববান আসা আবসার (৩১) নামে এক যুবককে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এসময় তার অভিভাবক হিসেবে বান্দরবানের এক স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান মাহিনের নাম ও মোবাইল নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে ওই যুবক।

খবর পেয়ে যুবকের সাথে দেখা করতে হাসপাতালে যান কিশোর। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালের স্টাফরা খবর নিতে গিয়ে দেখে কোয়ারেন্টিনের ওই যুবক রুমে নেই। এ সময় অভিভাবক মাহিনকে ফোন দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তখন কিশোর স্বেচ্ছাসেবী ছেলেটি জানিয়ে দেয় যে সে কিছুই জানে না। উল্টো ওই যুবকের জন্য নিজের বাসা থেকে কাপড়-চোপড় নিয়ে হাসপাতালে এসেছে।

পরে সেও এসে দেখে ওই যুবক হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে খবর দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়।

এতে তদন্তে ওই যুবককে পালিয়ে যেতে অভিভাবক মাহিনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কোয়ারেন্টিন থেকে ওই যুবককে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অপরাধে মাহিনকে ৩ মাসের জেল ও নগদ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

বান্দরবান হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন বিভাগের প্রধান ডা. প্রত্যুষ পল বলেন, “হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন থেকে এক যুবক পালিয়ে গেছে। বিকালে আনা যুবকটি রাতেই সবার চোখ এড়িয়ে পালিয়ে যায়।পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা তার অভিভাবক হিসেবে মাহিনকে বিষয়টি জানালে সেও জানে না বললো। তারপর আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। পরে প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাবিবুল হাসান বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোয়ারেন্টিন থেকে রোগী পালিয়ে যাওয়ার খবর দেয়। হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বলে রোগী পালানের সঙ্গে এই ছেলেটি জড়িত। তাকে আমরা হাতেনাতে আটক করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে কোয়ারেন্টিন থেকে যুবক পালানোর ঘটনায় লকডাউনের শুরু থেকে কর্মহীন অসহায় মানুষের সেবায় স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করা কিশোর মাহিনকে হামপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজের দায় এড়ানোর জন্য ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় তুলছেন তারা। মাহিনের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

পৌরসভার মেয়র মো. ইসলাম বেবী বলেন, “বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। যুবক পালিয়েছে, সেটির দায় একজন স্বেচ্ছাসেবী কিশোরের ওপর দেওয়া হলো শুনলাম।”

ঘটনাটি কতটুকু সত্য সেটিও যাচাই করা দরকার ছিল বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে বাইরের জেলা থেকে কেউ এলে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বান্দরবান সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত অনেকেই কোয়ারেন্টিনে ছিল যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বান্দরবান হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এটি নতুন নয়।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার